হরতাল-অবরোধে সচল : মুন্সীগঞ্জ বিএনপি-জামায়াতের ব্যবসা-শিল্প প্রতিষ্ঠান

মোজাম্মেল হোসেন সজল: বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ ও পাশাপাশি ঘনঘন হরতালের প্রভাব নেই মুন্সীগঞ্জে। খোদ বিএনপি ও জামায়াতের নেতারাই তাদের শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারছে। আর তাদের এ প্রভাব পড়েছে কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেও। ফলশ্রুতিতে মুন্সীগঞ্জের কোথাও এখন আর হরতাল পালিত হয়না। এমনকি বিএনপি নেতাদের মালিকানাধীন যানবাহনও সচল রয়েছে।

এদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই ছাড়া ঢাকায় অবস্থারত বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কোন নেতার পদচারণা মুন্সীগঞ্জে নেই বলেও জানা গেছে। বিগত আন্দোলনেও তাদের দেখা মিলেনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খোদ বিএনপির শীর্ষ নেতারা অবরোধ-হরতালে জেলায় ও ঢাকায় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে আরাম-আয়েশি জীবন যাপন করছেন। মাঝে-মধ্যে শহরে কর্মসূচি পালিত হলেও জেলার উপজেলাগুলোতে তাদের কোন কর্মসূচি পালন করার খবর গত ৬ বছরেও পাওয়া যায়নি। তবে, পুলিশ মাঝে-মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের কিছু নেতাকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। জেলায় পটকা ও ককটেলবাজির ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, শহর ছাত্রদলের সভাপতি আরিফ আহাম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. মহসিনসহ ছাত্রদলের নেতাদের নামে একাধিক বিস্ফোরক মামলা হয়েছে।

শহরে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়

এদিকে, হরতালে বিএনপি অধ্যুষিত মুক্তারপুর এলাকায় দোকান-পাট বন্ধ থাকলেও শীর্ষ নেতাদের শিল্প-প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। এতে করে ক্ষুদ্র দোকানিরা ক্ষুব্ধ থাকলেও তাদের প্রতিবাদের সাহস নেই মুক্তারপুর শিল্পাঞ্চল এলাকায়। মুক্তারপুর-পঞ্চসার শিল্পাঞ্চল এলাকায় অন্তত দেড়শতাধিক ছোট বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশই হলো সূতা ও কারেন্টজাল তৈরীর কারখানা। এ এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকার ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাইয়ের বাসা। মুক্তারপুরে তার সূতার মিল ও তার ছোট ভাই সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের কোল্ড স্টোরেজ, জাল উৎপাদন, ধোলাই ও আয়রণ করার কারখানা, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও পঞ্চসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিরের নয়াগাঁও এবং মিরেশ্বরাইয়ে পেপার বোর্ড ও জাল তৈরীর কারখানা, সদরের মিরকাদিম পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জসিমউদ্দিনের মিরকাদিমে টিন,রড-সিমেন্টের ব্যবসা চলছে দেদারছে।

টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সন্তান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর মল্লিক রিপন ঢাকায় প্লট ব্যবসা, এ উপজেলা বিএনপির সভাপতি খান মনিরুল মনি পল্টন ঢাকায় ডেভলপার ব্যবসা, সাধারণ সম্পাদক, আড়িয়ল বালিগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন দোলন ঢাকায় কাপড়ের ও রড-সিমেন্টের ব্যবসা করছেন।

লৌহজং উপজেলার সন্তান সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও দি একমি কোম্পানীর মালিক মিজানুর রহমান সিনহার ব্যবসা রয়েছে সচল। এছাড়াও একই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহজাহান খান ঢাকার চকবাজার স্টেশনারী ব্যবসা, সাধারণ সম্পাদক কহিনূর সিকদার ঢাকায় জমির ও কাপড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সচল রেখেছেন। এ উপজেলার মেদেনীমন্ডল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম গাউস সিদ্দিকী তার ইলিস পরিবহনের বাস সচল রেখেছেন। তিনি ঢাকার গুলিস্থান কাউন্টারে বসে এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আব্দুল মালেক মিয়া ঢাকায় মোবাইলের ব্যবসা করছেন।

শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যান মমিন আলী, সহসভাপতি রতন চেয়ারম্যান ঢাকার ইসলামপুরে কাপড়ের ব্যবসা, সহসভাপতি, ককুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার ঢাকার দয়াগঞ্জে সিএনপি পাম্প ব্যবসা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জলের শ্রীনগরের দেউলভোগ এলাকায় স্বপ্নপূরী সিনেমা হল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জেমস শ্রীনগর বাজারে স্টেশনারী-কসমেটিক্স, সাধারণ সম্পাদক মহিউর রহমান মতিন ঢাকার নয়াবাজারে টিনের ব্যবসা ও শ্রীনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম পার্থ ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ শেখ আব্দুল্লাহ ঢাকা ও গাজীপুরে গার্মেন্ট ব্যবসা, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোতাহার হোসেন সিরাজদিখান বাজারে কীটনাশকের ব্যবসা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান সিরাজদিখান বাজারে রড সিমেন্ট ব্যবসা করছেন। এদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ গত ৬ বছর ধরে স্থানীয় বিএনপির কোন কর্মকা-ে নেই। জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ও উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আব্দুল আউয়াল জিহাদী সিরাজদিখান বাজার ও তালতলা বাজারে হার্ডওয়ার স্যানেটারী ও ক্রোকারিজের ব্যবসা খোলা রেখেছেন।

গজারিয়া উপজেলার জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক মুজিবুর রহমান ড্রেজার-বাল্কহেড, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক উল্লাহ ফরিদ ঢাকায় সোফা-পর্দা ব্যবসা, উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও বাউশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মনা জমির ব্যবসা, সাধারণ সম্পাদক তপন চৌধুরী ড্রেজার ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস মিয়াজী মহন বাল্কহেড ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর মল্লিক রিপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

Comments are closed.