জাপান বিএনপির প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে
রাহমান মনি: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সরকারি ছত্রচ্ছায়ায় বিভিন্ন বাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন হত্যা, গুম ও নাটক সাজানোর প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাপান শাখা এক প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

২৩ মার্চ ২০১৫ (রোববার) টোকিওর কিতা সিটি হিগাশি জুজো ফুরেআইকান-এ আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন সহসভাপতি আলমগীর হোসেন মিঠু। এ সময় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা এবং উপদেষ্টা কাজী এনামুল হক।

সন্ধ্যাকালীন এই প্রতিবাদ সভায় দূর-দূরান্ত থেকে বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনসমূহের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
প্রতিবাদ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাপান বিএনপি। প্রবাসী সাংবাদিকবৃন্দ এবং বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি জাপান শাখার মুখপাত্র দলের সহসভাপতি আলমগীর হোসেন, শাখার মুখপাত্র দলের সহসভাপতি আলমগীর হোসেন মিঠু এক লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান।

লিখিত বক্তব্যে মিঠু বলেন, ভোটারবিহীন এক বিতর্কিত নির্বাচন খেলায় জগদ্দল পাথর হয়ে জনগণের কাঁধে চেপে বসা বাকশালী প্রেতাত্মার আওয়ামী লীগ সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ক্রসফায়ার, গুম, খুনসহ বিভিন্ন দমন-পীড়নের মাধ্যমে দেশের অন্যতম একক বৃহত্তম দল বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে বিনা বিচারে জেলে পুরে রাখছে। প্রথম সারির নেতারাও এর থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। আপনারা জানেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, দুঃসময়ে দলের মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহম্মেদকে রাতের অন্ধকারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বিনা আটকনামায় গ্রেপ্তার করে এখন অস্বীকার করছে দলের শীর্ষপর্যায় থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ পর্যন্ত।

লিখিত বক্তব্যে মিঠু আরও বলেন, দেশে আজ আর কেউই নিরাপদে নেই। নিরাপদ স্থানও নেই। বেডরুম থেকে শুরু করে অফিস, রাস্তাঘাট কোথাও বিন্দুমাত্র নিরাপত্তা নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সরকারের বিশেষ বাহিনী যাকে যখন ইচ্ছা ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণের দাবি ছিল স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। আর ২০০৮ সালের পর ক্ষমতায় এলে জনগণের দাবি হয়ে দাঁড়ায় ‘সৎকার করার নিশ্চয়তা চাই’। এভাবে চলতে থাকলে এর পর কী বলবে, তা ভাববার বিষয়। কিন্তু এভাবে দেশ চলতে পারে না। এজন্যই স্বাধীনতা আসেনি লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে। এমতাবস্থায় আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না।

আমরা সাংবাদিক ভাইদের জানান দিতে চাই, জাপান বিএনপি মনে করে সালাহউদ্দিনকে গুম করার জন্যই সরকার অপহরণ করেছে গ্রেপ্তারের নামে। আমরা অবিলম্বে সালাহউদ্দিনকে সুস্থ শরীরে ফেরত দেয়ার আহ্বান জানাই সরকারের কাছে। নতুবা এর চড়া মূল্য দিতে হবে। একই সঙ্গে বিরোধী মতের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে অবিলম্বে পদত্যাগ করে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি আপনাদের মাধ্যমে।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Comments are closed.