পারুলকন্যা : ইমদাদুল হক মিলন

পারুলকন্যা: ইমদাদুল হক মিলন। প্রকাশক অনন্যা। প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ।মূল্য : ৩০০ টাকা
হুমায়ূন আহমেদের ‘কবি’ জোসনার ফুল ধরতে চেয়েছিলেন। হুমায়ুন আজাদের ‘কবি’ ছিলেন প্রচলের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক নিয়ত সংগ্রামী। তারাশঙ্করের কবি ছিলেন আমগ্ন শিল্প সংবেদী। এই তিন কবির মধ্যকার সাধারণ মিল হলো, তাঁরা লেখকের সত্তা ও স্বরূপ নিয়ে উপস্থাপিত হন এবং তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শন নিয়ে কবিতার চর্চা করেন।

বাংলা সাহিত্যে কবিতানিমগ্ন এই তিন কবির পর আমরা আরেক ‘কবি’র সন্ধান পাই। ইমদাদুল হক মিলনের এই কবি কবিতানিমগ্ন নন। তাহলে তিনি কেমন? সেটি জানতে হলে যেতে হবে ‘পারুলকন্যা’ উপন্যাসের গভীরে।

ধানমণ্ডি লেকের ধারে মৃতপ্রায় এক কিশোরী পড়ে আছে। শরীরে ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন। ভোরবেলা হাঁটতে আসা লোকজন ধরে নিয়েছে মেয়েটি মৃত। কবি আবিষ্কার করে, না, মেয়েটি বেঁচে আছে। সে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ধীরে ধীরে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু সেরে ওঠার পরও মেয়েটি কথা বলে না। নানা রকম চেষ্টায় ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় এই নির্যাতনের কাহিনী।

কাহিনী এটুকুই। কিন্তু এখানেই তা শেষ নয়। পারুল নামের নির্যাতিত এই মেয়েটিকে ঘিরে প্রথমে সকালে হাঁটতে বের হওয়া কতিপয় মানুষ, তারপর কবি, তারপর তার চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট এবং কবিসংশ্লিষ্ট আরো কতিপয় চরিত্রের সন্ধান পাই আমরা। যদি প্রশ্ন করা হয়, কবি ও পারুলসহ এসব চরিত্রের সংশ্লিষ্টতায় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন কী করলেন? এই প্রশ্নের সীমিত একটা উত্তর হতে পারে- তিনি মানুষের মানবিক অনুভূতিকে স্পর্শ করেছেন। লেখক এই উপন্যাসের ‘কবি’র মাধ্যমে মানুষের ক্রমেই অসমব্যথী হয়ে যাওয়া মননকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। মানুষের ভেতরের কোমল-নরম নিষ্পাপ মনকে জাগিয়ে তুলেছেন, দেখিয়েছেন প্রাচুর্যের ভেতরে থেকেও কিভাবে মানবিক হওয়া যায়, সমব্যথী হওয়া যায়, কিভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়।

পারুলকন্যার প্রতি পরতে পরতে বিস্ময়। লেখক পাঠককে ধরে রাখেন, ধরে রেখে রেখে পিপাসা বাড়িয়ে দেন। এই পিপাসা প্রতিটি শব্দকে পান করে করে শেষ শব্দে এসেও থামতে দেয় না। আপসোস হয়। ইস! শেষ হয়ে গেল! এই শেষ থেকেই শুরু হবে আবার। কারণ তাঁর পারুলকন্যা উপন্যাসটি ‘কবি’ সিরিজের। আগের পাঁচটি উপন্যাস বন্ধুয়া, আয়না, তোমার সঙ্গে, নায়িকার নাম আয়না, আয়না কেমন আছো, কবি ও একটি মেয়ে’।

কালের কন্ঠ

Comments are closed.