জার্মান-জাপান যৌথ সংবাদ সম্মেলন

রাহমান মনি: জাপানে সফররত জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ৯ মার্চ ২০১৫ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উভয় নেতা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবে বলেন, এখন থেকে ঠিক আট বছর আগে ২০০৮ সালে হোক্কাইডোতে জি-এইট সম্মেলনে আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছিল, কথাও হয়েছিল। অনেক ইস্যুতে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলাম। দীর্ঘ আট বছর পর আজ আমরা আবার টোকিওতে মিলিত হতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি। আজও আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে উভয় নেতা শান্তিপূর্ণভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে ইউক্রেন সমস্যা সমাধান এবং পূর্ব ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও ইরাকে বিদ্রোহী আইএস দমনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেন, ১১ মার্চ ভূমিকম্পে এবং পরবর্তী বিপর্যয়ে জাপানে ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে আমার ব্যক্তিগত এবং জার্মানবাসীর এখনও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। আমরা মনে করি আমরাও এই শোকের অংশীদার। অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেন, আমাদের সামনে এখন অনেক চ্যালেঞ্জ। শুধু আল-কায়েদা নিয়ে চিন্তা করে এবং লাদেনকে শেষ করে নিশ্চিন্তভাবে বসে থাকলে চলবে না। আইএস-এর মতো বিদ্রোহী গ্রুপদের কঠোরহস্তে দমন করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো বিদ্রোহী গ্রুপের জন্ম না হয়। এই জন্য জাপান এবং জার্মানকে এক জোট হয়ে কাজ করতে হবে। ইউক্রেন সমস্যা নিয়ে আমাদের একমত হতে হবে। কারণ জাপান এশিয়ার নেতৃত্বে থেকে বিশ্ব নেতৃত্বে শক্ত অবস্থান গড়তে হলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে মিলে কাজ করতে হবে। এজন্য আমরা উভয় নেতা ২০১৫ সালের মধ্যে জাপান এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নিয়ে একটি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তুলতে একমত হয়েছি।

আগামী জুনে জার্মানে জি-সেভেন শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শীর্ষ বৈঠকে ইউক্রেন সমস্যাই হবে প্রধান আলোচ্য বিষয় উল্লেখ করে উভয় নেতা বলেন, জার্মান শীর্ষ বৈঠকের পর পরবর্তী জি-সেভেন বৈঠক হবে জাপানে। জাপান পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্ধারিত হয়ে আছে। তাই জুন মাসে জার্মান থেকে আনুষ্ঠানিক জাপান পরবর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করে পরবর্তী শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করতে হবে।

উভয় নেতা বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যাক্ত করেন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে। উভয় নেতা জাতিপুঞ্জ সেক্রেটারি কাউন্সিল পুনর্গঠনে জাপান এবং জার্মান সরকার ভারত এবং ব্রাজিলের সমর্থন নিয়ে স্থায়ী সদস্য পদ নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর ৭০ বছর পূর্তি এবং স্নায়ুযুদ্ধ-উত্তর ২৫ বছর পূর্তি পালিত হবে এই বছর। জার্মান এবং জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধি করে সম্পর্ক আরও মজবুত করার আশা ব্যাক্ত করেন উভয় নেতা।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Comments are closed.