একার নয়, অনন্য আজাদ সবার নিরাপত্তা চান

নিয়মিত পাচ্ছেন মৃত্যুর হুমকি। আলোচিত ৮৪ ব্লগারের তালিকায় রয়েছে তার নামও। তরুণ এ লেখক ও ব্লগারের মনে আজও জীবন্ত তার বাবার ভয়াবহ মৃত্যুর স্মৃতি। তবুও নিজের মত ও পথে অবিচল অনন্য আজাদ। জানালেন, ছোটবেলা থেকে ‘এত রক্ত’, ‘এত ভয়’ দেখেছেন যে, এখন এসবে ‘সমস্যা’ হয় না তার। নিজের পরিবার, আর আত্মীয়দের অনুরোধে অনেকটা ‘নীরব’ আছেন তিনি।

প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের ছেলে অনন্য আজাদ শুক্রবার ১২টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় জানান, তিনি নিজের একার নন, যারা হুমকি পেয়েছেন তাদের সবার নিরাপত্তা চান।

অনন্য বলেন, ‘অনেকের জীবন যেখানে হুমকির মুখে, সেখানে একার নিরাপত্তা চাই না। অনেক মানুষের নিরাপত্তা নাই। বাক স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাসী, তাদের জীবনের নিরাপত্তা নাই। একার দিয়ে কী হবে।’

গত কিছুদিন থেকে ’চুপচাপ’ আছেন বলেও জানান। এমনকি ফোনেও কথা বলছেন না কারও সঙ্গে। মামলার বিষয়েও তিনি সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান।

৮৪ জনের তালিকার বিষয়ে তিনি বলেন, যা বলার গার্ডিয়ানে বলেছি। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও বলেছি। নতুন করে কিছু বলতে চাই না।

উল্লেখ্য, এর আগে ব্রিটেনের ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকা বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশি ব্লগার নেমড অন হিটলিস্ট ওয়ার্নড : ইউ উইল বি নেকস্ট’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সেখানে বলা হয়, তিন সপ্তাহ আগে থেকে অনন্যকে তার ফেসবুক আইডিতে ক্রমাগত হত্যার হুমকি দিচ্ছে ‘জঙ্গিরা’। এতে বলা হয়, ‘ধর্মীয় মৌলবাদের’ সমালোচনা করায় এর আগে তিনজনকে হত্যা করা হয়। হুমকির পর অনন্য আজাদ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও প্রতিবেদন জানায়।

গার্ডিয়ান আরও উল্লেখ করে, অনন্য আজাদকে হত্যার হুমকি অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। কারণ তার বাবা ড. হুমায়ুন আজাদ ‘ধর্মীয় মৌলবাদীদের’ সমালোচনা করে ২০০৩ সালে ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ নামে একটি বই লেখেন। ওই বই প্রকাশের এক বছর পর তাকে রাস্তায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে জার্মানিতে তিনি মারা যান।

ড. হুমায়ুন আজাদের ছেলে অনন্য আজাদ বাবার ‘অনুসারী’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, তাকেও হত্যা করা হতে পারে। তিনিও ধর্মীয় উগ্রপন্থার ‘কট্টর সমালোচক’। অনন্য আজাদ গার্ডিয়ানকে বলেন, মার্চ মাসে ওয়াসিকুর রহমান বাবুকে হত্যার পর অনেকেই আমাকে লেখালেখি থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন।

‘এরপর তোমার পালা। সুতরাং সতর্ক থাকো’- এমন ভাষায় তাকে ফেসবুকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অনন্য গার্ডিয়ানকে জানান।

গার্ডিয়ান জানায়, অনন্য আজাদ ব্লগে নিয়মিত লেখালেখি করেন না। তিনি মূলত সামাজিকমাধ্যমে লেখালেখি করেন। অনন্য আজাদ গার্ডিয়ানকে বলেন, কেউ যদি ‘ধর্মীয় সংকীর্ণতা’ থেকে আমার লেখা বিচার করেন, তাহলেও আমি আমার লেখালেখি থেকে বিরত থাকব না।

তিনি বলেন, আমি হয়তো কম লেখালেখি করছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বিষয়ে জানতে চাইলে অনন্য আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি ক্রমাগত হত্যার হুমকি পেয়ে আসছি। তিন সপ্তাহ আগে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২২ মে দুপুরে একটি ফেসবুক আইডি থেকে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে সে আইডি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাংলা ট্রিবিউন

Comments are closed.