আবের সংবাদ সম্মেলন

রাহমান মনি: জাপানের ইতিহাসের ভূমিকম্প এবং এর ফলে সৃষ্ট সুনামি-পরবর্তী বিপর্যয়ের ৪র্থ বার্ষিকী পালন পূর্ববর্তী রাতে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। ১০ মার্চ ২০১৫ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার সব নামী দামি সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

স্বীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আবে বলেন, আগামীকাল ভূমিকম্পের চতুর্থ বার্ষিকী পালিত হবে জাপানে। প্রথমেই আমি ভূমিকম্প ও সুনামিতে যারা প্রাণ দিয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন তাদের সবার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। একইসঙ্গে সমবেদনা জানাচ্ছি তাদের প্রতি, যারা নিকটজন হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন, নিজ গৃহ হারিয়ে কষ্টকর জীবনযাপন করছেন।

আবে বলেন, আপনাদের প্রতি আমি অনুরোধ করব, দয়া করে আপনারা চোখ বুজে একটু কল্পনা করুন সেদিনের সব চিত্রই আপনাদের চোখের সামনে ভেসে উঠবে, যা আপনারা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে অবলোকন করেছিলেন। আমার অবস্থাও ঠিক একই। আমি চোখ বুজলেই আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সব। আমি প্রথমেই বিশ্ব মিডিয়া ও জাপানি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞচিত্তে ধন্যবাদ জানাই দুর্যোগে পাশে থাকার জন্য। জাপানি জনগণ এবং জাপানে বসবাসরত অভিবাসীদের সহযোগিতা না পেলে এমন বড় বিপর্যয় মোকাবিলা সম্ভব হতো না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১২ সালের শেষ নাগাদ আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যখন ফুকুশিমা সফর করি, তখন সেখানকার নাকাতা প্রাইমারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী নোজোমি যার নাম আমাকে অনুরোধ করে বলেছিল, আমি যেন ধ্বংস হয়ে যাওয়া তার প্রিয় বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিই, যেখানে নোজোমি তার বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, হৈ হুল্লোড়সহ শিক্ষা গ্রহণ করে একজন সুনাগরিক হবে।

নোজোমির অনুরোধ এবং তার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। সেখানে স্কুল হয়েছে। এ বছর ১৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হবে। নোজোমি এ বছর প্রাইমারি স্টেজের শেষ বর্ষে। আগামীতে জুনিয়র হাই স্কুলে উঠবে। কিন্তু নোজোমির উত্তরসূরিরা সেই স্কুলে যাবে, শিক্ষা নিবে। হয়তো একদিন দেশের হালও ধরবে। নোজোমি খুব সুখী। তবে সে তার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের জন্য এদিক সেদিক ছুটে যায়। খুঁজে বেড়ায় তাদের। এমন অনেকেই খুঁজে ফিরে প্রিয়জনদের।

আবে বলেন, আমি আপনাদের জানাতে চাই, অনেক সংকটের মধ্যেও প্রবল ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে সেখানকার জনগণ উঠে দাঁড়াচ্ছে। ফুকুশিমাতে থাকেন এমন একজন ভদ্রমহিলা আমাকে জানিয়েছেন, আমাদের অনেক সমস্যা এখনও বর্তমান তারপরও আমরা সামনের দিকে তাকাতে চাই। তাদের এই মনোবল দেখলে কাজ করার উৎসাহ পাই। আমার মনে পড়ে যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর জাপান পুনর্গঠনে সবার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আজকের জাপান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক চেষ্টার পরও বাস্তবতা হচ্ছে আশাপ্রদ সাফল্য অর্জন করতে পারিনি। এখনও ২ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৩ জন গৃহহারা। নিজ গৃহে ফিরে যাবার জন্য তারা উদগ্রীব। এসব মানুষের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগামী সামার থেকে আরও নতুন করে কাজ শুরু করে আগামী মার্চের মধ্যে আরও দশ হাজার গৃহ হস্তান্তর করব। গত সপ্তাহে ইওয়াতে রেললাইন, ফুকুশিমাতে জেআর (জাপান রেলওয়ে) জোবান লাইন কাজ শুরু হয়েছে।

শিনজো আবে বলেন, আগামী বছর জাপানে জি-সেভেন, ২০১৯ সালে বিশ্বকাপ রাগবী এবং ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের এখন থেকে সামনের দিকে তাকাতে হবে, বিশ্ববাসীকে দেখাতে হবে।

rahmanmoni@gmail.com
সাপ্তাহিক

Comments are closed.