সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারের প্রতিবাদে ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরের নতুনবাজার এলাকার সন্ত্রাসী আশরাফ বাহিনীর অত্যাচার থেকে মুক্তি ও তাকে গ্রেপ্তারের দাবীতে এলাকাবাসী মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ করে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত প্রায় পাচঁ শতাধিক নারী-পুরুষ ঢাকা-দোহার সড়কের বালাশুর বাসষ্টান্ডে অবস্থান নিয়ে গাড়ী চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিক্ষোভকারীরা নতুন বাজার এলাকার মুর্তিমান ত্রাস আশ্রাফ বাহিনীর অত্যাচার বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ব্যানার ফেষ্টুন নিয়ে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকে।

এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহন কারীরা আশ্রাফ বাহিনীর অত্যাচারের নানা রকম চিত্র তুলে ধরেণ। বালাশুর গ্রামের আ: সামাদ ব্যাপারী (৭০) জানান, আশ্রাফ বাহিনীর কাছে এই এলাকার কৃষক থেকে শুরু করে প্রবাসী সকলেই জিম্মি। গত কয়েক বছর ধরে নতুন বাজার এলাকার আশ্রাফ বেপারী বাঘড়া ইউনিয়নের রৌদ্রপাড়ার তাজেল বাহিনীর সাথে সখ্যতা গড়ে বাঘড়া,ভাগ্যাকুল ও রাঢ়িখাল ইউনিয়নে আশ্রাফ বাহিনী নামে একছত্র আধিপত্য গড়ে তুলে।

প্রায় একমাস আগে পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাজেল বাহিনীর শাহিন পুলিশের গুলিতে মারা গেলে আশ্রাফের অত্যাচারে অতিষ্ট জনগন মুখ খুলতে শুরু করে। তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারনে গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নতুন বাজার এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে আশ্রাফ তার বাহিনীর তোতা, বাবুল, মিঠু, সোহাগ, আলামিন, নাসির সহ ১৫/২০ জনকে নিয়ে সুমন মাদবর নামে (২৪) এক যুবককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ৭ টি দাঁত ফেলে দেয়।

সুমনের বোন ঝুমুর বেগম জানান তার ভাই সুমন তিন মাস পূর্বে সৌদি আরব থেকে দেশে আসলে আশ্রাফ তিন লাখ টাকা চাদা দাবী করে। শুক্রবার সকালে সুমন একথা বলার পর পরই আশ্রাফ তার ভাইয়ের উপড় ঝাপিয়ে পড়ে। সুমন এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এঘটনায় সুমনের ভাই ইব্রাহিম বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করে।

ওই এলাকার আ: খালেক মোল্লা (৬৫) জানান, নতুন বাজারের মিষ্টির দোকানদার ইলিয়াছের কাছে চাঁদা চেয়ে না পেয়ে তার দোকানের আসবাব পত্র ভাংচুর করে তালা লাগিয়ে দেয়।

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক হানিফ বেপারী জানান, ওই এলাকার মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রন আশ্রাফ বাহিনীর নিয়ন্ত্রনে। আশ্রাফের বড় ভাই আক্কাস আলী পুলিশের এসআই। বর্তমানে সে র‌্যাবে কর্মরত। এজন্য আশ্রাফের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করতে সাহস পায়না।

রহিমা বেগম (৭০) জানান, আশ্রাফ বাহিনীর কাছে এলাকার নারীরাও নিরাপদ নয়। কোন মেয়ের বিয়ে দিতে গেলে তার বাহিনীর কেউনা কেউ হস্তক্ষেপ করে। এর আগে সে এক প্রবাসীর স্ত্রীর নগ্ন ছবি মোবাইলে ধারন করে ছড়িয়ে দেওয়ায় ঐ গৃহবধুর সংসার ভেঙ্গে যায়।

Comments are closed.