কোটি টাকার গ্যাস চুরির মহা উৎসব!

মুন্সীগঞ্জে গ্যাস চুরির মহা উৎসব চলছে। গ্যাস চুরির কারণে মুন্সীগঞ্জে কোন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রতিকারে কেউ এগিয়ে আসছে না। গ্যাসের লাইন আছে কিন্তু কোন গ্যাস নাই। এভাবেই চলছে মুন্সীগঞ্জের গ্যাস ব্যবস্থা। গভীর রাতে কিছু গ্যাস আসে। আর ভোরে গ্যাস চলে যায়। গ্যাস ব্যবহার না করেও গ্রাহকদের গ্যাস বিল দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস না পাওয়ায় গ্যাসের গ্রাহকদের লাড়কি দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। এতে ক্ষুব্দ হচ্ছে এখানকার মানুষ। এর ফলে তাদের বাড়তি পয়সা গুনতে হচ্ছে। গ্যাসের দাবীতে এখানে নানা ধরণের সংগঠন গড়ে উঠেছে। কিন্তু কেউ কোন সুফল পাচ্ছে না।

মুন্সীগঞ্জের গ্যাস স্টেশনে যেসব কর্মকর্তা রয়েছেন তাদের সাথে গ্যাস চুরির বিষয়টি জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া এসব কর্মকর্তারা একই স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত রয়েছেন। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে এদের রদবদল জরুরী। এ কারণে এখানে চুরির বিষয়টি বড় আকারে দানা বেধেছে। এই অফিসের কর্মচারীদের যোগসাজসে অনেকেই গ্যাস লাইনের সাথে অবৈধ কম্প্রেসার বসিয়ে গ্যাস টেনে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তারা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বাসা বাড়ীতে গ্যাস সংযোগ দিতে চিকন পাইপে মুন্সীগঞ্জে গ্যাস আসে। নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর হয়ে গ্যাসের পাইপ মুন্সীগঞ্জে আনা হয়। কিন্তু এ পথে নানা রকমের ভারী শিল্প প্রতিষ্টান গড়ে উঠে। আর এই চিকন পাইপ থেকে এই সব প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়। এই সময় গ্যাস সংকট দেখা দিলে গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানান, চিকন পাইপের কারণে এখানে গ্যাসের চাপ কম থাকায় মুন্সীগঞ্জে কোন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় লেখালেখি হলে গত মহাজোট সরকার বড় পাইপের সম্প্রসারণের কাজ করে দেয়। কিন্তু এতে মুন্সীগঞ্জের কোন কাজে আসে না। বরং এই পথের শিল্পেরই লাভ হয়। শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা লাইন রাখা প্রয়োজন। আর বাসা বাড়িতেও আলাদা লাইন থাকার দরকার। গাড়ীতে গ্যাসের সিলিন্ডার থাকার কারণে এখানকার শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা কারখানার ভেতর অবৈধ গাড়ীর গ্যাস লাইন চালু করে এখানকার গ্যাস সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া এই পথে অনেক ছোট ছোট কারখানা গড়ে উঠেছে। এখানে অনেক অবৈধ সংযোগ রয়েছে বলে অনেকেই ধারণা করছে। এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এখানে অবৈধ সংযোগ দিয়ে গ্যাস অফিসের কর্মচারীরা টাকার কুমির বনে গেছেন। প্রতিমাসে এখান থেকে কোটি টাকার গ্যাস চুরি হয়ে যাচ্ছে। গ্যাস অফিসের কোন কর্তা জেলা উন্নয়ন সভায় আসেন না। যার কারণে এখানে এ বিষয়ে কোন কিছুই জানতে পারে না। এই বিষয়ে তাদের কোন জবাবদিহিতা না থাকায় তারা পাগলা ঘোড়ার মতো দৌড়াচ্ছে। এই ঘোড়া এখনই থামানোর প্রয়োজন।

বিক্রমপুর সংবাদ

Comments are closed.