ভূমিকম্পের চতুর্থ বার্ষিকী

রাহমান মনিঃ বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসায় জাপানে পালিত হয়েছে ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে মহাবিপর্যয়ের চতুর্থ বার্ষিকী। এ উপলক্ষে এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি টোকিওতে সরকারিভাবে এক শোক ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। ২০১১ সালের ১১ মার্চের এই দিনে দুপুর ২-৪৫ মিনিটের সময় ৮.৯ মাত্রার ভূমিকম্পটি প্রথম আঘাত হানে জাপানের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের ইওয়াতে প্রিফেকচারে।

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য রাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে যার বেশিরভাগই ছিল প্রার্থনাময়। কেন্দ্রীয় সরকার টোকিওর ন্যাশনাল থিয়েটারে ১১ মার্চ বুধবার অপরাহ্ণে এক স্মরণসভার আয়োজন করে। স্মরণসভায় জাপানের সম্রাট আকিহিতো এবং সম্রাজ্ঞী মিচিকো, প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সরকারগুলোর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ এবং পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ২-৪৬ মিনিটের সময় নিহত এবং নিখোঁজদের স্মরণে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়ায় পুরো জাপান। অভিবাসীরাও তাতে অংশ নেয়।

জাপান পুলিশ প্রদত্ত সর্বশেষ (১০ মার্চ ২০১৫) হিসাব অনুযায়ী ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ১৫ হাজার ৮৯১ জন নিহত এবং ২ হাজার ৫৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভূমিকম্প এবং সুনামিজনিত কারণে ইওয়াতে, মিয়াসি এবং ফুকুশিমা এই তিন প্রিফেকচারে পরোক্ষভাবে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সর্বশেষ হিসাবমতে ৩ হাজার ২২২ জন নিহত এবং ২ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৩ জন এখনও বসতভিটা ছাড়া জীবনযাপন করে বেড়াচ্ছেন।

জাতীয় থিয়েটারে আয়োজিত স্মরণ সভায় সম্রাট আকিহিতো বলেন, যখনই আমি সেই দিনটির কথা স্মরণ করি তখনই আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। আমার হৃদয় ভেঙে খান খান হয়ে যায়। যারা বেঁচে আছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান সম্রাট আকিহিতো। তিনি বলেন, আমি জানি আপনাদের এই ক্ষতি পূরণীয় নয়, তবুও আপনাদের সামনে তাকাতে হবে। জাপান পুনর্গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান সম্রাট আকিহিতো।

সাপ্তাহিক

Comments are closed.