শাহিনের বিকল্প মিরকাদিম পৌরসভায় কোন প্রার্থী নেই

মোহাম্মদ সেলিম: প্রাচীন বানিজ্যিক বন্দর মিরকাদিম। রিকাবীবাজার ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় রূপান্তরের কারণে এর অবকাঠামো সময়পোযুগি করে ঢেলে সাজাতে হচ্ছে। এর ফলে নানা রকমের সমস্যার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে এই পৌরসভার কাজ। পৌরসভার নির্বাচন অনেকটা দূরে। কিন্তু এখানকার নির্বাচন নিয়ে ধীরগতিতে এর প্রচার প্রচারণা চলছে। এর দৌড়ে কেউ কখনো এগিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ পিছনেও পড়ছে। এর হিসাব নিকাশ কষছে এখানকার অধিবাসীরা। বয়সে কম হলেও বুদ্ধি ও অর্থবৃত্তে শক্তিশালী বর্তমান মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহিন। এখানে তার বিকল্প কোন ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া য়ায়নি। তিনি সরাসরি কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নন। নেই কোন পদ ও পদবী। তারপরেও তিনি এখানে বেশ অবস্থানে রয়েছেন। আওয়ামীলীগ ও বিএনপির পদ পদবীধারীরা তাকে টেক্কা দিতে তার ধারেকাছে আসতে পাড়ছে না।

আগামী নির্বাচনে পৌর আ’লীগের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান বাসুকে দল থেকে কেউ কেউ প্রার্থী হিসেবে চাচ্ছে। তবে এখানকার নির্বাচনে বিপুল অর্থের ব্যয়ের কারণে তাকে পরিবর্তন করা হতে পারে বলে অনেকেই ধারণা করছে।

সেক্ষেত্রে এখানে নতুন মুখ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কালাম মনসুর এখানে আ’লীগের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

ইতোমধ্যে তার পক্ষের কিছু বিল বোর্ড টানানো হয়েছে। এ বিল বোর্ডগুলো শাহিনের বিল বোর্ডের চেয়েও ছোট।

এ প্রতিযোগিতায় বাস্তবে তিনি শাহিনের চেয়ে একটু পিছনে রয়েছেন বলে অনেকেই ধারণা করছে। এদিকে মনসুর বিশেষ দিনে অনেকের মাঝে কাপড় বিতরণ করেছেন। যা নেতাদের পুরনো পদ্ধতিতে।

এর ফলে প্রকৃত ব্যক্তিরা এটা পেয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে অনেকেই শাহিনের দৌড়ের সাথে পিছিয়ে রয়েছে বলে কথা চাউর হচ্ছে। তবে আ’লীগ থেকে গ্রীণ সিগনাল না থাকায় মনসুর ধীরগতিতে এখানে মুভ করছে। এখনি এখানে বড় অংকের পুঁজি বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে না বলে তার সমর্থকরা মনে করছে। তবে আ’লীগ নেতারা এককভাবে মনসুরকে সমর্থন করে না।

এক্ষেত্রে এখানে আ’লীগ থেকে অন্য কেউ প্রার্থী হতে পারে। তিনি হচ্ছেন ব্যবসায়ি শহিদুল। তাকে প্রার্থী করে আ’লীগ এখানে চমক সৃষ্ঠি করতে চায়। শাহিনের সমর্থকদের দাবি শহিদুল এখানে শাহিনের বিপরিতে প্রার্থী হলে নির্বাচনে জোড় লড়াই হবে।

অন্যরা প্রার্থী হলে নির্বাচনী লড়াই তেমন জমবে না বলে অনেকেই মনে করছে। মহাজোট থেকে প্রার্থী হতে চান রেনু। মিরকাদিমের প্রথম মেয়র রেনু।

বিএনপি সরকারের সময় কোন দলীয় পরিচয় ছাড়াই সবাইকে পরাজিত করে রেনু সেই সময় বিজয়ী হন। বিজয়ের পর রেনু বিএনপি শিবিরে বেশ উঠাবসা করেন। পরে মহাজোট সরকার গঠন করলে তিনি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপিতে ফিরে যান। এতোকিছুর পরেও তাকে নিয়ে মহাজোট কিছু ভাবছে না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মনসুর পৌর বিএনপির ঘনিষ্ঠ আত্বীয়। সে প্রার্থী হলে বিএনপি এখানে শক্তিশালী প্রার্থী নাও দিতে পারে বলে কথা চাউর হচ্ছে। তবে মনসুর আ’লীগ থেকে প্রার্থী না হলে পৌর বিএনপির সভাপতির ভাই মিজান এখানে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

বিক্রমপুর সংবাদ

Comments are closed.