অনিয়ম : মেয়র খোকার অনিয়ম তদন্তে কমিটির সুপারিশ

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ মেয়র বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার সময়কার কার্যক্রম ও অনিয়ম তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি। এ ছাড়া মেয়রবিহীন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা ‘কে কী করলেন’ তারও তদন্ত হবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে দশম জাতীয় সংসদের ‘স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত’ স্থায়ী কমিটির সপ্তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা প্রায় নয় বছর দায়িত্ব পালন করেন। এই বছরের ১১ নভেম্বর ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধনী) বিল ২০১১’ পাসের মাধ্যমে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন ভেঙে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ নামের দুটি সিটি করপোরেশনে বিভক্ত হয়। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল এ দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। অন্তবর্তীকালীন সময়ে দুই সিটি করপোরেশনে সরকার নিয়োজিত প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের ওপর প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন খাতে লক্ষ্যমাত্রানুযায়ী অর্থ আদায় না হওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি, করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের পর থেকে তাঁদের কার্যক্রমের দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি এবং সাবেক মেয়র সাদেক হোসেনের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর একটি কমিটি- মোট তিনটি কমিটি গঠনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে স্থায়ী কমিটি। কমিটি গঠনের পর আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন স্থায়ী কমিটিতে উপস্থাপন করার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে শেষে কমিটির সদস্য মো. রহমত আলী বলেন, ‘আজকের বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি প্রশাসকেরা কী করলেন না করলেন সেসব তদন্ত করে দেখবে। এ ছাড়া তদন্ত কমিটি সিটি করপোরেশনে যেসব দুর্নীতির মামলা দুদকে আছে, সে মামলাগুলোকে তদন্ত করে দেখবে।’

কমিটি সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে রাজশাহী ওয়াসা সম্পর্কে আলোচনা হয়। এ সময় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত কার্যকর না করার অভিযোগে রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি ২৪৮ অনুযায়ী মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করারও তাগিদ দেওয়া হয় কমিটির পক্ষ থেকে।

বৈঠকে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলজিইডিতে বিভিন্ন ধরনের তিন লাখ তিন হাজার কিলোমিটার সড়ক আছে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব। তাই কমিটি নতুন সড়ক নির্মাণের চেয়ে পুরনো সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের ওপর অগ্রাধিকার প্রদানের সুপারিশ করে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. মশিউর রহমান রাঙ্গা, মো. রহমত আলী, রাজি উদ্দিন আহমেদ, সাবের হোসেন চৌধুরী, এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং ফজলে হোসেন বাদশা অংশ নেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব এম এ কাদের সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এনটিভি

Comments are closed.