আলুর বাম্পার ফলন : দুশ্চিন্তায় মুন্সীগঞ্জের চাষীরা

মুন্সীগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ আলু উৎপাদন সত্ত্বেও চাষীদের মুখে হাসি নেই। হরতাল-অবরোধে উৎপাদিত আলু বাজারজাত করতে একদিকে পরিবহন সংকট প্রকট, অন্যদিকে ক্রেতাশূন্য আলুর বাজার। জমি থেকে উত্তোলন শেষে অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে আলু।

জেলা শহর সংলগ্ন ছোট কাটাখালী গ্রামের চাষী মমিন আলী জানান,জমি থেকে আলু কিনতে এবার পাইকার বা খরিদারদের দেখা মিলছে না। আবার উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে আলুর দামও অনেক কম।

তিনি জানান, এবার ৬ লাখ ৮৬ হাজার টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার স্থলে ১২ লক্ষাধিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে।

দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর বড় বড় আলু মোকামের পাইকার এবার আলু কিনতে জমিতে ছুটে আসছেন না। স্থানীয় খরিদাররা রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা ভেবে চাষীদের কাছ থেকে আলু কিনছেন না। এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়েছে ১০-১১ টাকা। এর সঙ্গে জমি থেকে আলু উত্তোলন, বাজারজাতকরণে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ তো রয়েছেই। অথচ স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে ৮ থেকে ৯ টাকা কেজি দরে আলু বেচাকিনি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আব্দুল আজিজ জানান, এবার জেলায় ৩৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ হাজার হেক্টর জমি। আর আলু উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ।

তিনি জানান, জেলায় সচল ৬৬টি কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষণ করা যাবে সাড়ে ৪ লাখ টন আলু। বাকি আলুর বেশিরভাগই দেশের বিভিন্ন হাট-বাজার ও বড় বড় মোকামে বিক্রি করতে হবে। কিন্তু চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চাষীর সেই আশায় গুড়ে বালি।

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.