ওষুধ শিল্প পার্কঃ মেয়াদ বাড়ানোর মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে!

তিনবার মেয়াদ বাড়ানোর পরও শেষ হয়নি ওষুধ খাতের এপিআই শিল্প পার্ক স্থাপনের কাজ। প্রায় সাড়ে সাত বছরের এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আবারও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধির পর আগামী জুনে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।

তবে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় প্রায় ২০০ একর জমিতে ‘অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্ট’ বা এপিআই শিল্প পার্ক স্থাপন কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক ও বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক আবদুল বাসেত জানিয়েছেন, কাজ শেষ হতে আরও সময় লাগলেও আগামী এক মাসের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ জন্য ইতিমধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও চলতি মাসের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা ছিল। আনুষঙ্গিক কাজ না হওয়ায় তা এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, এখন ওষুধ শিল্প সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্লটের প্রতি শতাংশের দাম আড়াই লাখ টাকা পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিস্তিতে শিল্প উদ্যোক্তারা দাম পরিশোধের সুযোগ পাবেন। এখানে প্লটের সংখ্যা হবে ৪২টি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৮ সালে একনেকে অনুমোদন হওয়া এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত কেবল মাটি ভরাট ও কিছু অংশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনের এ পার্কে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), ডম্পিং ইয়ার্ড ও ইনসিনারেটর নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হয়নি। রাস্তা, ড্রেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও পানির সরবরাহ ব্যবস্থার কাজও অসমাপ্ত রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক জানান, চলতি বছরের জুনে এটির কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। এ জন্য আরও এক বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ৩১৩ কোটি ৮৬ কোটি টাকার এ প্রকল্পের ব্যয় আর বাড়বে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অসম্পন্ন কাজের জন্য এরই মধ্যে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে ও অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

দেশে বর্তমানে ১৫ কোম্পানি শুধু ৪৩টি ওষুধের কাঁচামাল তৈরি করছে। এখনও ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশ ওষুধের কাঁচামাল আমদানি হচ্ছে। গবেষণা ও উন্নয়নেও পিছিয়ে আছে এ খাত। নতুন মলিকিউল তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা যায়নি। ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনসহ এসব বিষয়ে সক্ষমতা অর্জনে এপিআই শিল্প পার্ক অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য দীর্ঘদিন থেকে এ পার্ক স্থাপনের দাবি করেছে শিল্পোদ্যোক্তারা। আর পার্ক স্থাপনের পর কাঁচামাল উৎপাদনে উন্নত দেশগুলোর প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

অন্য দিকে ওষুধ খাতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মেধাস্বত্ব অধিকারের বাণিজ্যবিষয়ক (ট্রিপস) চুক্তি বাস্তবায়নে অব্যাহতির মেয়াদ বাংলাদেশসহ এলডিসির জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ এখনও ওষুধের কাঁচামাল তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারায় আরও সময় চেয়েছে। এ জন্যও এপিআই জরুরিভিত্তিতে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসব বিবেচনায় ২০০৯ সালে ২১৩ কোটি টাকার প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়; কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতায় তিন দফা সময় ও প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়।

সমকাল

Comments are closed.