চরম হতাশায় ৪৪ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী

আবু নাসের খান লিমন: পরীক্ষার হলে ভুলক্রমে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের বহুনির্বাচনী পরীক্ষায় ২০১৪ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র সরবরাহ এবং ঐ প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা দেয়ায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে চরম হতাশায় পড়েছে চলতি (২০১৫) এসএসসি পরীক্ষার ৪৪ জন পরীক্ষার্থী। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে ২০১৫ সালের পরিবর্তে ২০১৪ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্রের আলোকে ওই ৪৪জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করার জন্য লৌহজং ইউএনওর একটি সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। তবে শিক্ষাবোর্ডে লৌহজং ইউএনওর সুপারিশ পাঠানো সত্ত্বেও কুলকিনারা পাচ্ছেন না ঐ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। এ নিয়ে গত ১০দিন ধরে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাদের অভিভাবকেরা।

জানা গেছে, গত ২৭ফেব্রুয়ারী লৌহজং পাইলট উচ্চ বিদালয়ে (লৌহজং কেন্দ্র ২০৬) পরীক্ষাহলে ভুলক্রমে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের বহুনির্বাচনী ৩৫ নম্বরের পরীক্ষায় চলতি বছরের সিলেবাসের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০১৪ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরবর্তীতে ঐ হলের হারিদিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ৩জন, লৌহজং মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ৯জন, ব্রাহ্মনগাঁও উচ্চবিদ্যালয়ের ১৪ জন, লৌহজং গালর্স পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ৫জন, নওপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের ৯জন ও পয়সা উচ্চবিদ্যালয়ের ৪জনসহ মোট ৪৪জন পরীক্ষার্থী ঐ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়।

সালের তারতম্যের কারণে সম্পূর্ণ ভিন্নধারার প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েও কোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে তা নিয়ে শঙ্কিত ও হতাশায় পড়েছে এসব পরীক্ষার্থীরা। এ ঘটনার পরদিনই শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে ২০১৫ সালের সিলোবাসের পরিবর্তে ২০১৪ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দিয়ে ওই ৪৪জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করার জন্য কেন্দ্রসচীব (কেন্দ্র কোড ২০৬) জহিরুল হকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন করা হয়।

লিখিত ঐ আবেদনে বিষয়টি বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালেকুজ্জামান।এদিকে গত ১০দিন ধরে পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঐ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচীবের কাছে ধরনা দিলেও শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে নিভরযোগ্য কোনো সাড়া পাচ্ছেন না তারা। অভিভাবকদের এখন একটাই প্রশ্ন কেন্দ্রের ভুলের কারণে মেধাসম্পন্ন এই ৬টি স্কুলের ৪৪জন পরীক্ষার্থীর দায়দায়িত্ব কে দেখবেন। অন্যদিকে তারা বলছেন, একমাত্র বহু নির্বাচনি পরীক্ষায়ই মেধাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীরা পুরো নম্বর পাওয়ার আশা রাখে। যা শিক্ষাথীদের ভালো ফল করার ক্ষেত্রে অনেকটাই সহায়ক।

ঐ কেন্দ্রের ভুক্তভোগী এসএসসি পরীক্ষার্থী জাকিয়া আবেদীন, শিফা আক্তার, সালসাবিল আক্তার জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রের ভুলের জন্য আমাদের ৪৪ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর স্বপ্নচাপা পড়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন কমন না পড়া সত্ত্বেও পরীক্ষা হলে ভুলক্রমে বিতরণ করা ২০১৪ সালের যাঁরা ফেল করেছে তাদের জন্য নির্ধারিত ঐ প্রশ্নপত্রের আলোকেই পরীক্ষা দিয়ে বের হই আমরা। এক পর্যায়ে কেন্দ্র সচিব এ বিষয়ে বোর্ডকে জানানোসহ উপযুক্ত সন্তোষজনক পদক্ষেপের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আমাদের সবাইকে আশ^াস দেন।

ভূক্তভোগী অভিভাবক উপজেলার কনকসার এলাকার জয়নাল আবেদীন ও আবদুল লতিফ খান জানান, গত ১০দিন অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। একমাত্র বহু নির্বাচনি পরীক্ষায়ই মেধাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীরা পুরো নম্বর পাওয়ার আশা রাখে। এখন কেন্দ্রের ভুলের কারণে মেধাসম্পন্ন এই ৬টি স্কুলের ৪৪জন পরীক্ষার্থীর দায়দায়িত্ব কে দেখবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালেকুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষাবোর্ডে ২০১৫ সালের পরিবর্তে ২০১৪সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দিয়ে ওই ৪৪জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করার জন্য বিষয়টি সুপারিশ করা হয়েছে। বোর্ড থেকে আমাদের আশ্বস্তও করা হয়েছে। আশা করছি ওইসব পরীক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না ।তবে দেশের অন্যান্য স্থানেও ভুলক্রমে এমন হয়ে থাকে বলে তিনি আরো জানান ।

এফএনএস

Comments are closed.