জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা : নতুন নেতৃত্ব আসছে

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ মে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের এ কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। বর্তমান কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এ ঘোষণা এলো। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হওয়া মানেই নতুনদের কাছে নেতৃত্ব তুলে দেয়া। ছাত্রলীগের জেলা সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ দিকে বেশ কয়েকজন নেতার্কমী জানান, আজকেও যদি সম্মেলন হয়, তাহলে দেখা যাবে বিপুলসংখ্যক নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে গেছে। কেননা গঠনতন্ত্রে রয়েছে, সর্বোচ্চ ২৯ বছর বয়সীরাই ছাত্রলীগের নেতা বা কর্মী হতে পারবেন।

এছাড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা কমিটির মেয়াদ দু’বছর। কিন্তু বর্তমান কমিটির বয়স প্রায় ৪ বছর পূর্ণ হওয়ার পথে। যে কারণে বিপুলসংখ্যক নেতার বয়স ২৯ বছর পেরিয়ে গেছে। বিশেষ করে সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সম্পাদকদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশের বয়সই ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার পর্যায়ে নেই। এর ফলে সহসম্পাদক বা সদস্য কিংবা হল ও থানা পর্যায়ের নেতাদের মধ্য থেকে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বানাতে হবে। ফলে সম্ভাব্য নেতৃত্ব যাবে অনভিজ্ঞদের হাতে। এতে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অভিজ্ঞদের অভাবে সংগঠনে কোনো পর্যায়ে কখনও বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তা রোধ করা যাবে না।

উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের ২০০৬ সালের এপ্রিলে সম্মেলনে ‘বয়স’ প্রথা চালু হয়। বর্তমানে এ পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক নাজুক বলে জানান নেতাকর্মীরা। সংগঠনের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সম্পাদকদের মধ্যে বেশির ভাগেরই বয়স পেরিয়ে গেছে। নতুন সম্মেলনের ব্যাপারে কয়েকজন নেতা ােভ প্রকাশ করে বলেন, সংগঠনের অনিয়মিত সম্মেলনের কারণে সুষ্ঠু নেতৃত্বের বিকাশই কেবল বন্ধ থাকেনি, নিজেকে গোছানোর জন্য অনেকেই নানা ধান্ধায় নেমে গেছে। কেননা ২৯ বছর যার পেরিয়ে যাবে তিনি তা বুঝতে পেরে আগেভাগেই হয় চাকরি নিয়ে নতুবা ব্যবসা-ঠিকাদারি নিয়ে সরে পড়েছেন।

এ দিকে জেলা কমিটিতে এত জুনিয়র পর্যায়ের ব্যক্তিরা কমিটিতে স্থান পেয়েছেন যে অনেকে নিজেদের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেও ইতস্তত বোধ করেন। তাই সবার দাবি যেন আগের কমিটির থেকে ও এবারের কমিটি টা বেশী শক্তিশালী হওক এটাই সকলে কাম্য।

বাংলা সংবাদ

Comments are closed.