প্রতিভা বসুর জন্মশতবর্ষ : ঢাকাপর্ব

পিয়াস মজিদঃ আজ ১৩ মার্চ, প্রতিভা বসুর জন্মশতবর্ষ। সরযূবালা সোম ও আশুতোষ সোমের কন্যা ঢাকার রানু সোমই উত্তরকালে বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কথাশিল্পী প্রতিভা বসু। তাঁর জন্মগ্রাম তৎকালীন ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগনার হাঁসাড়া গ্রাম, যা বর্তমান বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার অন্তর্গত। উল্লেখ্য, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণারও বিয়ে হয় একই গ্রামের সন্তান ব্যারিস্টার সুধীর রায়ের সঙ্গে। এই দম্পতির সন্তান ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। প্রতিভা বসুর জন্মশতবর্ষে তাঁর জন্মগ্রামে গিয়ে দেখা গেল রাজনীতির কল্যাণে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের নাম অনেকে জানলেও গ্রামবাসীর কেউ জানেন না বিখ্যাত লেখিকা প্রতিভা বসুর নাম। তাঁর জন্মভিটাটি এ গ্রামের কোথায়, এটিও অজানা বেশির ভাগের। অবশ্য অনেকেই দেখেছেন সাড়া জাগানো বাংলা চলচ্চিত্র পথে হলো দেরি, আলো আমার আলো, বিবাহিতা স্ত্রী; যদিও একেবারেই জানেন না এসব চলচ্চিত্রের কাহিনিকার তাঁদেরই গ্রামের কৃতী সন্তান প্রতিভা বসু।

২.
প্রতিভা বসুর অনন্য আত্মজীবনী জীবনের জলছবি-এর অনেকটা জুড়ে আছে ঢাকার স্মৃতিময় বর্ণনা। বুদ্ধদেব বসুর জন্মশতবর্ষে প্রতিভা-বুদ্ধদেবের কনিষ্ঠা কন্যা দময়ন্তী বসু সিং ‘বাবার কথা’ শীর্ষক স্মৃতিলেখে যথার্থই লিখেছেন, ‘বুদ্ধদেব বসুর জীবনের সঙ্গে অচ্ছেদ্য বন্ধনে যুক্ত ছিল ঢাকা শহর, যেমন ছিল আমার মা ঢাকার বিখ্যাত গায়িকা রানু সোম থেকে কলকাতার বিখ্যাত লেখিকা হয়ে ওঠা প্রতিভা বসুর জীবনও।’ (প্রথম আলো, ২৮ নভেম্বর ২০০৮)

প্রতিভা বসু (১৩ মার্চ ১৯১৫-১৩ অক্টোবর ২০০৬), ছবি: নাসির আলী মামুন, ফটোজিয়াম

কৃষি কর্মকর্তা বাবার চাকরিসূত্রে প্রতিভারা থেকেছেন ঢাকার মণিপুর ফার্ম, আজিমপুর, বনগ্রাম, ওয়ারী, টিকাটুলি প্রভৃতি এলাকায়। ঢাকার ইডেন স্কুলের ছাত্রী থাকাকালে হিজ মাস্টার্স ভয়েসে তাঁর গান রেকর্ড হয়। এর বর্ণনা আছে জীবনের জলছবিতে, যার মধ্য দিয়ে তখনকার সাংগীতিক পরিবেশের একটি চিত্রও ফুটে ওঠে—
রেকর্ড করতে তখন আমাকে কলকাতা আসতে হয়নি। কর্মকর্তারা ঢাকাতে গিয়ে মেশিন ফিট করেছিলেন। টিকাটুলিতে সুশংয়ের রাজার একটি বাড়ি ছিল। সেই বাড়িটিতেই যন্ত্র ফিট করা হয়েছিল, সেখানে গিয়েই গান গেয়েছিলাম আমি। তখন মাইক ছিল না, ধুতুরা ফুলের মতো দেখতে মস্তবড় এক চুঙির ভিতর মুখ দিয়ে গান গাইতে হতো। বোধহয় তিনখানা না চারখানা রেকর্ড করা হয়েছিল। তার মধ্যে অতুলপ্রসাদ সেনের ‘বঁধুয়া নিদ নাহি আঁখি পাতে’ গানটি ছিল। এই রেকর্ডটি বেরুবার পরে আমি কিঞ্চিৎ বিখ্যাত হয়ে গেলাম। নানা জায়গায় নানা কারণে গানের ডাক পড়ত আমার। একবার একটা স্বদেশি সভায় গান গেয়ে সরলা দেবীর নজরে পড়ে গেলাম। তিনি তখন বীরাষ্টমী ব্রত উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথের ‘মায়ার খেলা’ নাটকটি অভিনয় করবার জন্য গানের মেয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। ঢাকার সেই কনফারেন্সে তিনি সভানেত্রী হয়ে এসেছিলেন, উদ্বোধন সংগীত, বন্দেমাতরম গাওয়া এসব ক্ষেত্রে আমার একচেটিয়া ছিল। সেই গান শুনেই আমাকে সংগ্রহ করলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কলকাতা এলাম।

ঢাকায় তিনি গান শিখেছেন ওস্তাদ চারু দত্ত, মেহেদী হাসান, ভোলানাথ মহারাজ, গুল মোহাম্মদ খাঁ, প্যারীন্দ্র বসাক প্রমুখের কাছে। বাংলা সংগীত ও সাহিত্যজগতের বিশিষ্টজন দিলীপকুমার রায় ঢাকা ভ্রমণে বিখ্যাত বিজ্ঞানী অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বসুর রমনার বাড়িতে গানের জলসা আয়োজন করলে সেখানে শহরের আরও অনেক বিশিষ্টজনের সঙ্গে আমন্ত্রিত ছিলেন পিতাসহ প্রতিভা বসু। হিজ মাস্টার্স ভয়েসে রেকর্ডের সূত্রে রানু সোমের নাম আগেই জানতেন দিলীপকুমার; সেদিনের জলসায় পরিচয়ের পর কিছুকাল ঢাকাবাসে তিনিও রানুর গানের শিক্ষক হন। তাঁর কাছ থেকে রানু শিখেছেন ডি এল রায়, অতুলপ্রসাদ এবং সবচেয়ে বেশি নজরুলের গান।

সত্যেন বসুর বাড়িতে দিলীপকুমারের কাছে গান শিখতে গিয়েই একদিন দেখলেন বুদ্ধদেব বসুকে, যিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র হিসেবে সুপরিচিত, সবান্ধব থাকেন পুরানা পল্টনে, অজিত দত্তসহ বের করেন সাহিত্যপত্র প্রগতি। যদিও বুদ্ধদেবের সঙ্গে আলাপ তাঁর কলকাতা যাওয়ার মাস দুয়েক আগে; দিলীপকুমার রায় প্রেরিত কয়েকটি পত্রিকা বুদ্ধদেবকে পৌঁছে দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানাতে তিনি নিজেই এসেছিলেন রানুদের বাসায়। বুদ্ধদেব সম্পর্কে প্রতিভার কৌতূহল অবশ্য আরও আগে থেকেই। তাঁরই ভাষ্যে, ‘একদিন সন্ধ্যাবেলা পুরানো পল্টনের মাঠে বেড়াতে গিয়ে বুদ্ধদেব বসুর আড্ডাখানা এবং বাসস্থান টিনের ঘরটাও দেখে এসেছি, উঁকিঝুঁকিও মেরেছি।’ এ ছাড়া কবিবন্ধু সুফী মোতাহার হোসেনের উৎসাহে বুদ্ধদেবের প্রগতি পত্রিকায় প্রতিভা তাঁর কবিতাও পাঠিয়েছিলেন; যদিও তত দিনে সে পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে বলে বুদ্ধদেব পত্রান্তরে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।

৩.
বনগ্রামপাড়ায় এক বিষণ্ন বিকেলবেলাকে ঝোড়ো হাওয়ার মতো উড়িয়ে এলেন কাজী নজরুল ইসলাম—

দরজা খুলে দেখলাম, বাঙালির তুলনায় একটু বেশিই স্বাস্থ্যবান এবং সুশ্রী এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন দরজায়, এক মুখ হেসে গায়ের গেরুয়া চাদর সামলাতে সামলাতে আমাকে ঠেলেই প্রায় ঢুকে এলেন ঘরে। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বললেন, ‘তুমিই নিশ্চয় রানু? বলো ঠিক ধরেছি কি না? তুমিই মন্টুর ছাত্রী তো?’ মন্টু মানে দিলীপদা। দিলীপদার ডাকনাম মন্টু।

‘আমি নজরুল ইসলাম।’ খোলা গলায় হাসলেন। নজরুল ইসলামের বয়স তখন বত্রিশ-তেত্রিশ অথবা বেশি। যৌবন তাঁর চোখে-মুখে, সারাক্ষণ হাসি সমস্ত শরীরে নদীর স্রোতের মতো বহমান, বেগবান। সেই বয়সে যাঁরা তাঁকে দেখেছেন শুধু তাঁদেরই বোঝানো যাবে কী দু’কূলপ্লাবী আনন্দধারা দিয়ে গড়া তাঁর চরিত্র। মস্ত বড় বড় কালো টানা চোখ, এলোমেলো ঘন চুলের বাবরি, তীক্ষ্ণ নাসিকা, ঘষা তামার মতো রং, সহজ সরল অদাম্ভিক ব্যবহার, উদ্দাম হাসি, উচ্ছ্বাসপ্রবণতা—সবটা মিলিয়ে একটা ব্যক্তিত্ব বটে।

সে যাত্রায় এক মাস ঢাকা অবস্থানকালে প্রায় প্রতিদিনই নজরুল আসতেন রানুদের বাড়ি। আবদুল মান্নান সৈয়দের সঙ্গে নজরুল-বিষয়ক এক সাক্ষাৎকারে প্রতিভা বসু বলেছেন, ‘ওঁর তখনকার সমস্ত গান আমাকে উজাড় করে শিখিয়েছিলেন’ (প্রথম আলো, ১৭ নভেম্বর ২০০৬)। রানুদের বাড়িতে জন্ম হয়েছে নজরুলের বেশ কিছু কালজয়ী গানের। নজরুল প্রসঙ্গে প্রতিভা বসুর লেখায় আরও এসেছে তাঁর বন্ধু কাজী মোতাহার হোসেন, বর্ধমান হাউস আর ঠাটারীবাজার মোড়ে নজরুলের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা প্রসঙ্গ।

প্রতিভা বসুর আত্মজীবনী জীবনের জলছবি

৪.
প্রতিভা বসুর রচনা থেকে সেকালের ঢাকার যেসব চরিত্রবৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায়, সেসবের কয়েকটির উল্লেখ আছে তাঁর জবানিতেই—‘ঢাকা সব সময়েই দুটি ব্যাপারে খুব উত্তাল। এক: সংগীত, আর: রাজনীতি’, ‘ঢাকার সবচেয়ে রহস্যময় পুরী মাইলজোড়া দেয়ালঘেরা বলধার জমিদারবাড়ি’, ‘ঢাকার সবচেয়ে ভদ্রপাড়া ওয়ারী’, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তখন বিখ্যাত ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার, বৈজ্ঞানিক সত্যেন বসু—এসব রত্ন নিয়ে সমৃদ্ধ ছিল’ ইত্যাদি।

তৎকালীন ঢাকার যে কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘটনার সবিস্তার উল্লেখে ঋদ্ধিমান প্রতিভা বসুর আত্মকথা তার মধ্যে আছে—লীলা নাগের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম নায়ক অনন্ত সিংহের ফাঁসি রদ মামলার অর্থসংগ্রহের জন্য ঢাকার নবাববাড়িতে গানের আসর, বলধার জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর বাড়িতে বাগানবিলাস, সংগীতচর্চা ও জমিদারের তরুণ তনয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিবরণ। ঢাকা সেকালে কতটা বৃক্ষ ও পুষ্পময়ী ছিল তার উল্লেখের পাশাপাশি লালমোহন সাহার ঠাকুরবাড়িতে ঝুলন উৎসবের রূপছবিময় বর্ণনা এই নগরের সাংস্কৃতিক জীবনের চমৎকার চিত্র ধারণ করে। বিপ্লবমুখর ঢাকার চালচিত্রও খুঁজে পাওয়া যায় জীবনের জলছবিতে। বিনয়-বাদল-দীনেশ বাহিনীর দাঙ্গা-সন্ত্রাসবিরোধী ওয়ারী অভিযানের চাঞ্চল্যকর বর্ণনায় ভাস্বর প্রতিভা বসুর স্মৃতির কলম। পাড়া-মহল্লার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জনা দশেক স্বদেশি বিপ্লবী গেরিলা কায়দায় সাত-আট শ দাঙ্গাবাজ আক্রমণকারী ও ইংরেজ পুলিশ ঠেকানোর রোমহর্ষক যে ইতিবৃত্ত তাঁর লেখায় বর্ণিত হয়েছে, তা যেন গোয়েন্দা কাহিনিকেও হার মানায়।

ঢাকার নাট্যচর্চার ইতিহাসেরও চকিত অবলোকন ঘটে তাঁর লেখনীতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে বুদ্ধদেব বসুর একটি মেয়ের জন্য নাটকের মঞ্চায়নের তথ্য যেমন আমরা পাই, তেমনি বুদ্ধদেবেরই উপন্যাস যেদিন ফুটল কমল অবলম্বনে প্রতিভাদের পারিবারিক উদ্যোগে নাটক মঞ্চায়নের ঐতিহাসিক তথ্যও পাওয়া যায়, যেখানে দীর্ঘদিনের পুরুষশাসিত নাট্যমঞ্চে নারী-পুরুষের মিলিত নাট্য-উদ্যোগ শহরময় যুগপৎ উৎসাহব্যঞ্জক ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে—

…বুদ্ধদেব বসু সানন্দে অনুমতিপত্র দিয়ে আমাদের সাফল্য কামনা করলেন। সারা বাংলায় তো বটেই, সম্ভবত সারা ভারতেই ছেলেমেয়ে মিলে পাবলিকলি এই অভিনয়ের জন্য তিনিও উৎসাহ দিলেন। কৌতূহলে ফেটে পড়ল শহরের লোক, আশাতিরিক্তভাবে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেল। তারপর দুরু দুরু বক্ষে স্ত্রী-পুরুষের মিলে নাটক করার প্রথম সোপানটি অতিক্রম করলাম আমরা। নিন্দার বান ডাকল রানু সোমের নামে।

৫.
বুদ্ধদেব বসুর গল্প-উপন্যাস-স্মৃতিকথা পাঠে যেমন ঢাকার রমনা-পল্টনের জন্য দীর্ঘশ্বাস তৈরি হয় পাঠকমনে, তেমনি প্রতিভা বসুর লেখায় পাওয়া যায় সেই আমলের ঢাকা। তাঁর স্মৃতিকথায় ঢাকার অলিগলি-তস্যগলি—মৈশণ্ডীপাড়া, বকশিবাজার, যোগিনগর, ভোলানন্দগিরি আশ্রম, নারী শিক্ষামন্দির, শাহবাগের ধু-ধু প্রান্তর, মুকুল সিনেমা হল, র্যাংকিন স্ট্রিট, নবাবপুরের মাংস-পরোটা, গয়লাপট্টির মাঠা-মাখনের গন্ধ ভেসে আসার সমান্তরালে দেখা মেলে আরও অনেক কিছু। যেমন, বিলেত দেশটা মাটির বইয়ের লেখক জ্যোতির্মালা দেবীর মতো বহু বিস্মৃত মানুষও পাঠকের কাছে নতুন করে ধরা দেন প্রতিভা বসুর লেখার মাধ্যমে।

ঢাকাতেই প্রতিভা বসুর সাহিত্যিক সূত্রপাত। এখান থেকেই সাপ্তাহিক নবশক্তিতে গল্প এবং ভারতবর্ষ ও স্বদেশ ইত্যাদি খ্যাতনামা পত্রিকায় কবিতা পাঠিয়েছেন; সেসব লেখাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রতিভা সোম’ নামে। গ্রামোফোন কোম্পানির রেকর্ডের সূত্রে প্রায়ই কলকাতা যাতায়াত করতেন তিনি।

বুদ্ধদেব বসুর সঙ্গে বিবাহসূত্রে ১৯৩৪ থেকে আনুষ্ঠানিক কলকাতা-বাস শুরু প্রতিভা বসুর। কলকাতায় বিয়ের পর অবশ্য বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানের জন্য সপরিবারে ঢাকা এসেছিলেন বুদ্ধদেব-প্রতিভা। ১৯৩৯-এ আসামের করিমগঞ্জে বুদ্ধদেব বসুসহ এক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে পূর্ববঙ্গে এসে ঢাকায় পিতৃভূমিতে ওঠেন প্রতিভা আর ১৯৪০-এ ঢাকায় নতুন বেতারকেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে যাত্রাপথে বুদ্ধদেব-প্রতিভা দম্পতির সঙ্গে দেখা হয় একই অনুষ্ঠানের অতিথি নজরুলের সঙ্গে।

২০০১-এ এক সাক্ষাৎকারে প্রতিভা বসু তাঁর অন্তিম ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এভাবে, ‘আমার জন্মভূমি ঢাকায় মৃত্যুর আগে যদি একবার যেতে পারতাম, ভালো লাগত।’ তাঁর এই ইচ্ছে হয়তো আক্ষরিকভাবে পূরণ হয়নি কিন্তু জীবনের প্রথম ২০ বছরের ঢাকাবাসের আশ্চর্য সব বসন্তরেণু যেভাবে ছড়িয়ে আছে, তাঁর স্মৃতিমাধুরীতে তা কখনো মরচে পড়ার নয়। এসব অনশ্বর স্মৃতিকণাতেই তিনি যেন ফিরে ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় ঢাকায়, প্রিয় বাংলাদেশে।

প্রথম আলো

Comments are closed.