মৃত্যু রহস্যঃ ‘শাওনকে নিয়ে গেছে দয়াল’

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে স্কুলছাত্র শাওন শেখের মৃত্যু নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। ছয় দিন আগে একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে লাশ উদ্ধারের পর থানা পুলিশকে না জানিয়েই তার দাফন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা এটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করলেও এলাকাবাসীর সরলতার সুযোগে একটি চক্র প্রচার করছে যে, তাকে ‘মেলা বাড়ির দয়াল নিয়ে গেছে’। শাওন কুকুটিয়া কমলাকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র একই গ্রামের বাদল শেখের সৎছেলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মার্চ রাত ২টার দিকে শাওনের লাশ কুকুটিয়া গ্রামের শাহজাহান চিশতির মেলার (ওরস) পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে ওই মেলায় গাঁজা সেবনে শাওন বাধা দিয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিখোঁজের পর অনেক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শাওনের স্যান্ডেল পাওয়া যায় ওই পুকুরপারে। তার মোবাইলে ফোন দিলে সেখানে তা বেজে ওঠে। পরে পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানায়, গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়ায় শাওনকে খুন করা হয়েছে। গত ২৩ মার্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পূর্ব মুন্সীয়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

কুকুটিয়া উত্তরপাড়া মসজিদের সেক্রেটারি নূরুল আমিন দপ্তরী জানান, পুকুর থেকে উদ্ধারের পর শাওনের শরীরে জমাটবাঁধা রক্ত দেখা গেছে। তা ছাড়া তার শরীরে আঘাতের চিহ্নও ছিল।

কুকুটিয়া কমলাকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রতি বছর ওই মেলাকে ঘিরে গাঁজা সেবনসহ নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। তবে শাহজাহান চিশতির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

এলাকার কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, শাওনের লাশ উদ্ধারের পর বিষয়টি থানায় জানাতে দেওয়া হয়নি। বলা হয়, পুলিশকে জানালে ময়নাতদন্তের জন্য কয়েক লাখ টাকা দিতে হবে। আরো নানা ধরনের ঝামেলা হবে। একটি চক্র তখন প্রচার করে যে, তাকে মেলা বাড়ির দয়াল নিয়ে গেছে। ওই চক্রটিই এখন শাওনের দরিদ্র পরিবারকে মামলা করতে দিচ্ছে না। নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

কুকুটিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি রতন শেখ জানান, গাঁজা খাওয়ায় বাধা দিলে আসরের কয়েকজন মিলে স্থানীয় সুফল, মাসুম ও শাওনকে মারধর করে। এরপরই শাওনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে তিনি বলেন, শাওনের মৃতদেহ পাওয়ার পর ময়নাতদন্তও করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি মৃত্যুর খবরটি পর্যন্ত পুলিশকে জানাতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি এখন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রভাবশালী মহলটির সঙ্গে সখ্য থাকায় ঘটনা জানার পরও পুলিশ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। শাওনের লাশের ময়নাতদন্ত করলে তার মৃত্যুরহস্য বেরিয়ে আসবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে শাহজাহান চিশতির মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে এ সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছি। কিন্তু শাওনের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়নি। কেউ যদি তাদের হুমকিধমকি দিয়ে থাকে, তবে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’

কালের কন্ঠ

Comments are closed.