প্রেস কাউন্সিল : ১১ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি

‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির অভিযোগে মুন্সিগঞ্জের স্থানীয় ১১ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। এ ঘটনায় ওই এলাকার স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে নিয়মিত প্রকাশ না করার অভিযোগে গতকাল বুধবার ওই জেলার আটটি পত্রিকার প্রকাশনা ছাড়পত্র (ডিক্লারেশন) বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন।

মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসানের আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেস কাউন্সিল ১৭ মে পুলিশ সুপারের কাছে চিঠিটি পাঠায়। পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২০ এপ্রিল ওই জেলার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন। স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক (ফটো সাংবাদিকসহ) ওই অনুষ্ঠানের খবর সংগ্রহ করতে যান। কিন্তু সাংবাদিকেরা অভিযোগ করেন, সে সময় তাঁদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। অবশ্য প্রশাসন বলছে, তাঁদের বাধা দেওয়া হয়নি। পাশের কক্ষে বসতে বলা হয়েছিল।

পরে জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ পাঠান। এরপর প্রেস কাউন্সিল পুলিশ সুপারকে এ চিঠি দেয়। প্রেস কাউন্সিলের চিঠিতে বলা হয়, গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কতিপয় সাংবাদিক আকস্মিকভাবে অনুপ্রবেশ করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন বলে প্রতীয়মান হয়, যা দণ্ডবিধির আওতায় একটি আমলযোগ্য অপরাধ বিধায় ঘটনা তদন্ত প্রয়োজন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিক মামুনুর রশীদ (সমকাল) এবং কাজী সাব্বির আহমেদের (বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) বিরুদ্ধে ‘মাদক সেবনের’ অভিযোগেরও তদন্ত প্রয়োজন।

জানতে চাইলে চিঠিতে সইকারী প্রেস কাউন্সিলের সচিব শ্যামল চন্দ্র সরকার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, জেলা প্রশাসক যে অভিযোগ দিয়েছেন, সেটা প্রেস কাউন্সিল আইন দিয়ে কিছু করা যাবে না। তাই জেলা প্রশাসকের চিঠিটিই পুলিশ সুপারকে দিয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সচিব জানান, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. মমতাজ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশেই এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে (ওই অভিযোগের বিষয়ে) তাঁদের কিছু করার কর্তৃত্ব নেই। তাই ওই অভিযোগ তদন্ত করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। এটা তাঁরা করতেই পারেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জানতে চাইলে ওই ১১ সাংবাদিকের একজন মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী সাব্বির আহমেদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রেসক্লাবের কোন্দলের জেরে জেলা প্রশাসক একটি পক্ষে অবস্থান নেন ও তাঁদের প্রতি আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের সঙ্গে কর্কশ ভাষায় কথা বলেন ও বের করে দেন। এর বিরুদ্ধে সাংবাদিকেরা আন্দোলন করায় জেলা প্রশাসক এ অভিযোগ দেন।

মাদক সেবনের অভিযোগটি মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে কাজী সাব্বির বলেন, তাঁকে ও তাঁর সহকর্মী মামুনুর রশীদকে সমাজে হেয় করতেই এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

১১ সাংবাদিকের মধ্যে আরও রয়েছেন শহীদ-ঈ-হাসান তুহিন (যায়যায়দিন ও গাজী টিভি), মোজাম্মেল হোসেন (মানবজমিন), মাহবুব বাবু (আমাদের সময়), শেখ মো. রতন (মাইটিভি), মাইনুদ্দিন সুমন (এনটিভি), মো. ফরিদুল হাসান (আরটিভি), জসিমউদ্দিন দেওয়ান (৭১ টিভি) এবং ক্যামেরাম্যান জাফর মিয়া ও আবদুর রহমান।

জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বলেন, সমাজের দর্পণ বলা হয় সাংবাদিকদের। এই পেশায় কিছু মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল সাংবাদিক অনুপ্রবেশ করে পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছেন। তাঁরা এই পেশায় থাকুক, এটা মনে হয় প্রকৃত সাংবাদিকেরা কেউ চাইবেন না। সকলে মিলে এঁদের পরিহার করা উচিত।

বন্ধ হলো আট পত্রিকা: নিয়মিত প্রকাশ না করার অভিযোগে একটি দৈনিকসহ মুন্সিগঞ্জের স্থানীয় সাতটি পত্রিকার প্রকাশনা ছাড়পত্র বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান এ সিদ্ধান্ত নেন।

প্রকাশনা বাতিল করা পত্রিকাগুলো হলো দৈনিক দেশসেবা, সাপ্তাহিক মুন্সিগঞ্জ, সাপ্তাহিক মুন্সিগঞ্জ সংবাদ, সাপ্তাহিক বিক্রমপুর সংবাদ, সাপ্তাহিক কাগজের খবর, বাংলা সাপ্তাহিক মুন্সিগঞ্জের বাণী, পাক্ষিক খোলা কাগজ ও সাপ্তাহিক সত্য প্রকাশ।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম শওকত আলম মজুমদার বলেন, এই পত্রিকাগুলোর কোনোটি টানা ছয় মাস আবার কোনোটি টানা এক বছর ধরে প্রকাশনা বন্ধ ছিল। তাদের এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও কেউ জবাব পর্যন্ত দেয়নি। তাই এসব পত্রিকার ডিক্লারেশন বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রথম আলো

Comments are closed.