“হাসি নেই গজারিয়া কৃষকের মুখে” : বোরোর বাম্পার ফলন

মোয়াজ্জেম হোসেন (জুয়েল): মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও শ্রমিকের মজুরি ও সারের দাম বৃদ্ধি এবং ধানের বর্তমান বাজার মূল্য কম ও প্রকৃতিক দূর্যোগ থাকায় কৃষকের মুখে হাসি নেই।

অপরদিকে উৎপাদন খরচ বেশি পড়ায় কৃষক পরিবারে আনন্দের চেয়ে নিরানন্দের হাওয়া বইছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ায় গত কয়েক বছরের মতো চলিত মৌসুমে নয়াকান্দিসহ সারা গজারিয়া বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে গজারিয়ায় উপজেলার সর্বত্র ঘুরে জানা যায় অধিকাংশ এলাকায় আগাম রোপিত বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। যার ফলে কৃষক পরিবারের সদস্যরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছে।এর মধ্যে টানা দু দিনে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ায় কৃষকরা রয়েছে আতঙ্কে।গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ফসলের সবুজ মাঠ ক্রমেই সোনালি হয়ে উঠছে। কৃষকরা জানিয়েছেন বোরো ধানের ক্ষেতে এবার পোকার আক্রমন তেমন ছিল না। সময়মতো সার,বীজ ও সেচকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় কয়েক বছরের মতো এবারো বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। রাজনৈতি পরিবেশ স্থিতিশীল হলে এবং ধানের ন্যাজ্য মূল্য পেলে তাদের মুখে হাসি ফুটবে।

সরেজমিনে দেখাযায়,গজারিয়ায় চলতি বোরো আবাদে যেদিক তাকানো যায় সর্বত্রই শুধু ধান আর ধান। সোনালি ধান দেখে সবার মন জুড়িয়ে যায়। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটা আর মড়াই কাজ,দিন-রাত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কৃষান-কৃষাণী থেকে শুরু করে ধান কাটা ও মাড়াই কাজে ব্যস্ত এলাকাবাসী।

কিন্ত ধানের বর্তমান বাজার মূল্য কম থাকায় কৃষকরা পড়েছে বিপাকে। ভবেরচর ইউণিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের কৃষক মোতালেব দেওয়ান,সোহেল প্রধান,মহশিন মুন্সী, শাহজালাল ভূইয়া বলেন চলতি বোরো আবাদে বাম্পার ফলন হলেও ধানের দাম নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। বর্তমান ধানের বাজার মূল্য প্রতিমন ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। অথচ শ্রমিক মজুরিসহ অন্য খরচ অনেক বেশি।তাই কী ভাবে যে কী করব,বুঝে উঠতে পারছিনা।এবার যে বাম্পার ফলন হয়েছে তাতে কৃষকের মুখে হাসি ফোটার কথা। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি ও সারের দাম বৃদ্ধিসহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ টানা বর্ষনে সঠিক সময়ে ফলন বাড়ীতে না নিয়ে আসা কৃষকের মুখে হাসি নেই।

গজারিয়া আলোড়ন

Comments are closed.