ঘুষ : জাটকা ব্যবসায়ীদের আটকের পর ছেড়ে দেন

সিরাজদিখানের মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে জাটকা ব্যবসায়ীদের আটকের পর শাস্তি না দিয়ে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. হেদায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৌশলে জাটকা বিক্রেতাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাদের ছেড়ে দিচ্ছেন। গত শনিবার রাতে এক জাটকা বিক্রেতাকে আটক করে মৎস্য কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন বলেও জানান তাঁরা। তবে মৎস্য কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ‘ছেড়ে দেয়নি, পালিয়ে গেছে।’

তাঁরা জানান, বাদল রাজবংশী নামে এক জেলেকে ১০ কেজি জাটকাসহ আটক করেন মৎস্য কর্মকর্তা। পরে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়ে এবং কোনো মামলা না দিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।

এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে রাজানগর গ্রামের সবুজ শেখ বলেন, জাটকা মাছ ধরা ও বিক্রি করলে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার আইন রয়েছে। কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তা হেদায়েত হোসেন কিভাবে টাকার বিনিময়ে বাদল রাজবংশীকে ছেড়ে দিলেন?

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হেদায়েত হোসেন, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক ও অফিস সহকারী মো. শহিদুল্লাহ জাটকা বিক্রেতাদের ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জাটকা বিক্রেতাকে ধরে জেল-জরিমানা না করে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওনক আফরোজা সোমা বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে দেখব।’

কালের কন্ঠ

Comments are closed.