দুই যুগ ধরে লৌহজংয়ে জরাজীর্ণ ভবনে থানার কার্যক্রম

শেখ সাইদুর রহমান টুটুল: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে জরাজীর্ণ ভবনে চলছে লৌহজং থানার প্রশাসনিক কাজ। ৯৩ সালে পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়ে লৌহজং থানা ভবন, উপজেলা পরিষদ, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, কবরস্থান, খেলার মাঠ, হাটবাজারসহ বহু স্থাপনা। আর ভাঙনের ভয়াবহতা দেখে উপজেলা ভবন স্থানান্তর হওয়ার পর তাদের পরিত্যক্ত ভবনেই দুই যুগ ধরে কোন রকম জোরা তালি দিয়ে চলে আসছে থানা প্রশাসনের কাজ।

মুন্সীগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই থানাটি এখন অনেকটাই অবহেলিত থানা হিসেবে গণ্য। মালখানা, হাজতখানা, ডিউটি অফিসারের রুম কনেস্টবলদের থাকার রুমগুলো থেকে প্রতিনিয়ত ইটবালু আর সুরকি খসে খসে পড়ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ভাবেই চলছে থানার কাজ। কোনো রকম বৃষ্টি হলেই পানি আর ইট পাথরের গুঁড়ায় একাকার হয়ে যায় থানা ভবন।

ওসির জন্য কোনো বাসভবন না থাকায় পাশেই একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করেন তিনি। থানাটি পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবন হওয়ায় এ পর্যন্ত দুইবার হাজতখানার রড ভেঙে আসামি পালানোর ঘটনা ঘটেছে। চারদিকের দেয়াল আর বেষ্টনীর অবস্থা এতটাই নাজুক যে, যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনেকটা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে থানা ভবনটি। পাশেই পদ্মা নদী থাকায় নৌ টহলের কথা থাকলেও একটি মাত্র সিবোর্ট যা মেরামতের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ডাঙ্গায় পড়ে রয়েছে বিকল হয়ে। মাওয়া পদ্মা সেতু সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই থানাটিতে একটি মাত্র গাড়ি যা ভিআইপিদের টহলে বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকে। এছাড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের বাড়ি এই থানায় হওয়ায় তাদের বাড়ির নিরাপত্তার জন্য একটি গাড়ি এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের জন্য একটি গাড়ি খুবই প্রয়োজন।

তাই প্রতিদিন ভাড়ায় গাড়ি নিয়ে দশটি ইউনিয়নের দেড় শতাধিক গ্রামে টহল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ বাহিনীকে। তাই এদিকে উপজেলায় আইনশৃংখলা ঠিক রেখে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হয় অন্যদিকে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় এই জরাজীর্ণ ভবনটি নিয়ে। তা ছাড়া থানার সামনে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় মামলার আলামত সংরক্ষণের অভাবে এ গুলো বিনষ্ট হচ্ছে।

লৌহজং থানার ওসি রিয়াজুল হক জানান, লৌহজং থানা থেকে মুন্সীগঞ্জ সদরে যেতে কোনো পরিবহনের বাস না থাকায় অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে নিজস্ব খরচে সিএনজি অথবা বেবিটেক্সিযোগে আসামি আনা-নেয়া করতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো মামলার আসামি হলে তাকে আনা-নেয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। একটি মাত্র গাড়ি দিয়ে সব কাজ করা সম্ভব নয়। থানা ভবনটি খুবই পুরাতন ও জরাজীর্ণ। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান থানা ভবনটি সংস্কারের জন্য একাধিকবার উপর মহলে চিঠি দেয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার মহোদয় থানা ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। থানার নতুন ভবনের জন্য জায়গা দেখার কাজ চলছে।

যুগান্তর

Comments are closed.