রেকর্ডরুমে শৃঙ্খলা নেই, বালাম বইয়ের পৃষ্ঠা উধাও!

মো. আল মামুন: মুন্সীগঞ্জ সদর রেকর্ডরুমের পৃষ্ঠা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুন্সীগঞ্জের রেকর্ডরুমের কর্মচারীদের অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

রেকর্ডরুম সূত্রে জানা যায়, এই বছরের গত ২৪ জানুয়ারি শ্রীনগর উপজেলার হরপাড়া মৌজার ১৯৯২ সালের একটি নকল কপি করেন নকল নবিশ গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। এর প্রায় এক মাস পরে ধরা পড়ে ১৯৯২ সালের ৮১৩ নং দলিলের ২৩ নং ভলিয়মের ৬৯-৭১ পৃষ্ঠা ছিড়ে ফেলা হয়েছে। কেউ এর দায় স্বীকার করেনি। এ ব্যাপারে শ্রীনগর সাব-রেজিস্টারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

অরক্ষিত রেকর্ডরুম: নাম প্রকাশ না করার শর্তে অফিসের একজন কর্মচারী সূত্রে জানা গেছে, রেকর্ডরুমের কর্মচারীরা খামখেয়ালী ভাবে কাজ করেন। অফিসের নিয়ম-বালাম থেকে নকল কপি করে দিনের মধ্যেই রেকর্ডরুমে জমা দিতে হবে। অধিকাংশ কর্মচারীই একটু বেশি লাভের জন্য রাত পর্যন্ত এমনকি কয়েকদিন বালাম বই তাদের কাছে থাকে। বালাম রাখার কক্ষের জানালায় শুধু থাই গ্লাস দেয়া হয়েছিল। ভারি লোহার গ্রীল লাগানো হয়েছে কয়েকদিন আগে। সরেজমিনে দেখা গেল, গুরুত্বপূর্ণ বালাম বইগুলোকে বস্তার মত আছড়ে ফেলা হচ্ছে। যারা তল্লাসী করেন তারা জনসাধারণের সামনেই অরক্ষিতভাবে বালাম বই নিয়ে তল্লাশী করছেন। ঠিকমত তল্লাশী না করেই সরকারি ফি’র বাইরে ইচ্ছেমত তল্লাশীর জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ এই অফিসে নিত্যদিনের ঘটনা।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ রেকর্ডরুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মুন্সী) মোখলেছুর রহমান জানান, রেকর্ডরুমের উশৃঙ্খলা ও খামখেয়ালী দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বালাম বইয়ের পৃষ্ঠা উধাওয়ের ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে। দোষিকে খুজে বের করে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে যাতে এমন করতে আর কেউ সাহস না করে।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

Comments are closed.