দিঘিরপাড় সড়কের ১৫ কিলোমিটার সড়ক বেহাল

তানভীর হাসান: রাস্তাজুড়ে খানাখন্দ আর গর্ত। সেই গর্তে জমেছে ধুলা। গাড়ি এলেই ধুলায় ছেয়ে যায় গোটা পথ। নাক-মুখ চেপে চলাচল করেন পথচারী-গাড়ির যাত্রীরা। বৃষ্টি হলে তো দুর্ভোগের শেষ থাকে না। কাদাপানিতে ঢেকে যায় সারাটা পথ।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার সিপাহীপাড়া থেকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় সড়কের চিত্র এটি। সাত-আট মাস ধরে বেহাল ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি। কিন্তু মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই।

সড়কটির সিপাহীপাড়া থেকে ধলাগাঁও বাজার পর্যন্ত দুই কিলোমিটার পড়েছে সদর উপজেলায়। মদিনাবাজার, আলদীবাজার হয়ে দিঘিরপাড় পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার পড়েছে টঙ্গিবাড়ী উপজেলায়। সিপাহীপাড়ার বিপণিবিতান, ধলাগাঁও বাজার, মদিনাবাজার, আলদিবাজার, পুরাবাজার, দিঘিরপাড় বাজারসহ অন্যান্য বাজারে যেতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। তা ছাড়া এসব বাজারে কয়েকটি হিমাগার আছে। প্রতিদিন সেসব হিমাগারে যাতায়াত করে মালবাহী ট্রাক ও লরি। তা ছাড়া নছিমন, ভটভটি তো আছেই।

সংস্কারের অভাবে ১৫ কিলোমিটার সড়কেরই পিচ উঠে গেছে। ইট উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। সিপাহীপাড়া থেকে দিঘিরপাড় পর্যন্ত ৩৫ মিনিটের পথ যেতে লাগছে এক থেকে সোয়া ঘণ্টা।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, গর্ত আর খানাখন্দের মধ্যে ঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবাহন। গাড়ি এলে ধুলায় ছেয়ে যায় পথ। নাক-মুখ চেপে চলাচল করছেন পথচারী ও গাড়ির যাত্রীরা।

ট্রাকচালক জসিম উদ্দিন বললেন, ‘এই সড়কের কোনো অভিভাবক নাই। অভিভাবক থাকলে এই হাল হতো না।’

প্রাণ গ্রুপের মালামাল বহনকারী কাভার্ড ভ্যানচালক মো. রুবেল জানান, রাস্তার দুরবস্থার কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টি হলে গাড়ি চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।

সড়কটির বেহাল অবস্থা নিয়ে গত সোমবার জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, সড়কটি মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।

যোগাযোগ করলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মুন্সিগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তারেক ইকবাল বলেন, এই সড়কের সেতুগুলো মেরামত করা হচ্ছে। সেতু মেরামতের কাজ শেষ হলে সড়ক মেরামতের কাজ হাতে নেওয়া হবে।

প্রথম আলো

Comments are closed.