শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকেন স্কুলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে

কোচিং সেন্টার নির্ভর হয়ে পড়েছে সিরাজদিখানের শিক্ষা ব্যবস্থা
সরকারের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থা এখন কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট পড়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা না দেয়ার কারণে এ অবস্থা হয়েছে।

জানা গেছে, এই উপজেলার প্রধান শিক্ষকরা অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকেন স্কুলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে। অন্য শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকেন প্রাইভেট টিউশনি বা কোচিং সেন্টারে পড়ানো নিয়ে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকলেও তারা সেখান থেকে পাঠ্যবই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা পায় না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যতোটা না থাকে তার চেয়ে বেশি উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় কোচিং সেন্টারে বা স্কুল শিক্ষকের বাসায়। উপজেলায় প্রায় অলিগলিতে গজিয়ে উঠেছে কোচিং সেন্টার। অনেক গ্রামাঞ্চলের শিক্ষকও স্কুল থেকে ফিরে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোচিং সেন্টারে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। নামিদামি শিক্ষকদের নাম ভাঙিয়ে স্কুলের পাশেই ছোট-বড় অনেক কোচিং সেন্টার গজিয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতির শিকার হয়ে শিক্ষার্থীদের শেষ পর্যন্ত প্রাইভেট টিউটরের কাছেই যেতে হচ্ছে। বেশিরভাগ শিক্ষকই স্কুলের চেয়ে বাসায় কোচিং পড়াতে আগ্রহী। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ শিক্ষার্থী গণিত এবং ইংরেজি বিষয় শিক্ষকের বাসায় গিয়ে পড়ে। প্রতি বিষয়ের জন্য তাদের মাসে ৮০০-১০০০ টাকা হারে বেতন দিতে হয়।

তারা জানিয়েছে, তাদের ক্লাসের প্রায় অনেকেই প্রাইভেট পড়তে হয়। প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ভালো নম্বর দেয় না। তাই বাধ্য হয়েও কখনো কখনো পাসের আশায় ঐসব স্যারদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হয়। কবে এই ঘুণে ধরা প্রথা বিলুপ্ত হয়ে ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা চালু এবং নতুন আঙ্গিকে শিক্ষকরা স্কুলে পাঠদান শুরু করবে সেই অপেক্ষায় রয়েছেন অভিভাবক মহল।

জনতা

Comments are closed.