বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পদ্মাসেতুর কাছেই

রব উঠেছে পদ্মাসেতুর ওপাড়ে কিংবা এপাড়ে হতে যাচ্ছে নতুন বিমানবন্দর। পদ্মার দুই পাড় ঘুরে সাধারণের মুখে মুখেই শোনা গেলো সে কথা। সেতুর নাম হবে জাতির জনকের নামে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সে প্রস্তাব আগেই রেখেছে সরকার।

পদ্মাপাড়ের মানুষের প্রত্যাশাও এমনটাই। তারা চায় নতুন বিমানবন্দর হলে এই অঞ্চলে লাগবে আধুনিকতার ছোঁয়া। নগরায়ণ হবে, আর তাতে পাল্টে যাবে তাদের জীবন জীবিকা।

এদিকে দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে জানানো হচ্ছে, সরকারের পরিকল্পনাও তেমনটাই। এরই মধ্যে এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় গবেষণা, পরিদর্শন চলছে বলেই জানায় কর্তৃপক্ষ।

নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়ে স্টাডি চলছে জানিয়ে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুজ্জাম‍ান বাংলানিউজকে বলেন, পদ্মাসেতুর কাছাকাছি লাগসই কোনো একটি স্থানেই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, পদ্মাসেতু প্রকল্পের দুই পাড়ে কিছু স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। ঢাকা থেকে দূরত্ব, ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা, জমির পর্যাপ্ততা, আন্তর্জাতিক রুট, সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, পুনর্বাসন, যাতায়াত খরচ ইত্যাদি বিবেচনা করেই স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়। এরপরই পদ্মাসেতুর দুই পাড়ে মোট চারটি স্থানকে সম্ভাব্য বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য চিহ্নিত করেছে সরকার।

এর আগে, মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। ২৫ হাজার একর জমি নিয়ে বিমানবন্দরটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। এর মধ্যে ১০ হাজার একর জমিতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং বাকি ১৫ হাজার একর জমিতে বঙ্গবন্ধু সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে সাময়িকভাবে এটি স্থগিত করা হয়। সে সময় আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধও হয়।

এবার আড়িয়াল বিলকে (শ্রীনগর-মুন্সীগঞ্জ) বাদ দিয়ে নির্মাণাধীন পদ্মাসেতুর দুই পাশের কোনও একটি স্থানকে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য বেছে নেবে সরকার। সম্ভাব্য চারটি স্থানের কথা বলা হচ্ছে। যারা তিনটি পদ্মার এই পাড়ে মাওয়া অংশে আর একটি ওই পাড়ে জাজিরা অংশে। ওই পাড়ে চর জানাজাত (শিবচর, মাদারীপুর)এর সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারনা করা হচ্ছে। আর এপারে যে তিনটি স্থান সম্ভাব্য বলে ধরা হচ্ছে গেগুলো হচ্ছে- চর বিলাসপুর (দোহার, ঢাকা), কেয়াইন (সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ) ও লতব্দি (সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ)।

এদিকে, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের প্রথম ধাপে চারটি জায়গা থেকে যে কোনো একটি জায়গা নির্বাচন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত স্থানের সমীক্ষা (‘ডিপার্টমেন্ট অব ফিল্ড সার্ভিস’ ডিএফএস) করা হবে। এর আলোকেই বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নিজস্ব অর্থায়নে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কারিগরি প্রকল্প প্রস্তাবনা (টিপিপি) প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ সমীক্ষার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে জুলাই ২০১৫ থেকে জুন ২০১৭ সাল পর্যন্ত।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বাংলানিউজকে বলেন, পদ্মাসেতু প্রকল্পের আশেপাশের স্থান মাথায় রেখেই নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। তার আগে চারটি স্থান সমীক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কনসালট্যান্ট ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হবে। কারণ এটি একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সুতরাং মাটির গুণগতমান, পরিবেশ ও সামাজিক বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। সমীক্ষার ওপর নির্ভর করবে নতুন বিমানবন্দর পদ্মাসেতু প্রকল্পের এপারে হবে, না ওপার হবে।

তবে সেতুর কারণে দূরত্ব যেহেতু বাধা হয়ে থাকবে না, সেহেতু ওপাড়েও এই বিমানবন্দর নির্মাণ করা যেতে পারে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

Comments are closed.