দ্বিতীয় বিবাহ : নেশার টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায়

ডিএম বেলায়েত শাহিন: শশুর বাড়ির লোকজন নেশার টাকার কিস্তি ঠিকমত পরিশোধ করতে না পারায় দ্বিতীয় বিবাহ করছেন এক নির্যাতিতা গৃহবধূর কুলাঙ্গার স্বামী। ভুক্তভোগী স্ত্রী শামীমা ইসলাম শ্রাবনী জানান, তার স্বামী নেশা করার জন্য প্রতিমাসে ৮ হাজার করে টাকা দাবী করেন তার মা শিরিনা বেগমের কাছে। এর আগে প্রতি মাসে নেশা করার জন্য বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার করে টাকা দিতো শ্রাবনীর মা।

কিন্তু ওই টাকায় নেশাখোর স্বামীর নেশার চাহিদা পূরণ না হওয়ায় প্রতিমাসে ৮ হাজার টাকা দাবী করে সে। দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় সম্প্রতি দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন স্বামী রফিকুল ইসলাম শিমুল। শ্রাবন্তী বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করলে পুলিশ সম্প্রতি তার স্বামী রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। কিন্তু গ্রেফতারের পর হতে মোবাইল ফোনে শশুর বাড়ির লোকজনের হুমকী দামকি ও তার টঙ্গীবাড়ী এলাকার কিছু ঘুষখোর গ্রাম্য মাতবরের মামলা তুলে নেওয়ার চাপে সে দিশেহারা। সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহনকারী শ্রাবন্তি পরিবারের বড় সদস্য হওয়ায় সব কিছু সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সে।

শ্রাবন্তি সাংবাদিকদের দেখায়, হাতে পায়ে তার অগনিত ক্ষতের চিন্থ। সে জানায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী,শাশুরী,ননদ প্রায়ই তাকে মম ও সিকেরেট দিয়ে সেকা দিতো। স্বামী রফিকুল ইসলাম শিমুল সব সময় নেশাগ্রস্থ থাকায় কারনে অকারনে চলতো শামীমা ইসলাম শ্রাবনীর উপর নির্যাতন। অদাহারে আনাহারে বর্তমানে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের পিত্রালয়ে ১৪ মাসের সন্তান নিয়ে জীবন যুদ্ধে নেমেছে সে। একদিকে সন্তানের পিত্র পরিচয় অপরদিকে হুমকী দামকির ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পরেছে সে।

জানাগেছে, ২০১১ সালের ৪ অক্টোবর দুই লক্ষ টাকা দেনমোহর ধায্য করে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আ. জব্বার সেখের মেয়ে শামীমা ইসলাম শ্রাবনীর সাথে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী উপজেলার কুচাইতলী গ্রামের আমিনুল ইসলাম এর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম শিমুল এর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে স্বামীগৃহে শত নির্যাতনের শিকার হয়ে ৩ বছর ছিলো শ্রাবনী।

শ্রাবনী আরো জানান, বিয়ের সময় যৌতুক হিসাবে ১লক্ষ টাকা এবং আড়াই ভরি স্বর্ণ দেয় তার বাবা। বিয়ের এক বছর পর হতেই আরো যৌতুকের জন্য চলে তার উপর নির্যাতন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধ করে দেওয়া হতো তার খাবার। দির্ঘদিন না খেয়ে থাকতো হতো তাকে। তারপরেও পিত্রালয় অনেক দূরে হওয়ায় মুখ বুজে সহ্য করতো সব।

বিক্রমপুর চিত্র

Comments are closed.