বিলুপ্তির পথে লৌহজংয়ের তামা কাসা ও পিতল শিল্প

হাতুরির শব্দ আর ঝনঝনানি আওয়াজে আজ আর কারোও ঘুম ভাঙ্গে না। অথবা সময় হয়েছে কাজে যেতে হবে এমনটি ও মনে হয়না কারো। আজ আর পালের বাজার নেই, নাগের হাটের নাগ পরিরাও যেন ঘুমিয়ে পরেছে অনেক আগেই। পদ্মার কড়াল গ্রাসে আজ অনেকটাই নিস্ব এই পেশার মানুষ গুলো সাধ থাকলেও সাধ্য যেন অনেকটাই জিমিয়ে পরেছে তাদের। দিঘলীর পালের বাজার আর নাগের হাটের দেড় শতাধিক তামা কাসা আর পিতলের দোকান এখন এসে দাড়িয়েছে মাএ ৩ থেকে ৪ টি দোকানে। তাও আবার অর্থের অভাবে এই শেষ স্মৃতি টুকু বিলীন হতে বসেছে।

কনকসার বাজারের কাসারু পট্টির রিপন শিকদার ২২ বছর ধরে কারীকর হিসেবে এ পেশায় নিয়োজিত আছেন। মালিকরা অনেকেই এই ব্যবসা ছেরে দেয়ায় তিনি নিজেই মালিক হিসেবে এই ব্যবসার হাল ধরেছেন তাতেও যেন শেষ রক্ষা হচ্ছে না। কারন অর্থের অভাবে এই শিল্প এখন অনেকটাই মুখ থুবরে পড়েছে। তাছারা পদ্মার ভাঙ্গনে পালের বাজার বিলীন হওয়ার পর থেকেই এ ব্যাবসার অনেকটা ধস নেমেছে। মেলামাইন আর ঝকঝকে স্টিলের ব্যবহারে তামা কাসা আর পিতলের ব্যাবহার এখন অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।

এক সময়ের হাড়ি পাতিল, পুজার বাটা,মালসা,পুজার কলস,গ্লাস,থালা, পানের বাটা, মগ, কুপি বাতি, কলস, চারি ইত্যাদি তৈরী করা হতো এবং এসব জিনিসের খুব কদর ও ছিলো আজ কালের গর্বে হারিয়ে যেতে বসেছে এসব পুরোনো সব ঐতিহ্য। কনকসার গ্রামের শামসুন্দর কংস বনিক জানান, তার কারখানায় ৩জন পুরুষ শ্রমিক আর ৭জন নারী শ্রমিক রয়েছে যাদের দিয়ে বর্তমানে চলছে এই ব্যবসা।

মজুরী হিসেবে তাদেরকে দিতে হচ্ছে কেজি প্রতি ৪০ টাকা, এক জন শ্রমিক দিনে ১০ থেকে ১২ কেজি তামা কাসা ও পিতলের কাজ করতে পারেন, এখান থেকে এক জন শ্রমিক দিনে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা রোজগার করতে পারেন অনায়েসে। নারী শ্রমিকরা তাই ঘরে বসে সংসারের কাজের পাশাপাশি হাড়ি পাতিল ও থালা মগ বানানো কাজটি করছে। সংসারের অন্যসব কাজ সেরে অবসর সময়ে একাজ করে ভাল আয় ও করছে তারা। মার্কেটে এই জাতিয় জিনিসের চাহিদা হলে তখন চাহিদা অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে ৮/১০ মন মাল তৈরি করতে পারে একজন ব্যাবসায়ী। বর্তমানে বাজারে তামার দর রয়েছে – ৬৫০ টাকা, কাসা – ১,৬৫০ টাকা, পিতল – ৪৯০ টাকা। এসব জিনিসের চাহিদা বাজারে খুব একটা না থাকায় আগ্রহ হারাচ্ছে অনেকেই। আবার অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে সব কিছু গুটিয়ে।

যেখানে দুইটি বাজারে দেড় শতাধিক দোকানে চলতো এই ব্যাবসা সেখানে সারা লৌহজং উপজেলায় কনকসার বাজারে মাএ ৩ টি কারখানা রয়েছে তামা কাসা ও পিতলের। কারখানার মালিকরা জানান, বর্তমানে অর্থের অভাবে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি এক সময় কালের গর্বে হারিয়ে যাবে। ব্যাবসায়ীদের দাবি এ শিল্প বাচাঁতে এবং তাদের আর্থিক সহযোগিতা দিতে সরকারী ব্যাংক গুলো এগিয়ে এলে এবং সহজ উপায়ে তাদের ব্যাংক লোনের ব্যাবস্থা করে দিলে এই শিল্পটি বাচিঁয়ে রাখা সম্ভব।

বাংলাপোষ্ট

Comments are closed.