বি. চৌধুরী রাজনীতি ছাড়তে পারেন…

রাজনীতি থেকে ‘অবসরে যেতে পারেন’ বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বি. চৌধুরী নিজেই তার পরিবারের সদস্য ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠজনদের আর রাজনীতিতে সক্রিয় না হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়টি দ্য রিপোর্টকে নিশ্চিত করেছেন বি. চৌধুরীর পরিবারের সদস্য ও দলের একাধিক নেতা।

আগামী ৩১ মে রবিবার বিকেল ৪টায় বিকল্পধারার বর্ধিত সভা ডেকেছেন বি. চৌধুরী। এ সভা রাজধানীর বাড্ডায় বিকল্পধারার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এখানেই বি. চৌধুরী তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। তবে বি. চৌধুরী রাজনীতি ছাড়তে পারেন এমন খবর জানতে পেরে দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ওই সভাতে যাবেন না বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে, দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বি. চৌধুরীর ছেলে মাহী বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে রাজনীতি করতেও আগ্রহী নন। এ কারণেই দলের বর্ধিত সভায় তারা যাবেন না।

বি. চৌধুরীর রাজনীতি ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নুরুল আমিন দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। তা ছাড়া বাড্ডা অনেক দূর তো। রাস্তায় প্রচণ্ড যানজট থাকে। এ জন্য আমি বর্ধিত সভাতে যাচ্ছি না।’

প্রসঙ্গত, এর আগে দলের সব গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই উপস্থিত থেকেছেন ড. নুরুল আমিন।

বিকল্পধারার একাধিক নেতা দ্য রিপোর্টকে জানিয়েছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ। তিনি যেভাবে দল চালাতে চেয়েছিলেন সেভাবে কিছু হয়নি। তা ছাড়া তার বয়সও হয়েছে। সব মিলিয়ে তিনি এখন আর দলীয় রাজনীতি বিশেষ করে বিকল্পধারার রাজনীতি নিয়ে তেমন আগ্রহবোধ করছেন না। তিনি রোগী দেখে ও সামাজিক কাজ করে সময় কাটাতে চান।

রাজনীতি ছাড়ার বিষয়ে বি. চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার প্রেস সেক্রেটারি লিখিত প্রশ্ন করতে বলেন। লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিকল্পধারার প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ইমেইলে রাজনীতি ছাড়ার প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমার কর্মকাণ্ড নির্ভর করবে আমার স্বাস্থ্যের ওপর। আমার বয়স ৮৪ বছর। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।’

বিকল্পধারার একজন জ্যেষ্ঠ নেতার দাবি, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলন নিয়ে পরিবারের সঙ্গে মতপার্থক্য, সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে মাহী. বি চৌধুরীর পক্ষে বিএনপির সমর্থন আদায় করতে না পারায় সরাসরি বিকল্পধারার রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার চিন্তা করছেন বি. চৌধুরী।

জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগেই বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলনে যেতে চেয়েছিলেন বি. চৌধুরীসহ দলের বেশিরভাগ নেতা। কিন্তু বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নান ও যুগ্ম-মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীর অনাগ্রহের কারণে তিনি তা পারেননি।

বিকল্পধারার বিএনপিপন্থী এক নেতার দাবি, বি. চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব হওয়ায় দলটির প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসা রয়েছে। কিন্তু সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন আর বি. চৌধুরীর অনুকূলে নেই। তিনি এখন ছেলে মাহী. বি চৌধুরীর হাতে দল ছেড়ে দিয়ে সামাজিক কাজকর্ম করতে চাচ্ছেন।

সূত্র মতে, বি. চৌধুরী এখন থেকে আর সরাসরি বিকল্পধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন না। তবে জাতীয়তাবাদী ঘরানার বিভিন্ন পেশাজীবী বা সামাজিক সংগঠনের নেতারা কোনো বৈঠকে আমন্ত্রণ জানালে শারীরিক সুস্থতা সাপেক্ষে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এমনটাই এখন বি. চৌধুরীর চাওয়া বলে জানান তার ঘনিষ্ঠজনরা।

বিকল্পধারার শীর্ষ একাধিক নেতা জানান, বিকল্পধারার নেতৃত্বে আসছেন মাহী. বি চৌধুরী। দলটিতে নতুন প্রজন্মের কিছু তরুণদের সম্পৃক্তও করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রজন্ম শহর, ব্লু ব্যান্ড কল ও অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের তরুণ নেতাদের এই দলে যুক্ত করতে শুরু করেছেন মাহী. বি চৌধুরী। মেজর (অব.) মান্নান বিভিন্নভাবে মাহী বি. চৌধুরীকে সহায়তা করছেন।

১৭ মে রাজধানীর হোটেল লেক শোরে তরুণদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক কর্মশালারও আয়োজন করেছিলেন মাহী. বি চৌধুরী। সেখানে বি. চৌধুরী উপস্থিত থাকলেও কোনো কথা বলেননি।

এ বিষয়ে বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব ও মুখপাত্র মাহী বি. চৌধুরীকে বার বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.