প্রবাসে বিএনপি-আওয়ামী লীগ করার মানে দেখি না: খোকা

ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, প্রবাসে বিএনপি-আওয়ামী লীগ, ছাত্রদল বা ছাত্রলীগ করার কোনো মানে দেখি না। এসব করার কোনো অর্থও নেই। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে প্রবাসের আঞ্চলিক সংগঠন মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর এসোসিয়েশন ইন্ক-এর ২০১৫-১৬ সালের নতুন কার্যকরী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদেক হোসেন খোকা বলেন, এখানে যারা নাগরিকত্ব পেয়েছেন তারা প্রয়োজনে এখানকার মূলধারার রাজনীতি করতে পারেন। এখানকার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে বরঞ্চ ভবিষ্যতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, প্রবাসে বসে দেশের রাজনীতি নিয়ে হানাহানি করা, নিজেদের মধ্যে বিভক্তি টানার কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাই না। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এসব দলাদলি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান সাদেক হোসেন খোকা।

তিনি বলেন, রাজনীতি করার কারণে বিভিন্ন সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছি। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যোগ দিয়েছি। এটি যেহেতু অরাজনৈতিক সংগঠন তাই এখানে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া উচিত হবে না।

তিনি বলেন, বিক্রমপুরের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। একসময় ব্রিটিশ-ভারতের নেতৃত্ব দেওয়া অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্ম এই বিক্রমপুরে। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিসহ এমন কোনো ক্ষেত্র নাই যেখানে বিক্রমপুরের মানুষের দাপট নেই।

তিনি মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের ওপর গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মুন্সীগঞ্জবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল নিরপেক্ষভাবে আদিকাল থেকে মুন্সীগঞ্জের কীর্তিমান মানুষের কথা বইয়ের মাধ্যমে তুলে আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, আমরা সকলে প্রত্যাশা করি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ একটি শান্ত-সুন্দর, সকলের বসবাস উপযোগী একটি দেশ হিসাবে দ্রুত প্রতিষ্ঠা পাবে। তিনি সকল প্রকার বিশৃঙ্খলা ও হানাহানি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এজন্য যার যার অবস্থান থেকে আমাদের ভূমিকা রাখা উচিত।
অনুষ্ঠানে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, নিউইয়র্কে বিক্রমপুর সমিতির কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার জন্ম বিক্রমপুরের মাটিতে। এজন্য বিক্রমপুরের কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করলে সবসময় আমি সেখানে যাই। তিনি বলেন, জন্মস্থান হিসাবে একটা নাড়ির টান থাকবেই।

তিনি বিক্রমপুর সমিতির নিজস্ব ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তবে তিনি বিভক্ত মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দুটি সমিতিকে কীভাবে একটি করা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সাদেক হোসেন খোকা বলেন, আমি চিকিত্সার জন্য নিউইয়র্কে এসেছি। যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে যেতে পারি সবার কাছে সেজন্য দোয়া চান তিনি। অনুষ্ঠানে সাদেক হোসেন খোকা নতুন কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ট্রাস্টি এবং মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এম. আজিজ, বর্তমান সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়াসি চৌধুরী, মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আলাউদ্দিন ভুলু, ইঞ্জিনিয়ার নূরুল হক, এম এ সিদ্দিক পল্লব, আজিজুর রহমান, নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নওশাদ হোসেন সিদ্দিক, অভিষেক কমিটির আহ্বায়ক ও নতুন কমিটির সহ-সভাপতি জয়নাল আবদীন আমান, সোহরাব হোসেন প্রমূখ। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন আবু রব বাবুল, শহীদুল আলম, মাহমুদ খান তাসের, কাজী আজহারুল হক মিলন, আব্দুল বাতেন সরকার, নিজাম উদ্দিন, মো. আতাউর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান। দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন নতুন কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন সিদ্দিকী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আতাউর রহমান আতা ও মিঠু হামিদ।

অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে এম এ সিদ্দিক পল্লবের সম্পাদনায় ‘বিক্রমপুর’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শাহ মাহবুব, করিম হাওলাদার, কামাল, নাদিয়া মজুমদার প্রমূখ। এ পর্বটি সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনিকা রায়।

ইত্তেফাক

Comments are closed.