হরগঙ্গা কলেজের পাশ দখল করে বিপণিবিতান বসতবাড়ি

মুন্সিগঞ্জের খালইস্ট-মুন্সিরহাট-চিতলিয়া খাল
তানভীর হাসানঃ মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার খালইস্ট-মুন্সিরহাট-চিতলিয়া খালের মুন্সিরহাটসংলগ্ন বড় অংশ দখল করে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ ও এর গাড়ি রাখার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার খালইস্ট-মুন্সিরহাট-চিতলিয়া খালের খালইস্ট থেকে মুন্সিরহাট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকায় ১০টি স্থান প্রায় দখল হয়ে গেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মুন্সিরহাট অংশ। খাল দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বিপণিবিতান, দোকানপাট ও বসতবাড়ি।

ভূমি কার্যালয় থেকে খাল দখল করে তৈরি করা এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দখলকারীরা তা তোয়াক্কা করছে না। উল্টো খাল ভরাট অব্যাহত রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, আগে খালের এ অংশ দিয়ে নৌকা ও ট্রলার চলাচল করত। পরে তা আস্তে আস্তে দখল হতে থাকে। গত দেড় বছরের মধ্যে খালটি ব্যাপক আকারে দখল হয়ে যায়। খালের এই অংশে এখন পানি নেই।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার খালইস্ট-মুন্সিরহাট-চিতলিয়া খালের মুন্সিরহাটসংলগ্ন বড় অংশ দখল করে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ ও এর গাড়ি রাখার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি তোলা ছবি l

গত শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার সরকারি হরগঙ্গা কলেজের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এ খালের মুন্সিরহাটসংলগ্ন বড় অংশ দখল করে একটি পাঁচতলা আল আমিন সরকার কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। গাড়ি পার্কিংয়ের ইয়ার্ডটি পুরোটাই নির্মাণ করা হয়েছে খাল দখল করে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে খালের মুখ।
শপিংমলটির মালিক মোফাজ্জল সরকার বলেন, খাল ভরাট নিয়ে অনেক কিছু হয়ে গেছে। ভূমি অফিস নোটিশ দিয়েছে। তাই শপিংমলের সামনে ভরাটকৃত অংশের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহের জন্য একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেটি আবার অন্যদের ভরাটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।

শপিংমলের পাশেই খালের বড় অংশ দখল করে ওমর আলী ওয়ার্কশপ ইঞ্জিনিয়ার ও মদিনা স্টেশনারি অ্যান্ড স্যানিটারি নামের দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। মদিনা স্টেশনারি অ্যান্ড স্যানিটারির মালিক জহির আলী বলেন, ‘ভূমি অফিস থেকে সার্ভেয়ার এসে মেপে দিয়ে গিয়েছে। এর বাইরে আমি ভরাট করিনি।’ ওমর আলী ওয়ার্কশপ ইঞ্জিনিয়ারের মালিক রনি মৃধা বলেন, ‘আমি তো আর একা ভরি নাই। খালের সবখান দিয়াই সবাই ভইরা লাইতাছে। তাই আমিও তাদের দেইখা ভরাট করছি।’

সরেজমিন দেখা যায়, খালের পূর্ব পাশের লোকজনের দখলের কারণে এটি একদম সংকুচিত হয়ে গেছে। পাঁচঘরিয়াকান্দি স্থলে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি বেড়া দিয়ে বিশাল অংশ দখল করেছেন। এর পাশেই খালের গতিপথ বাধাগ্রস্ত করে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি বক্স কালভার্ট। সরকারি হরগঙ্গা কলেজের কাছে নির্মাণ করা হয়েছে কয়েকটি বাড়ি।

মুন্সিরহাটের ব্যবসায়ী মো. সিদ্দিক বলেন, খালটি মুন্সিরহাট থেকে পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে চিতলিয়া হয়ে পদ্মায় গিয়ে মিশেছে। কিন্তু মুখ ভরাট করে ফেলায় বন্ধ হয়ে গেছে এর পানিপ্রবাহ। অথচ ১০ বছর আগেও খালের এ অংশে বড় বড় ট্রলার চলেছে।

জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের পরিমাপকারী (সার্ভেয়ার) নুরে আলম ও কামরুল হাসান জানান, আরএস ৫৮১ নম্বর দাগের শিলমন্দি মৌজায় উত্তর-দক্ষিণ দিকে এ খালটি সরকারি খাল হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। খাল দখল করে নির্মাণ করা স্থাপনা সরিয়ে নিতে পাঁচ মাস আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ তা শুনছে না।

মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এ কে এম ইরাদত (মানু) বলেন, এই খাল জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। পরিবেশ রক্ষায় দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান।

প্রথমআলো

Comments are closed.