উচ্চ আদালতেও খারিজ রাহমান মনি নির্দোষ প্রমাণিত

সাকুরা সাবেরের মামলা
অবশেষে জাপানের উচ্চ আদালতেও সাংবাদিক রাহমান মনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। আর এর মাধ্যমে খারিজ হয়ে গেছে সাকুরা সাবের কর্তৃক আনীত মিথ্যা মানহানি মামলা। এর আগে নিম্ন আদালতও মামলাটি খারিজ করেছিল।

‘সাপ্তাহিক’ জাপান প্রতিনিধি, জাপান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনকৃত সাংবাদিক, সমাজকর্মী রাহমান মনির বিরুদ্ধে আনীত একটি মামলা ২১ মে ২০১৫ তিনজন বিচারপতি সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ খারিজ করে দেন। এর আগে ২০১৩ সালের ২১ অক্টোবর টোকিও জেলা জজকোর্ট মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিল।

বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাকুরা সাবের তার মানহানি ঘটার অভিযোগ এনে জাপান আদালতে ২০১২ ফেব্র“য়ারিতে একটি মানহানি মামলা দায়ের করে। এতে সে রাহমান মনির বিরুদ্ধে ১,৫০,০০০ (দেড় মিলিয়ন ইয়েন বা তখনকার সময়ে ১২ লাখ (প্রায়) টাকা দাবি করে টোকিওর একটি আদালতে মামলাটি দায়ের করে। প্রায় ২ বছর চলার পর উভয় পক্ষের শুনানি যুক্তিতর্ক এবং তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। আর রায়ে সন্তুষ্ট হতে না পেরে সাকুরা সাবের গং উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। এখন উচ্চ আদালতও মামলার কোনো সত্যতা খুঁজে না পেয়ে খারিজ করে দিল।

১১ মার্চ ২০১৫ জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং পরবর্তী বিপর্যয়ে একটি গোষ্ঠী ত্রাণ দেয়ার নামে নিজস্ব প্রচার পোর্টালে ১৪ এপ্রিল ২০১১ ‘বন্ধ হোক এইসব নোংরা আত্মপ্রচার’ নামে একটি কলাম লিখেন। কলামটিতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জাপান সরকার এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মকাণ্ডের প্রতি সম্মান দেখিয়ে অতিরিক্ত আত্মপ্রচার থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানান। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং পরবর্তী অবকাঠামো তৈরিতে বাংলাদেশে জাপানের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের এই বিপর্যয়ে প্রবাসীদের এক কাতারে কাজ করার আহ্বান জানান। আত্মপ্রচার নয়। এছাড়াও ২১ আগস্ট ২০১১ বাংলাদেশ থেকে প্রচারিত ‘সাপ্তাহিক’-এ ‘আওয়ামী লীগে (জাপান) আসন্ন নির্বাচন প্রবাসীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক কলামে দলের জন্য নিবেদিত, ত্যাগী নেতাদের নির্বাচিত করার জন্য জাপান প্রবাসীদের আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ২০০৮ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে অনেক ভূঁইফোড় সংগঠনের আবির্ভাবসহ অনেক হাইব্রিড নেতাদেরও আবির্ভাব ঘটে। প্রবাসেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।

দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ, যারা বিভিন্ন সময়ে দলের কাণ্ডারি হয়ে কাজ করে গেছেন তারা তথাকথিত অর্থওয়ালাদের কাছে অসহায় হার মানতে বাধ্য থাকেন। দলের দুঃসময়ে আবার ওইসব অর্থওয়ালাদের টিকিটিরও খবর থাকে না। তারা শুধু ক্ষমতার সুবিধাভোগী এবং দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০১০ নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট তথ্য উত্থাপন করেন। সেই সময়ে জনৈক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কর্তৃক প্রদানকৃত ২,৫০,০০০ (দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার ইয়েন) ইয়েন ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেয়া এবং বারবার প্রতিশ্র“তি দিয়েও (অদ্যাবধি) না দেয়ায় বিষয়টি উল্লেখ করেন। একজন বিতর্কিত ব্যবসায়ী এই অভিযোগে অভিযুক্ত।

সাকুরা সাবেরের মামলা পরিচালনার জন্য মোট তিনজন আইনজীবী নিয়োগ দেন। তারা সাবেরের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন। পক্ষান্তরে রাহমান মনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ না দিয়ে নিজেই মামলাটি পরিচালনা করেন। শুনানিতে তাকে সহযোগিতা করেন নিয়াজ আহমেদ জুয়েল ও কাগজপত্রে রাহমান মাহিনুর আইকো এবং জাপান প্রবাসী ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সর্বস্তরের প্রবাসী সব ধরনের সহায়তা নিয়ে রাহমান মনির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সুতরাং রাহমান মনির নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া মানে, একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তির বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সকল জাপান প্রবাসীর বিজয়। অশুভর বিরুদ্ধে শুভ শক্তির, অমঙ্গলের বিরুদ্ধে মঙ্গলের বিজয়। রাহমান মনি তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘প্রবাসে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, আঞ্চলিক সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা পেয়েছি তা অকল্পনীয়। এজন্য আমি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ।’

রায় ঘোষণার পর রাহমান মনি এক প্রতিক্রিয়ায় মহান আল্লাহর কাছে শোকরিয়া জানিয়ে জাপান প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘জাপান আইনের দেশ। এখানে আইনি শাসন প্রতিষ্ঠিত। সত্যের পথে থাকলে আইন তার পক্ষে থাকবেই। জাপান আদালত সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণাদি বিচার বিশ্লেষণ করে তবেই রায় প্রদান করেন। এই জন্য কিছুটা সময় লাগে। আমার বেলায়ও তাই হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন বছর (নিম্ন এবং উচ্চ আদালত মিলিয়ে) সময় লেগেছে। রায়ে আমি খুশি।’

অপর এক প্রতিক্রিয়ায় রাহমান মনি জানান, ‘মাত্র রায় পেয়েছি। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর প্রবাসী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে এবং আইনজীবীর পরামর্শ মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যবস্থা নিতে হবে প্ররোচনাকারী এবং মিথ্যা সাক্ষীদের বিরুদ্ধেও। কারণ মিথ্যা সাক্ষী দেয়া জাপান আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ এবং শাস্তিযোগ্য।’

সাপ্তাহিক

Comments are closed.