বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে জাপান আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন

রাহমান মনি: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে জাপান শাখা আওয়ামী লীগ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে মূলত বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে মানুষ পোড়ানোসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রবাসী সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। ১ মার্চ ২০১৫ রোববার ওজি ডাকু তোপিয়া হলে আয়োজিত সম্মেলনে জাপান আওয়ামী লীগের সভাপতি সালেহ মো. আরিফ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হিরাসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় প্রবাসী মিডিয়া কর্মীরা ছাড়াও বাংলাদেশ মিডিয়ার স্থানীয় প্রতিনিধিরা সান্ধ্যকালীন এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্য পরিবেশে খোলামেলা আলোচনা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই অতিসম্প্রতি বাংলা একাডেমি একুশে বইমেলা শেষে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড শেষে হত্যাকারীরা নির্বিঘেœ পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ এনে অভিজিৎ রায় হত্যার সঙ্গে সরকারের কোনো হাত বা নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা ছিল কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এটিকে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা অভিহিত করে সরকার বা দলের জড়িত থাকার ঘটনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা ছিল কি না, তা যাচাই করে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে, সরকার এ ঘটনার সঠিক বিচারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দল বা সরকার থেকে কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি, যদি কেউ দিয়ে থাকেন তবে তা তার ব্যক্তিগত, তা সরকার বা দলের নয়।

সরকার তো বলছে দেশে কোনো সংকট নেই, সব ঠিকঠাক আছে। যদি কোনো সংকট থেকে থাকে তবে তা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিজের। তা হলে সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ পরিচালনায় কোনো সংকট নেই সত্য, তবে জনজীবনে বিএনপি-জামায়াত সৃষ্ট সংকট তৈরি হয়েছে। তথাকথিত ওই কৃত্রিম সংকট থেকে উত্তরণের জন্য নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

সম্প্রতি সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মেয়রদের বহিষ্কার সংক্রান্ত পদক্ষেপ কতটা যুক্তিযুক্ত? এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলেন, জননিরাপত্তায় বিঘœ ঘটায় এমন কর্মকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, সংবিধানে তা উল্লেখও রয়েছে। আর তারা যে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের স্বীকারোক্তিতে তা বেরিয়ে এসেছে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ বলেন, ১০টি ভালো মানুষ বাঁচাতে গিয়ে যদি ২-১ জন সন্ত্রাসী ক্রসফায়ারে মারা যায়, তা হলে তা দোষের হতে পারে না। তাছাড়া ক্রসফায়ারে যেসব সন্ত্রাসী মারা যাচ্ছে, তারা সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক। আর বিএনপি-জামায়াতের ছোড়া পেট্রলবোমায় শিশু-মহিলাসহ নিরীহ মানুষ আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছে, কৃষক শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব খেটে খাওয়া মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করতে গিয়ে ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলো ঘটছে।

সংলাপ নিয়ে সুশীল সমাজের উদ্যোগ নেয়া এক প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ বলেন, সুশীল সমাজের দোহাই দিয়ে যারা সংলাপের কথা বলছেন তারা আসলে কতটা সুশীল সেটাই প্রশ্ন, কই তারা তো বলেন না যে, আগে পেট্রলবোমা মেরে নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে। তারা তো বলেন না সন্ত্রাস আগে বন্ধ করতে হবে। লাখ লাখ কোমলমতি শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে হরতাল-অবরোধ নামের নৈরাজ্য বন্ধ করার ঘোষণা দিতে হবে। এই কথাগুলো যদি বলতে না পারেন, তা হলে কীভাবে এরা নিজেদের সুশীল সমাজ বলে দাবি করেন? তারা আসলে ষড়যন্ত্রকারীদের দোসর।

বোমা, পেট্রলবোমাসহ তো ছাত্রলীগ যুবলীগকর্মীরাও ধরা পড়ছে জনতার হাতে। সাংবাদিকদের এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্রলীগ বা যুবলীগ পরিচয়ধারী এসব সন্ত্রাসী আসলে অনুপ্রবেশধারী। নিজেদের গা বাঁচানোর জন্য ধরা পড়ার পর সরকারি দলের অঙ্গসংগঠনসমূহের পরিচয় দিয়ে থাকেন। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই। জননেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোরভাবে সন্ত্রাসী দমন করায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এ ব্যাপারে আমরা সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করি এবং আপনাদের মাধ্যমে জনগণের কাছে এ বার্তা পৌঁছানোর অনুরোধ জানাই। ধন্যবাদ আমাদের ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Comments are closed.