প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

সিরাজদিখান উপজেলা
মোহাম্মদ সেলিম: সিরাজদিখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রমরমা বদলী বানিজ্যের কারণে সাধারণ শিক্ষকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে অর্ধলাখ টাকা। অন্য উপজেলা থেকে আসা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকদের ২দিনের মধ্যে বদলী করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্য জেলা থেকে এই উপজেলায় বদলী হয়ে আসার জন্য নো অবজেকশন পত্রে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হয়।

এদিকে ইতোমধ্যে চরখাসকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলীর জন্য অনেকেই ধর্না দিচ্ছে। এর দাম উঠেছে এক লাখ টাকার উপরে। এর চেয়ে যে বেশি দিবে সে এখানে বদলী হওয়ার সুভাগ্য অর্জন করবে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সিরাজদিখান উপজেলায় প্রাথমিক বিভাগে দপ্তরি নিয়োগে ঘটেছে তুঘলুগি কান্ড। ২০১৪ সালের মার্চ মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দপ্তরিদের বেতনের থোক বরাদ্দ আসে। এ উপজেলায় ৩৫জন দপ্তরি কাজ করে। তাদের বেতনের ৫ মাসের টাকা হাতিয়ে নেয় এ শিক্ষা কর্মকর্তা। এখানে দপ্তরিদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এই বিষয়ে দপ্তরিরা মুন্সীগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষকে জানিয়েছে।

সিরাজদিখান উপজেলায় ২০১৪ সালের সমাপনী পরীক্ষার প্রশংসাপত্র ১০ টাকা বিক্রি করার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষকদের বাধ্য করেন বলে অভিযোগ উঠে। আর সেই টাকা হাতিয়ে নেয়। যেখানে সরকার বিনা মূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে, সেখানে এই শিক্ষা কর্মকর্তা সরকার বিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে উঠেছেন।

শিক্ষা অধিদপ্তরের বিধান না থাকা সত্বেও নিজের আখের গুছাতে শিক্ষা কর্মকর্তা ২০১৪ সালে এই উপজেলার আওয়াতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে ৮ টাকা করে সিলেবাস বিক্রি করেছেন। সরকার থেকে শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে বই পেলেও এখাতে তাদের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এই সিলেবাস শিক্ষার্থীদের মাঝে বিক্রি করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ভয়ভীতিসহ বিভাগীয় মামলার ভয় দেখায়। এবার এই সিলেবাসের দাম ধরা হয়েছে ১০ টাকা।

আন্ত:ক্রীড়া বার্ষিক প্রতিযোগিতায় এই উপজেলায় সরকারের নির্ধারিত বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এই খরচের টাকা শিক্ষা কর্মকর্তা নানা ভাউচারে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ উপজেলা চেয়ারম্যানের আর্থিক সাহায্যে এখানে এই খেলাধুলা চালানো হয়।

মডেল পরীক্ষা ও সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিন্মমানের কাগজ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

এই অফিসে জনবল পর্যাপ্ত রয়েছে। কিন্তু ফুরসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আসাদুজ্জামানকে দীর্ঘদিন ধরে এখানে রাখা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষক সংকটের কারণে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষা বিঘ্ন হচ্ছে। তবে অভিযোগ উঠেছে আসাদুজামানকে ব্যবহার করে এই শিক্ষা কর্মকর্তা এখানে দুর্নীতি করছেন।

২০১৪ সালের সমাপনী পরীক্ষায় ২৩টি কেন্দ্রের জন্য নামে মাত্র কয়েকজন প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব দেয়া হয়। আর বাকি কাজ সহকারী শিক্ষকদের দিয়ে চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানে ১শ’২৩জন প্রধান শিক্ষক থাকা সত্বেও তিনি যোগ্য শিক্ষককের সংকটে ভুগছেন।

১২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসএলআইপি’র আওয়াতায় দুই কিস্তিতে ৩০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। এর বিপরিতে ২ হাজার টাকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামতের কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য সেইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বঞ্চিত হয়েছে।

বিক্রমপুর সংবাদ

Comments are closed.