১৪ মাসেও ছেলে হত্যার কারন জানতে পারেনি বৃদ্ধ মা-বাবা!

কাজী দীপু: মুন্সীগঞ্জে দর্জি শ্রমিক লিঙ্কন (২০) হত্যার ১৪ মাস অতিবাহিত হলেও ছেলে হত্যার কারন জানতে পারেনি নিহতের বৃদ্ধ মা ও বাবা। এমনকি মামলার আসামী গ্রেফতার করতে রহস্যজনক ভুমিকা পালন করছে পুলিশ। বুধবার বেলা ১২টার দিকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা জানান মামলার বাদী বৃদ্ধা মা হুরনী বেগম।

ছেলে লিঙ্কন হত্যার বিচার চেয়ে দ্বাওে দ্বাওে ঘুরে বেড়ানো বৃদ্ধা মা জানন, আসামী গ্রেফতারে পুলিশের রহস্যজনক ভুমিকার সুযোগে আসামীরা হত্যার হুমিকসহ নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীণতায় জীবনযাপন করছে বাদী ও পরিবারের স্বজনরা।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি সদর উপজেলার দক্ষিন শাখারীবাজার গ্রামের একটি পুকুর থেকে দর্জি শ্রমিক লিঙ্কনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামী করে সদর থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

মামলার বাদী হুরনী বেগম জানান, প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই মনিরুজ্জামান। বর্তমানে হাতিমাড়া ফাড়িঁর এসআই সেলিম মিয়া দায়িত্বে রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হলেও গত ১৪ মাসে কোন আসামীকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। তারা আসামীদের গ্রেফতারে রহস্যজনক ভুমিকা পালন করছে।

এর ফলে হত্যাকান্ডের ১৪ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যণÍ ছেলে লিঙ্কনকে কি কারনে হত্যা করা হয়েছে তাও জানেত পারিনি বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান মামলার বাদী ও বৃদ্ধা মা হুরনী বেগম।

বাদীর অভিযোগ, পুলিশের অবেহেলার সুযোগে এলাকার মাতব্বররা আসামীদের পক্ষ নিয়ে মামলা নিস্পত্তি করতে চাপ প্রয়োগ করছে। ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বাওে দ্বাওে ঘুওে বেড়ালেও পুলিশ কোন চেষ্টাই করছে না।

এ প্রসঙ্গে সদর থানার হাতিমাড়া পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ এস আই সেলিম মিয়া জানান, সন্দেহভাজন আসামীরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করতে বিলম্ব হচ্ছে। তদন্ত অব্যাহত থাকায় এখনও হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি বলেও স্বীকার করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

Comments are closed.