ধর্মান্তরীত নারী টঙ্গীবাড়ীতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার

রুবি (২২)। হিন্দু ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে নাম রেখেছেন মরিয়ম। শুক্রবার রাতে বিচার প্রার্থী হয়ে এক বুক আসা নিয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় এসেছেন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ণ তার। টঙ্গীবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র হাসপাতালে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। ডাক্তার তার আঘাতের চিহ্ণে রক্ত জমাট দেখে বলেছেন বাহির হতে ব্যাথা নাশক ইনজেকশেন কিনে আনতে। তার জমাট স্থানে অপরেশন করে রক্ত বাহির করে সেলাই করতে হবে তাই ব্যাথা নাশক ইনজেকশন প্রয়োজন।

একদিকে ব্যাথা নাশক ইনজেকশন কিনার মতো হাতে টাকা নেই তার অন্যদিকে শরীরের আঘাতের ক্ষতের চেয়ে হৃদয়ের ক্ষতটা তার বেশি প্রকট। হবেই না কেন এক প্রতারক যুবককে ভালবেসে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে আতীœয় স্বজন সব হারিয়ে এখোন সে একা। যাওয়ার কোন স্থান নেই তার।

কান্নায় ভেঙ্গে পরে মরিয়ম জানান, আমি মুসলমান হয়ে যাওয়ায় আত্মীয়-স্বজনরা তাদের বাসায় আমায় আর ঠাই দিবো না। আমি এখোন কোথায় যাবো? নারায়নগঞ্জের ভারাটিয়া বাসা হতে শুক্রবার রাতে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কাঠাদিয়া গ্রামের প্রতারক স্বামী আরিফের বাসায় গিয়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিচারের আশায় ঘুরে বেরাচেছন। দু-চোখে তার ভয় আরিফ এলাকার কিছু সন্ত্রাসী নিয়ে তাকে হুমকি দিয়েছে এখনি টঙ্গীবাড়ী হতে চলে না গেলে এলাকার ছেলে-পেলে দিয়ে তার দেহটাকে লন্ড-ভন্ড করে খাওয়াবে। টঙ্গীবাড়ীতে এই প্রথম আশা তার। পরিচিতি কেউ নেই এখানে। কখন আবার হামলার শিকার হয় সে ভয়ে দিশেহারা সে।

মরিয়ম জানান, ঢাকার শ্যামপুর এলাকার শ্রী রামতার মেয়ে সে। আরিফ তাদের এলাকায় ব্যাবসা করতো। সেই সুত্রে তার সাথে আরিফের ২ বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। আরিফ মরিয়মকে বলে হিন্দ ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান ধর্ম গ্রহন করলে তাকে বিয়ে করবে সে। তার কথামতো ঢাকায় এক ইমামের কাছে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে রুবি।

পরে গত ১৯ মার্চ ২০১৪ইং তারিখে ঢাকা কোর্টে ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে আরিফের সাথে বিয়ে হয় মরিয়মের। বিয়ের পর আরিফ তাকে নারায়নগঞ্জ জেলার কাশিপুর এলাকার একটি ভারাটিয়া বাসায় তুলে। সেখানেই বসবাস করে আসছিলো তারা। এর মধ্যে মরিয়ম গর্ভবর্তী হয়ে পরলে আরিফ তাকে পেটের বাচ্চা নষ্ট করে ফেলতে বলে। পেটের বাচ্চা নষ্ট না করায় গত ১ মাস আগে হঠাৎ একদিন আরিফ মরিয়মের বাসায় গিয়ে তার তলপেটে আঘাত করলে তার রক্তক্ষরন হয়।

পরে মরিয়ম ডাক্তার এর কাছে গেলে ডাক্তার জানায় তার সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। মরিয়ম আরো জানান, ৩ মাস যাবৎ কোন ভরন পোষনের টাকা দেয়না আরিফ। না খেয়ে অদাহারে অনাহারে কাশিপুরের ভারাটিয়া বাসায় একা বসবাস করছে সে।

এর মধ্যে মরিয়ম জানতে পারে আরিফ পূর্বে আরেকটি বিয়ে করেছে। সে ঘরে একটি ছেলেও রয়েছে তার। সেটা জানতে পেরেও চেয়েছিলো আরিফের দ্বিতীয় স্ত্রী হয়ে থাকতে। কিন্তু আরিফ তাকে কোন ভরন পোষন না দেওয়ায় এবং খোঁজ-খবর না নেওয়ায় এসেছিলো তার পৈতিক বাড়ি টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কাঠাদিয়া গ্রামে। এই আসাটাই তার অপরাধ ।এসে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলো সে।

মরিয়ম আরো জানান, আরিফের বাবা আজিজ বেপারী মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক অফিসের পিওন। তাই হুঙ্কার করে আরিফ তাকে মেরে ঘারে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে বলেছে তুই কিছুই করতে পারবিনা আমার বিরুদ্ধে মামলা করলেও পুলিশ আমায় ধরবেনা।

এ ব্যাপারে আরিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে, সে মরিয়মকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে জানায়, ওকে আমি ৩ মাস আগে তালাক দিয়ে দিয়েছি। তালাক কার্যকর হয়ে কোর্টে আছে। এর আগেও বিয়ে করার ব্যাপারে সে জানায়, তাতে অসুবিধা কি। আমার সাথে বনিবনা না হওয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি।

বিক্রমপুর চিত্র

Comments are closed.