হরতাল-অবরোধে অবিক্রিত সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন

মুন্সীগঞ্জের আলু চাষীদের স্বপ্ন ফিঁকে
সুমিত সরকার সুমন: বাংলাদেশের সর্ব-বৃহৎ উৎপাদনকারী অঞ্চল মুন্সীগঞ্জে টানা অবরোধ ও হরতালের কারনে রাজধানী ঢাকার উপকন্ঠ মুন্সীগঞ্জ জেলায় আলু কেনা-বেঁচায় ধ্বস নেমেছে। জেলার ৫০ হাজার আলু চাষীর মাথায় হাত ও স্বপ্ন ফিঁকে হয়ে আসছে।

আলু উত্তোলনের শুরুতে এবার লাভের মুখ দেখছেন চার্ষীরা। উপরন্তু হরতালের কবলে পরিবহনের অভাবে দেশের বড় বড় মোকামের পাইকাররা হাত গুটিয়ে বসে আছেন। মুন্সীগঞ্জের চার্ষীদের কাছ থেকে আলু কিনছেন না পাইকাররা। জেলা সদরের মোল্লাকান্দি, চরকেওয়ার ও আধারা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিনে ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

আলু উত্তোলনের শুরুতে বিএনপিসহ ২০ রাজনৈতিক দল আহুত টানা অবরোধ ও হরতালের কারনে পরিবহনের অভাবে এখন লাখ লাখ টন আলু বিক্রি বা বাজারজাত করতে হিমশিম খাচ্ছে চাষীরা। উৎপাদিত ১৫-১৬ লাখ বস্তাভর্তি আলু পড়ে আছে বাড়ির আঙ্গিনা ও জমিতে।

এ বিপুল পরিমানের আলু বাজারজাত করনে কোন যানকাহন পাচ্ছে না চার্ষীরা। দেশের আলুর ভান্ডার হিসেবে খ্যাত মুন্সীগঞ্জের বিশাল পরিমানের আলু অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। এরফলে আলু নিয়ে দুর্ভাবনায় পড়েছেন চাষীরা। আলু চাষীদের স্বপ্ন ধুসর হয়ে উঠেছে।

শুধু মাত্র সদর উপজেলার চরাঞ্চলের ৫ টি ইউনিয়নে কয়েক লাখ বস্তাভর্তি আলু পড়ে আছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র জানান, দেশের বৃহত উৎপাদনকারী অঞ্চল মুন্সীগঞ্জে এবার ৩৭ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে এবার প্রায় ১৩ লাখ মেট্টিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরতালের কারনে শুধু মাত্র জেলা সদরের মোল্লাকান্দি, চরকেওয়ার, শিলই, আধারা ও বাংলা বাজার ইউনিয়নের মাঠে-ময়দানে খোলা আকাশের নীচে কয়েক লাখ বস্তাভর্তি আলু স্তুপ আকারে রয়েছে।

জেলার ছয়টি উপজেলায় সচল ৬৭ টি কোল্ড ষ্টোরেজে সংরক্ষন করা সাড়ে ৪ লাখ মেট্টিক টন আলু বাদে বাকী সাড়ে ৮ লাখ টন আলু সংরক্ষন করতে হিমশিম চার্ষীরা। তাই বিপুল পরিমানের এ আলূ বাজারজাত করা ছাড়া চার্ষীদের কাছে কোন উপায় নেই।

জেলা সদরের চরাঞ্চল আধারা ইউনিয়নের তাঁতিকান্দি গ্রামের আলু চাষীরা বলেন- গেলো কয়েক বছরের লোকসান পুষিয়ে এবার লাভের স্বপ্ন দেখেছিলেন চাষীরা। কিন্তু উৎপাদন খরচ ও বর্তমান বিক্রি দর কাছাকাছি হওয়ায় আলু আবাদে চার্ষীরা লাভ-লোকসানের মাঝখানে পড়েছেন।
কোল্ড ষ্টোরেজেও সব আলু সংরক্ষন করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি উৎপাদিত আলুর বর্তমান দর অনুযায়ী লাভের মুখ দেখছেন না চাষীরা। উপরন্তু টানা অবরোধ-হরতালের কারনে কোল্ড ষ্টোরেজে সংরক্ষণ বাদে লাখ লাখ বস্তাভর্তি আলু বিক্রি করতে পারছেন না চার্ষীরা।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আল-মামুন জানান, চলতি বছর জেলায় ৩৫ হাজার ১’শ ৪৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে এবার ৩৭ হাজার ৬’শ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। হরতালে পরিবহনের অভাবে উৎপাদিত আলু দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে সরবরাহ করতে পারছেন না।

Comments are closed.