শ্রীনগরে রাইফেল ছিনতাই ও ক্রসফায়ারের ঘটনায় ৩ টি মামলা

পুলিশ কনষ্টেবলকে গুলি
আরিফ হোসেন: শ্রীনগর উপজেলার বাঘরায় পুলিশ কনষ্টেবলকে গুলি করে রাইফেল ছিনতাই ও দ্বিতীয় দফায় পুলিশি অভিযানে ১ সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার পর ঐ এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশের উপর হামলা, রাইফেল ছিনতাই, অবৈধ বিদেশী পিস্তল উদ্ধার ও ক্রসফায়ারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে। তিনটি মামলায় ৮/৯ জনকে আসামী করা হয়েছে বলে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান।

তিনি আরো জানান, ঐ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কারী সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন, শরিয়তপুর ও গোপালগঞ্জ থেকে বাঘরা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারটার দিকে উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রৌদ্রপাড়া এলাকার তাজেল বাহিনীর ওয়ারেন্ট ভূক্ত আসামীদের ধরতে গেলে সন্ত্রাসীরা পুলিশের কনষ্টেবল আলামিন (২৫) কে গুলি করে তার রাইফেল ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে ঐ এলাকায় অভিযানে নামে পুলিশ। দুপুর দুইটার দিকে অভিযানের সময় দ্বিতীয় দফায় পুলিশের সাথে গোলাগুলিতে সন্ত্রাসী শাহিন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।

এসময় শাহিনের বাড়ি থেকে পুলিশের খোয়া যাওয়া রাইফেলসহ একটি বিদেশী পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, গুলির খোসা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। নিহত শাহিন তাজেল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ডাকাতি সহ একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, ওই এলাকায় কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্র“পের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত এক বছরে ছাত্রলীগ,যুবলীগ নেতা সহ প্রায় হাফ ডজন খুনের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়াও ২০০১ সালে আলোচিত ফাইভ মার্ডার সহ স্বাধীনতার পর থেকে ৫ জন নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান সহ এখানে শতাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। এলাকাটি আড়িয়ল বিল ও পদ্মানদী তীরবর্তী হওয়ায় অপরাধ মূলক কর্মকান্ড সংঘটিত করে অপরাধীরা সহজেই পালিয়ে যেতে পারে বলে আইনশৃংখলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলেও তেমন সুবিধা করতে পারেনা।

Comments are closed.