দুই প্রজন্মের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হলো জাপানে

রাহমান মনি: উৎসাহ উদ্দীপনা, ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে পালিত হয়েছে দুই প্রজন্মের মিলন মেলা খ্যাত ‘প্রবাস প্রজন্ম ২০১৫’। প্রবাস প্রজন্মের এবারের আয়োজন ছিল সপ্তমবারের মতো।

প্রবাসী শিশু-কিশোরদের জীবনে মননে বাজুক ‘দেশ, মাটি ও মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সুরধারা’ সেøাগানকে সামনে রেখে জাপানে ২০০৭ সালে প্রবাস প্রজন্ম যাত্রা শুরু করে। সেই থেকে শিশু-কিশোরদের বাংলা সংস্কৃতির প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেয়ার জন্য একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে হৃদয়বানদের আর্থিক অনুদান এবং সর্বস্তরের প্রবাসী ও দূতাবাসের সহযোগিতায়। আর এতে অলঙ্করণ করছেন বাংলাদেশ থেকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্বনামধন্য এবং দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ আমন্ত্রিত হয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। শিশু-কিশোরদের বাংলা সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ এবং তাদের অভিভাবকদের উৎসাহ জোগাতে প্রতিবছর প্রবাস প্রজন্মের ডাকে তারা অংশ নিয়ে থাকেন। এ বছরও এসেছেন।

এই পর্যন্ত প্রবাস প্রজন্ম জাপানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা শিশু-কিশোরদের উৎসাহ জুগিয়েছেন তারা হলেন ড. জাফর ইকবাল, ড. ইয়াসমিন, ফরিদুর রেজা সাগর, গোলাম মোর্তোজা, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ফাহমিদা নবী, সুবীর নন্দী, মুস্তাফা মনোয়ার, বারী সিদ্দিকী প্রমুখ। তাদের সবাইকে প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও জাপানের প্রথম সারির মডেল, গায়িকা এবং টিভি ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রোলা এবং জাপান প্রবাসী ছড়াকার বদরুল বোরহানকেও বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়।

৭ম প্রবাস প্রজন্ম জাপান ২০১৫ সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম ও আবিদা সুলতানা দম্পতি। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান এবং দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা গানের ভুবনে অবদান রাখার জন্য তাদের এ সম্মাননা দেয়া হয়।

প্রবাস প্রজন্ম জাপানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২ মে জাপানে পৌঁছেন শিল্পী দম্পতি। তাদের অংশগ্রহণে প্রবাস প্রজন্ম ২০১৫ আয়োজনের মর্যাদা ও গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। অতিথিদের কাছে পেয়ে শিশু-কিশোর এবং সর্বস্তরের প্রবাসী আনন্দে মেতে ওঠে। অনুষ্ঠান ঘোষণার পর অতিথিদের নাম প্রকাশের দিন থেকেই এই উদ্দীপনা কাজ করছিল।

৩ মে ২০১৫ রোববার টোকিওর কিতা সিটি তাকিনোগাওয়া কাইকানে আয়োজিত ৭ম প্রবাস প্রজন্ম জাপান ২০১৫ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির (এপিএফএস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুহৃদ ইয়োশিনারি কাৎসুও এবং গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশন জাপানের ব্যুরোপ্রধান গোতো আয়া।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মুনশী কে. আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বজিত দত্ত বাপ্পা ও রাহমান মাহিনুর আইকো ইফা।
বরাবরের মতো এবারও অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। পিয়ানোতে জাতীয় সংগীতের সুর তোলেন মাহিন মাহাদি ঠাকুর। মাহিন প্রবাস প্রজন্ম জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে আসছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান দেখাতে অনুষ্ঠানে আগত বিভিন্ন দেশের নাগরিক দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন।

জাতীয় সংগীতের পর শুরু হয় মূল আয়োজন। প্রথমেই আমন্ত্রিত অতিথিদের মঞ্চে আহ্বান জানানো হয়। এরপর একদল শিশু-কিশোর অতিথিদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়। এরপর অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব হিসেবে অতিথিবর্গের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা ২০১৫ প্রদান করা হয়। প্রথমেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কমিটির আহ্বায়ক মুনশী কে. আজাদ। শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি সবাইকে স্বাগত ও ধন্যবাদ জানিয়ে সংগঠনটির আদর্শ ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

এরপর অভিভাবকদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাদল চাকলাদার। বাদল চাকলাদার তার বক্তব্যে শিশু-কিশোরদের জন্য অত্যন্ত জরুরি এমন উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এমন একটি মহতী উদ্যোগকে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। তিনি একজন অভিভাবক হিসেবে বলেন, আমার মতো যারা নিজ সন্তানকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতে চান, তাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে সংগঠনটি টিকিয়ে রাখা এবং সন্তানকে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হতে উদ্বুদ্ধ করা। তিনি প্রবাস প্রজন্ম জাপানকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিশেষ অতিথি কাৎসুও ইয়োশিনারি বলেন, আমি বাঙালিকে ভালোবাসি, বাংলাদেশকে ভালোবাসি। বাংলাদেশিদের দ্বারা যে কোনো আয়োজনে নিজেকে সম্পৃক্ত করাকে ধন্য মনে করি। ৮ বছর আগে এই সংগঠনটি যখন যাত্রা শুরু করে তখন থেকেই আমি এর সঙ্গে জড়িত। জাপানে বাঙালিরা অনেক বড় বড় আয়োজন করে থাকে। কিছু কিছু আয়োজনে আমিও থাকি। আমার কোনো জাপানি বন্ধু নেই। কিন্তু অনেক বাংলাদেশি বন্ধু আছেন। আমি সুযোগ পেলেই বাংলাদেশিদের কাছে ছুটে যাই। আমার স্ত্রীও বাংলাদেশিদের উষ্ণ আতিথেয়তায় প্রশংসা করেন।

আরেক বিশেষ অতিথি গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশন জাপান ব্যুরোপ্রধান গোতো আয়া তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি জনাব ইয়োশিনারির মতো বাংলাদেশ সম্পর্কে তেমন দীর্ঘ অভিজ্ঞতা না থাকলেও রাহমান মনির মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করছি। রাহমান মনি গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশনের একজন সদস্য। তিনি আমাদের পরিবারেরই একজন। ভবিষ্যতে আমরা বাংলাদেশেও এর কার্যপরিধি বিস্তারিত করার চেষ্টা করছি।

আমন্ত্রিত এবং ৭ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা প্রাপ্তদের বক্তব্যের পূর্বে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। এ সময় শিল্পী আবিদা সুলতানা মঞ্চে উপস্থিত না থাকায় শুধু রফিকুল আলমের হাতে ৭ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা ২০১৫ তুলে দেয়া হয়। রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এ সম্মাননা তার হাতে তুলে দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একজন কণ্ঠযোদ্ধা এবং বাংলা গানে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অবদান রাখার জন্য তাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

রফিকুল আলম তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, জীবনে অনেক দেশ ঘুরেছি, অনেক পুরস্কার পেয়েছি, কিন্তু আজকের এ সম্মান আমার জীবনে একটি বিরল ও শ্রেষ্ঠ অর্জন। কারণ, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য কোনো পুরস্কারই আমি পাইনি, রাষ্ট্র বা কোনো সংস্থা থেকে। এই প্রথম। তাও আবার বিদেশের মাটিতে এবং জাপানের মতো জায়গায় এবং একটি শিশু সংগঠন থেকে। যারাই নাকি একদিন দেশের হাল ধরবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা রাখে না। কিন্তু বিদেশে বসবাসরত শিশু-কিশোরদের সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের প্রতি এতটা সম্মান দেখাবে তা আমার ভাবনার বাইরে ছিল। শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করা খুবই কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার। আপনারা সেই অসাধ্য ব্যাপারটিকে সাধ্য রাখার চেষ্টা করছেন, এই জন্য আপনাদের আমি স্যালুট জানাই।

প্রধান অতিথি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, প্রবাস প্রজন্ম জাপানের এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এই পর্যন্ত তারা ৭ বার এ আয়োজন করতে পেরেছে, যার ২টির মধ্যে আমি উপস্থিত ছিলাম। শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করতে গেলে অনেক কষ্ট সাধন করতে হয়। একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গেলে অনেক বিড়ম্বনা হয়। সেই সব বিড়ম্বনা পার হয়ে কাজ করতে হবে। তবে আমার মনে হয় যেহেতু এটি একটি শিশু সংগঠন, তাই প্রতিটি শিশুকেই বা সর্বাধিকসংখ্যক শিশুকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া উচিত। এতে করে তারা আরও বেশি উৎসাহিত হবে।

রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয় ১ম পর্ব।

অনুষ্ঠানের ২য় পর্ব ছিল শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পর্ব। যা অনুষ্ঠানের মূল এবং আকর্ষণীয় পর্ব। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পর্বটি পরিচালনা করেন রাহমান মাহিনুর আইকো ইফা।

খবর, নাচ, গান, অভিনয়, গিটার, পিয়ানো, আবৃত্তি দিয়ে অনুষ্ঠান ঢেলে সাজানো হয়। রাহমান মনির পরিকল্পনা ও সম্পাদনায় অনুষ্ঠানের প্রথমেই প্রবাস প্রজন্ম ২০১৫ সংবাদ পাঠ করেন মৌ হোসেন। প্রবাস প্রজন্ম সংবাদে বাংলাদেশিদের (জাপানে) কার্যপরিধির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

এরপর জাপান প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি একটি দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে। স্বরলিপির নাচের শিক্ষিকা কলির ক্যালিওগ্রাফিতে নাচের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয় জাপানে। দলের অন্য সদস্যরা হলো কথাশ্রী বিশ্বাস, রাইহানা আহমেদ, রেইনা হোসাইন, ইউকি, প্রগতি ঘোষ, সেজুতি ব্রহ্ম, ভাগ্যশ্রী পাল, এনচান প্রমুখ।

এছাড়াও শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে নিশাত হায়দার লামিয়া, ওয়াশি রহমান, অংকিক নন্দী, আজরিন তারিমা নাবা, নাস্রাহ আহমেদ, রাইহানা আহমেদ, রেয়ন হোসাইন, রেইনা হোসাইন, সুমেলী শারমিতা রাহমান ও আকি বড়–য়া।

আবৃত্তি করে শোনায় জেসিয়া বিনতে জাবেদ, নাপিজা অর্পি, আকিব হায়দার লাবিব, নবুয়াত আহমেদ ও আজরিন তারিমা নাবা।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ৭ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা মনোনীত আবিদা সুলতানা অনুষ্ঠানে এসে উপস্থিত হলে তাকে মঞ্চে আহ্বান জানানো হয় এবং তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

অনুভূতি জানিয়ে আবিদা সুলতানা বলেন, জীবনে অনেক দেশেই শো করেছি। কোনো দেশেই প্রবাসীদের কোনো এওয়ার্ড পাইনি। এই প্রথম শুধু এওয়ার্ড দেয়ার জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ সম্মান বিরল। যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো অনুভূতি নয়। আপনারা শিশু-কিশোরদের দেশীয় সংস্কৃতি শেখানোর জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন, যে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন তা সত্যি-ই প্রশংসনীয়। পৃথিবীর সব দেশের প্রবাসীর জন্য তা অনুকরণীয়। আপনারা শুরু করে দিলেন। অনেক দেশই হয়ত এখন তা অনুসরণ করবে। এবং করা উচিত বলে আমি মনে করি। বসবাসরত দেশগুলোর ভাষা এবং সংস্কৃতি শিশুরা অবশ্যই শিখবে তবে সেই সঙ্গে নিজস্ব সংস্কৃতিও শিখতে হবে।

শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাপান প্রবাসীদের দ্বারা পরিচালিত আরেকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন উত্তরণ বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক দল তাদের উপহার হিসেবে একটি ভ্যারাইটি অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। দুই প্রজন্মের সমন্বয়ে উত্তরণ ভ্যারাইটি নাচ, গান ও জাপানি কোরাস দিয়ে সাজানো ছিল।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নওরিন হাকিম, সুহিনা বড়–য়া, অহনা বড়–য়া, সাজিদ আলম খান এবং তাশদিদ আলী, নামিরা জামান, রাদিয়া জামান পিয়ানোতে সুর তোলে।
এছাড়াও অভিনয় ও নাটকে অংশ নেয় তনুশ্রী পাল, ভাগ্যশ্রী পাল, লামিয়া হায়দার, ওয়াশি রহমান ও অংকিক নন্দী।

বাংলাদেশ প্রবাসীকল্যাণ সমিতি জাপান প্রতিবারের মতো এবারও ফ্যাশন শো পরিবেশন করে। বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের বিভিন্ন কাজে একঝাঁক শিশু-কিশোর ফ্যাশনসচেতন এতে অংশ নেয়।

এরপর ৭ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননাপ্রাপ্ত আমন্ত্রিত অতিথিদ্বয় গান পরিবেশন করেন। প্রথমে মঞ্চে উপস্থিত হন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, সংগীত জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি, সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গানসহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন।

এরপর মঞ্চে উপস্থিত হন সংগীত জগতের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র সংগীতশিল্পী আবিদা সুলতানা। আবিদা সুলতানাও বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। দর্শকদের অনুরোধে আবিদা সুলতানা ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার’ গানটি গেয়ে শোনান।

একক সংগীত পরিবেশ শেষে শিল্পী দম্পতির ডুয়েল সংগীত শুরু হলে বিভিন্ন অনুরোধ আসতে থাকায় সময় স্বল্পতার কারণে আয়োজকদের অনুরোধে ডুয়েল সংগীত শেষ হয়।

এরপর কাহাল আর্ট গ্রুপ পরিচালিত শিশু-কিশোরদের চিত্রকলা প্রদর্শনীর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শিল্পী কামরুল হাসান লিপু এবং লাকি হাসান। চিত্রকলা প্রদর্শনীতে এবার প্রথম স্থান অধিকার করে সোহান নন্দী। সুমেলী শারমিতা রহমান ও সাদনান সাফিন যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

এবারের প্রবাস প্রজন্ম অনুষ্ঠানে নির্ধারিত অনুষ্ঠান সূচির বাইরে বিশেষ এবং আকর্ষণীয় একটি পর্ব ছিল রাহমান মনি কর্তৃক জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হীরাকে একইসঙ্গে মঞ্চে আহ্বান। সাধারণত রাহমান মনি পর্দার আড়ালেই কাজ করে থাকেন। হঠাৎ তার এই ঘোষণায় প্রায় পাঁচ শতাধিক আসনবিশিষ্ট হল কানায় কানায় পূর্ণ দর্শক শ্রোতা নড়েচড়ে বসেন। না জানি কী ঘটতে যাচ্ছে এই অজানা আশঙ্কায় কিছুটা ভীত হয়ে পড়েন অনেকেই। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাহমান মনি তাদের দুজন থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য কামনা করলে উভয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থে বিদেশের মাটিতে এককাতারে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাদের অভিনন্দন জানিয়ে রাহমান মনি তাদের এই সহাবস্থান এবং অঙ্গীকার ব্যক্ত করার কথা স্ব স্ব দলীয় প্রধানের কাছে পৌঁছে দিয়ে বাংলাদেশেও দেশের স্বার্থে এক হয়ে কাজ করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান কামনা করলে উপস্থিত দর্শক শ্রোতা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে সমর্থন ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, জাপানে বাংলাদেশের স্বার্থে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসী এক হয়ে কাজ করে থাকেন।

এবার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মাত্র একজন শিক্ষাজীবন শুরু করায় প্রবাস প্রজন্মর পক্ষ থেকে অভিনন্দন উপহার দেয়া হয়। ভাগ্যশ্রী পাল শিল্পী রফিকুল আলমের হাত থেকে এই উপহার গ্রহণ করে।

৭ম প্রবাস প্রজন্ম ২০১৫ আয়োজনে স্পনসর ছিলেন এমডি এস. ইসলাম নান্নু, বাদল চাকলাদার, হিমু উদ্দীন, নাসিরুল হাকিম, মামুনুর রশিদ, আহসান শামীম, হুমায়ুন কবীর, সানাউল হক, মাহবুবুর রহমান, মনজুর মোর্শেদ, শাহীন রহমান, মোবারক হোসেন হৃদয়, মণি ঠাকুর, সুনীল রায়, এশিয়ান ক্লাব, গ্রিন গ্লাস, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি, কে এস ইন্টারন্যাশনাল, জান্নাত হালাল ফুড, প্রবাসী হালাল ফুড এন্ড রেমিট্যান্স, মুকুল মুস্তাফিজ, মনির হোসেন কর্নেল, নাদিয়া কো. লিমিটেড, চৌধুরী শাহীন, মাহবুবুর রহমান খান, আশরাফুল ইসলাম শেলী, জসীম উদ্দিন, মাইনুল হক দিদার, সুজুকি রিপন, এশিয়ান বিজনেস নেটওয়ার্ক, আতিকুল হায়দার, এ জেড এম জালাল, ফজলে মাহমুদ মুক্তা, বি এম গোলাম মাসুম জিকো, নন্দী খোকন কুমার, কামরুল আহসান জুয়েল, মকবুল হোসেন, কামাল উদ্দিন টুলু, হোসাইন মুনীর, কবি মিল্টন, আঃ রাজ্জাক, কাজী এনামুল হক, সিরাজুল ইসলাম। মঞ্চসজ্জায় শিল্পী কামরুল হাসান লিপু।

সহযোগিতায় ছিল স্বরলিপি, উত্তরণ, কাহাল আর্ট গ্রুপ, প্রবাসীকল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ দূতাবাস, তানিয়া ইসলাম মিথুন, মৌ হোসেন, কাজী ইনসানুল হক, আনিসুর রহমান, জাহিদ হোসেন চৌধুরী, ফজলুর রহমান রতন, নাজিম উদ্দিন, দেশবিদেশ ওয়েব, বাংলাদেশ টাইগারস, নিহন বাংলা ডটকম প্রমুখ।
মিডিয়া পার্টনার ছিল বহুল পঠিত, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক’। সার্বিক যোগাযোগ, পরিকল্পনা, পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন ‘সাপ্তাহিক’ প্রতিনিধি রাহমান মনি।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Comments are closed.