দুই কলেজের বিরোধিতার শিকার এইচ.এস.সি পরীক্ষারথীরা

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার অন্যতম দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গজারিয়া সরকারি কলেজ ও কলিমুল্লাহ ডিগ্রী কলেজ। লেখাপড়ার মান উন্নয়ন, পাশের হার বৃদ্ধি ও সুনাম ধরে রাখতে প্রতিযোগিতা করে আসছে কলেজ দুটি। একটি অপরটির প্রতিদ্বন্দ্বীর মত শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কলেজ দুটি একটি অপরটি থেকে মাত্র ৪ কি.মি. পথ দূরত্বে হওয়ায় এক কলেজের শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষা গুলোর কেন্দ্র পরে অপর কলেজে।

প্রতি বছরের ন্যায় গত ১লা এপ্রিল শুরু হওয়া এইচ.এস.সি পরীক্ষার কেন্দ্র পরে এ দুটি কলেজেই। গজারিয়া সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার কেন্দ্র পরে কলিমউল্লাহ ডিগ্রী কলেজে, তেমনি কলিমউল্লাহ ডিগ্রী কলেজের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার কেন্দ্র পরে গজারিয়া সরকারি কলেজে।

তবে এবছর কোন এক কারনে দুই কলেজের সম্পর্ক তেমন একটা ভাল না হওয়ায় যার শিকার হয়েছে এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থীরা। এক এক করে ৪ টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে গেলেও কলেজে-কলেজে সম্পর্কের কোন উন্নতি হয় নি। পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগে পরীক্ষার্থীদের পড়নো জামা-কাপর, জুতা-মোজা খুলে চেক করা, বিভিন্ন ভয় ভিতি দেখিয়ে কঠোর চাপে পরীক্ষা নেয়া, হুমকি-ধমকি দেয়া সহ পরীক্ষকদের এমন আচরনে আতঙ্কে পরীক্ষা দিচ্ছে পরীক্ষার্থীরা।

শুধু তাই নয়, একটু এদিক সেদিক তাকালেই পরীক্ষার খাতা জমা নিয়ে যাচ্ছে, আর পরীক্ষা দিতে দিচ্ছে না পরীক্ষক। পরীক্ষার হলগুলো যেন এক ভূতুরে পরিবেশের রুপ ধারন করছে। এতে করে চরম আতঙ্কে ভুগছে পরীক্ষার্থীরা।

গজারিয়া সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী রোমান বলেন, কেন্দ্রে প্রবেশের পূর্বে আমাদের জামা-কাপর পর্যন্ত খুলে চেক করে প্রবেশ করায়। সকলের সামনে আমরা এতে করে লজ্জাবোধ করি। শুধু তাই নয়, পরীক্ষার হলে আমাদের অনেক চাপ দেন তারা। যার ফলে আমারা অনেক সময় লিখতে গিয়েও ভুলে যাই।

আরেক পরীক্ষার্থী ফারহানা বলেন, এমনিতেই এবছর ইংরেজী প্রশ্ন অনেক কঠিন হয়েছে, তার উপর স্যার আমাদের সাথে অনেক কঠিন আচরন করেন। কলেজ কতৃপক্ষদের সাথে বিরোধিতার ফল ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের।

এবাপারে কলেজ কতৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা এসব অস্বীকার করে বলেন, আমরা যথাযথ নিয়মেই আমাদের দায়িত্ব পালন করছি। আর কারো সাথে আমাদের কোন বিরোধিতা বা মনোমালিন্য নেই।

সবখবর

Comments are closed.