মুন্সীগঞ্জবাসী মীর সাহেব মাজারের ঐতিহ্য হারাতে চায়না

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মীরকাদিম পৌরসভার মীরাপাড়ায় অবস্থান করছে ধর্ম প্রচারক মীর সাহেবের ঐতিহ্যবাহী মীরাপাড়া মাজার। এই মাজারটি ইসলাম ধর্ম প্রচারের আলোচনার টেবিলে যেমন উঠে আসে। ঐতিহ্যের ভূমিকায় মুন্সীগঞ্জ তথা বাংলাদেশের অন্যতম নিদর্শন বহন করে হাজারো বছরের এই স্মৃতিময় চিহৃটি। ধর্ম সাধক এর ঐতিহ্যবাহী এই মাজারটির ঐতিহ্য কোন ভাবেই হারাতে চায়না না এই অঞ্চলের মানুষ, মীরাপাড়া অধিবাসী কুতুবউদ্দীন আহাম্মদ এই প্রতিবেদককে বলেন, মীরাপাড়া মাজারের পরিচালনা কমিটি নিয়ে এক যুগ ধরে চলছে নানা ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা। মামলা-হামলার মতো ঘটনাও এর থেকে বাদ পড়েনি।

সেই সময়কার মোতাওয়াল্লী হাজী শফিউদ্দিন এর কাছ থেকে দায়িত্ব নেবার পর রাতের অন্ধকারে তার বাড়ি ঘর ভাঙচুর এবং তার উপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এই ঘটনায় মাজার ভক্তদের মাঝে জমে নানা প্রশ্ন।

শুধু তাই নয়, এই মাজারের ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ঘটনায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের স্বরনাপন্নও হয়েছে আবার কেউ। মাজারের নিজস্ব সম্পত্তির বিষয় নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন। দীর্ঘ দিন ধরে চলমান এমন সব ঘটনায় ভক্তদের অনুভূতিতে মারাত্মকভাবে আঘাত আনে।

মীর সাহেব মাজার এর এক নারী ভক্ত বানেজা বেগম জানান, বিভিন্ন বাসনা পূরণের জন্য প্রতি সপ্তাহে সে মাজারে আসে, মানত করে এবং এর কোন কোন বিষয়ে সুফলও পায় সে। মাজারের দ্বন্ধের কথা শোনে তাদের ভয় হয়। সরল মনে বলে, কমিটিদের ঝামেলার কারনে এই মাজারের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে এই গুণী জনের দোয়াপাওয়ার কর্মকান্ডে। বানেজার মতো হাজারো ভক্তদের অভিযোগ প্রায় একই রকমের, তাদের সকলের চাওয়া পেশী শক্তির বলে নয়, নিয়ম অনুযায়ী যে এই মাজারের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পেয়ে থাকে সেই যেন নির্বিঘেœ এটার রক্ষণা বেক্ষনসহ পবিত্রতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারে। নতুন করে এই মাজার নিয়ে আর কোন ঝামেলা দেখতে চায়না তারা। হারাতে চায়না মুন্সীহঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মীর সাহেব মাজারের ঐতিহ্য।

বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেন জানান, দীর্ঘ ঝঞ্চা কাঁিটয়ে হাইকোর্টের নির্দেশে ৫ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারাবান তাহুরা তাদের মোতাওয়াল্লী হাজী শফিউদ্দিন আহাম্মেদ এর কাছে মাজার ও সিন্ধুকের চাবি বুঝিয়ে দিলেও সাবেক মোতাওয়াল্লী বা সেক্রেটারী মুহাম্মদ শহীদ উল্ল্যাহর কাছে থাকা মাজার সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র, রেজিষ্টার, দলিল দস্তাবেজ এবং ১২ বছরের জমানো টাকা ও এর হিসাব এখনও বুঝে পাচ্ছেনা তারা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ওয়াকফ এ্যাষ্টেটের সহকারী প্রশাসক মো.মোতাহার হোসেন খাঁন বলেন, কোর্টের আদেশ মানার জন্য আমরা পরিস্কার বলে দিয়েছি। শহিদুল্ল্যাহ সাহেব এটা না মানলে এর দায় দায়িত্ব তার নিজেরই নিতে হবে। সকল ঝঞ্চা দূরে সড়ে অতি শীঘ্রই সকল সমস্যার সমাধান হবে। রক্ষা পাবে ধর্ম প্রচারক মীর সাহেব মাজারের ঐতিহ্য, এমনটাই আশা করছে মীর সাহেব এর মাজার ভক্তবৃন্দ থেকে শুরু করে এই অঞ্চলের সকলে।

বাংলা সংবাদ

Comments are closed.