নিখোঁজের চার বছর পর বাবা-মাকে খুজে পেল ১১ বছরের মনিকা

আরিফ হোসেন: চার বছর পূর্বে বাবা কবির হোসেন ও মা হাসি বেগমের সাথে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার লস্তি মানিকা থেকে ঢাকার শাহজাহানপুর গাজীর বস্তি এলাকায় চাচার বাসায় বেড়াতে এসে নিখোজ হয় আট বছরের শিশু মনিকা। ওই দিন সন্ধ্যায় মগবাজার এলাকায় ছেলের বাসা থেকে হাটতে বের হয়ে শ্রীনগর কামারখোলা এলাকার শহিদা বেগম (৭০) শিশুটিকে কান্না-কাটি করতে দেখে বাসায় নিয়ে আসেন।

ঐসময় শিশুটি তার বাবা মা ও গ্রামের নাম বলতে পারতো। শহিদা বেগমের ছেলেরা শিশুটিকে তার বাবা মায়ের কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য মগবাজার ও আশ-পাশের এলাকায় মাইকিং করেন। কিন্তু তার পরিবারের কারো খোজ পাওয়া যায়নি। একসপ্তাহ পর শহিদা বেগম শিশু মনিকাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি শ্রীনগর উপজেলার কামার খোলা আসলে এলাকাবাসী শহিদা বেগমকে ছেলে ধরা সন্দেহে পুলিশে সোপর্দ করে।

থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরাও মনিকার বাবা-মায়ের সন্ধ্যান করে ব্যার্থ হয়। এর পর শিশুটিকে থানা-পুলিশ শহিদা বেগমের জিম্মায় দিয়ে দেয়। শহিদা বেগম দীর্ঘ চার বছর নাতনীর মমতায় মনিকাকে লালন পালন করেন। গত পরশু দিন শহিদা বেগমের প্রতিবেশী দোলন আক্তার (১৮) উপজেলা মহিলা সংস্থায় সেলাইয়ের কাজ শিখতে এসে পরিচয় মহিলা সংস্থার অফিস সহকারী তৌহিদুর রহমান মিজানের সাথে। আলাপ চারিতার এক পর্যায়ে মিজান জানান তার বাড়ী মেঘনা উপজেলার লস্তি মানিকা গ্রামে। গ্রামের নামটি শুনে তার প্রতিবেশী মনিকার কথা মনে পড়ে দোলনের।

পরে মনিকার কথা মিনাজকে জানানো পর মোবাইল ফোনে মনিকার বাবা-মায়ের সাথে যোগাযোগ হয়। আজ ুবুধবার বিকালে শ্রীনগর থানায় এসে হাজির হয় মনিকার বাবা-মা, শহিদা বেগম,মনিকা সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গ। বাবা-মাকে কাছে পেয়ে ঝাপটে ধরে মনিকা। চার বছর পর বাবা-মা ও মেয়ের মিলন দেখে অনেকেই চোখ মুছেন। শহিদা বেগম হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। তার পর আচলে মুখ চেপে বলেন, প্রতিদিন নামাজ পরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি তিনি যেন মনিকার বাবা-মায়ের সন্ধ্যান দেন। এখন মনিকা চলে যাওয়ায় কষ্ট হচ্ছে আবার ওকে বাবা-মায়ের কাছে ফেরত দিতে পেরে শান্তিও লাগছে।

Comments are closed.