সহস্রাধিক জমি দালালের কাছে সিরাজদিখানবাসী জিম্মি

উপজেলার সর্বত্র দালালদের অত্যাচারে জমির প্রকৃত মালিকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। এসব দালাল জমির বিভিন্ন জাল পর্চা তৈরি করে প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। এতে ক্রমাগত কমে যাচ্ছে এলাকার ফসলি জমি। এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ জমির মালিকরা। জানা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ১৮৩টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি গ্রামে রয়েছে অসংখ্য দালাল। দালালরা জমি বিক্রি করে প্রচুর টাকা পাওয়ার আশায় জমির মালিকদের লাখ লাখ টাকা ক্ষতি করছে।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হওয়ায় উপজেলার কেয়ইন রশুনিয়া বালুচর, লতব্দী ও বাসাইল ইউনিয়ন এলাকায় শিল্পায়নের হাওয়া লাগায় প্রান্তিক উপজেলা সিরাজদিখানে প্রভাবশালীরা কম দামে জমি কিনে শিল্পকারখানা গড়ার নেশায় মশগুল। কৃষিজমি কম দামে হাতিয়ে নেয়ার জন্য প্রভাবশালীরা প্রতিটি এলাকায় রাতারাতি দালাল তৈরি করেছে।

এ ছাড়া সিরাজদিখান উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন হওয়ার ফলে প্রভাবশালীরা কারখানা করতে বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। টাকার লোভে পড়ে স্কুলশিক্ষক থেকে শুরু করে স্থানীয় বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, গ্রাম্য মাতুব্বর, মুদি দোকানদার, চা বিক্রেতা, কম্পিউটার অপারেটর, কিছু চাকরিজীবী লোভী মানুষ নেমেছে দালালিতে।

এদের সঙ্গে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কিছু দলিল লেখক, ভূমি অফিসের পিয়ন, চাপরাসি, গোমস্তাসহ দালাল চক্র তো রয়েছেই। বিশাল দালাল চক্র উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি করেছে নৈরাজ্য ও অশান্তিকর পরিস্থিতি। থানা পুলিশও জমিজমা সংক্রান্ত মামলা, অভিযোগ, জিডি ও সংঘর্ষের ঘটনাগুলো নিয়ে পড়েছে চরম বিপাকে। কোনো মামলারই শেষ পর্যন্ত সুরাহা হয় না। বছরের পর বছর বাদী-বিবাদীদের কোর্ট-কাচারিতে দৌড়ঝাঁপ তো হয়। দালাল চক্রের অপতৎপরতায় দিনকে দিন কমছে ফসলি জমি।

ভুক্তভোগীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সক্রিয় রয়েছে সহস্রাধিক দালাল। এদের জন্য নিরীহ জমির মালিকদের হয়রানির শেষ নেই। ফাঁদে ফেলে দালাল চক্র শেষ পর্যন্ত তাদের প্রভাবশালী ব্যক্তিটির কাছে জমি বিক্রিতে বাধ্য করে।

যুগান্তর

Comments are closed.