শ্রীনগরে আইন শৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে সক্রিয় প্রতারক চক্র

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে র‌্যাব-পুলিশ-মানবাধিকার কর্মী পরিচয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছে একটি চক্র। দিনের পর দিন প্রতারক চক্রটি আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে নিরিহ লোকজনকে নানা ভাবে হয়রানি করছে। র‌্যাব-পুলিশ পরিচয় দিয়ে চক্রটি গ্রেপ্তারের ভয়-ভীতি দেখায় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতারক চক্রটির ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও শ্রীনগর থানায় একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জমা পড়লেও পুলিশ কোন কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধান ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চক্রটির সদস্যরা দলবদ্ধ ভাবে ৮/ ১০ জন এক সাথে মোটর সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে বা কাউকে অভিযোগ কারী বানিয়ে জমি দখল, পাওনা টাকা উত্তোলন, হুন্ডি ব্যবসা, বল্য বিয়ে, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ সহ ইত্যাদি অভিযোগ এনে চক্রটি ফিল্মি ষ্টাইলে নিরিহ লোকজনের বাড়িতে হাজির হয়ে দলের সদস্যরা একেক জন নিজেদের র‌্যাব – ডিবি পুলিশের লোক, বা মানবাধিকারের লোক পরিচয় দিয়ে বাড়ির কোন সদস্যের বিরুদ্ধে ভূয়া ও বানোয়াট অভিযোগ এনে প্রথমে ভয়-ভিতি সৃষ্টি করে।

পরে গ্রেপ্তার করে ধরে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখায়। এসময় ঐ দলেরই একজন দোতায়ালীর ভূমিকা নিয়ে চাঁদা দাবী করে। চাঁদার পরিমান কখনো লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যায়। তবে বাড়ির লোকজন দিতে অস্বীকার করলে যা পায় তা নিয়েই দ্রুত কেটে পরে। উপজেলার সর্বত্র এ চক্রটির দৌরাতেœ সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। অভিযোগের সূত্রধরে পুলিশ জানায়, চক্রটির মূল হোতা উপজেলার ষোলঘর বাজারের দেলোয়ার ম্যানশনের নাম পরিচয়হীন একটি সংগঠনের কর্তা ব্যাক্তি আনোয়ার হোসেন, নাজিম উদ্দিন, বাবু, শফিক ও তাদের কয়েকজন সঙ্গী।

এ চক্রটির বিরুদ্ধে গত ১৩ মে সিংপাড়া গ্রামের প্রবাসী আ: রহিমের স্ত্রী নাছিমা বেগম মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি চক্রটির সদস্যরা তার বসত বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ির অর্ধ শতাধিক মেহগনি ও ইউক্লিপটাসের চারা গাছ নিজেদের হাতে কেটে ফেলে এবং সেখানে একটি ছাপড়া ঘর উত্তোলন করে অন্য একজনকে দখল বুঝিয়ে দেয়। প্রথমে ভয় পেলেও পরে নাছিমা বেগম চক্রটির এ কর্মকান্ডের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখেন এবং তা পুলিশ সুপারের কাছে সাক্ষ্য হিসাবে জমা দেন।

এব্যাপারে পুলিশ সুপার শ্রীনগর থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। গত ১৮ মে বিকালে চক্রটির হোতা আনোয়ার সহ ৩/৪ জন সদস্য সালেপুর গ্রামের আতাহার শেখের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে নিজেদেরকে আইনের লোক ও মানবাধিকার কর্মী হিসাবে দাবী করে। এসময় আতাহারের অনুপুস্থিতিতে তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩৮) কে একা বাড়িতে পেয়ে তারা জানতে চান,তোর ছেলে সোহেল আশুলিয়ায় বিয়ে করেছে। সে স্ত্রী আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। ছেলে ও স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে তারা ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে।

পরে তারা আলেয়া বেগমের কাছ থেকে ৪ হাজার নয়শ টাকা চাঁদা নিয়ে আসে এবং বাকি টাকা এক দিনের মধ্যে তাদের ষোলঘরের অফিসে পৌছে দেওয়ার জন্য বলে। না হলে তার স্বামী ও সন্তানের শেষ রক্ষা হবেনা বলে শাসিয়ে আসে। পরদিন আতাহার চক্রটির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ এনে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এই চক্রটি ছাড়াও উপজেলার মাশুরগাও ফেরিঘাট এবং ষোলঘর হাসপাতাল সংলগ্ন এরকম আরো দুটি প্রতারক চক্র রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব প্রতারক চক্রগুলোর দলে দেখতে স্মার্ট একাধিক নারী সদস্যও রয়েছ । এরা কোন মেয়ের বিয়ের দিন প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কাউকে না জানিয়ে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়ে বাল্য বিয়ের অজুহাত এনে তা বন্ধ করার জন্য পরিবারের উপড় চাপ সৃষ্টি করে। পরে তারা বিয়ে বাড়িতে ফাও খেয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়ে।

উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা শাহানারা বেগম জানান, বাল্য বিয়ে বন্ধ করার কোন এখতিয়ার তাদের নেই। তবে এতো কিছুর পরও তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা এনিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শ্রীনগর সার্কেলের এএসপি শামসুজ্জামান জানান, এসকল বিষয়ে তিনি কিছু জানেননা। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মুজিবুর রহমান অভিযোগের বিষয়গুলো স্বীকার করে বলেন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments are closed.