অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন : সিরাজদিখানে ধলেশ্বরী শাখা নদীতে

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ধলেশ্বরী শাখা নদী (তালতলা-বালিগাঁও খাল) থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ধলেশ্বরীর এই শাখা নদীতে তালতলা থেকে বালিগাঁও পর্যন্ত ৫টি স্পটে মিনি ড্রেজার দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে বিরামহীন ভাবে চলছে মালখানগর ইউনিয়নের নাটেশ্বর এলাকায় বালু উত্তোলন। প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে নিরব। এতে করে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছেন। আর অবৈধ ভূমিদস্যুরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ কাজ, তারা রয়েছেন নিরব ভুমিকায়।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিনি ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে এলাকার কিছু নিচু বাড়ি ঘর, জমি ভরাট করা হচ্ছে। শ্রমিকদের সাথে কথা বললে তারা জানান আমরা কাজ করি এর বেশি কিছু বলতে পারবো না। আলমগীর ও এনায়েত বালু উত্তোলন করছে তারা বলতে পারবে। তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন কাগজ আছে দুইদিন পর আসেন। আমাদের যে প্রধান মিজানুর রহমান তার সাথে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, নাটেশ্বর স্কুলের একটা নিচু জমি ভরাট করার জন্য অনুমোতি চেয়ে ডিসি অফিসে আবেদন করেছে। আবেদনের রিসিভ কপি দেখিয়ে তারা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে। এর আগে টঙ্গিবাড়ি থানার সিমানায় বালু উত্তোলন করার সময়, ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে জরিমানা করে এবং দুজনকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর এখন সিরাজদিখানের সিমানায় বালু উত্তোলন শুরু করেছে তারা। আমরা বাঁধা দিলে আমাদের সমস্যা হবে। প্রশাসন আসে চলে যায় তাদের কিছুই হয় না।

মধ্যপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান মুল হোতা আর আলমগীর ও এনায়েত পার্টনার। এছাড়া তারা যেখান থেকে বালু উত্তোলন করছে তার একটু দক্ষিণে টিটু ও মকবুল নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে। পাশের জমি ধ্বসে ফসলী জমি নষ্ট হচ্ছে। তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। বালু উত্তোলনের পাড় ভাঙ্গার পাশে আমাদের জমি থাকায় বর্ষার পানি আসলেই ভেঙ্গে পরবে। এরপর পাড়ের কাছাকাছি আমাদের ও যাদের বাড়িঘর রয়েছে তাও ভেঙ্গে যাবে, তখন আমাদের কে দেখবে, আমরা কোথায় যাব। সরকারের কাছে আমাদের দাবী নদী ড্রেজিং করলে আমাদেরও ভালো কিন্তু তা পরিকল্পিত ভাবে হওয়া উচিত। ইজারা দিলে সরকার রাজস্ব পাবে, জমি ভাঙ্গা ও পাড় ভাঙ্গা থেকে আমরাও রক্ষা পাব।

এ ব্যাপারে মিজান জানান, আমি জরিত না। আমার জমি ভরাটের জন্য ৭৩ হাজার টাকা দিয়াছি। এখনো আমার জমি ভরাট না করে সরে রয়েছে আমিও আলমগীর কে খুঁজছি।

সিরাজদিখান থানার এস আই রুহুল আমিন জানান, খবর পেয়ে আমি গিয়েছি লোক পাই নি। তবে ওখানে ডেড়া ঘর ছিল তা ভেঙ্গে দিয়েছি। পাড়ের মেশিন ও পাইপ ছুটিয়ে দিয়েছি।

বাংলাপোষ্ট

Comments are closed.