আমিন মোহাম্মদ সিটির মাওয়া প্রকল্পে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশে আমিন মোহাম্মদ সিটির একটি প্রকল্পের অবস্থান ও স্বত্ত্বে ৬ মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ণ করে দেয়া অযৌক্তিক অনুমোদন বাতিলে বিবাদীদের নিষ্ক্রীয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়েছেন আদালত। ফলে আমিন মোহাম্মদ সিটি কর্তৃপক্ষ ওই প্রকল্পের প্লট বা ভূমি বা ইমারত বিক্রি করতে পারবে না। বিক্রয়ের জন্য বিজ্ঞাপনও দিতে পারবে না। এ ছাড়া সেখানে কোনো উন্নয়ন কাজও করা যাবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবী

গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ স্থগিতাদেশ দেন।

সরকারের ভূমি সচিব, বন ও পরিবেশ সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পরিবেশ অধিদফতরের ঢাকা সার্কেলের পরিচালক, পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটির সদস্য সচিব, মুন্সীগঞ্জের সহকারী পরিচালক, সিরাজদিখানের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), আমিন মোহাম্মদ সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পরিবেশ গতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ২০১৪ সালের ৮ জুলাই ১১৫ দশমিক ৬৬ একর ভূমির জন্য পরিবেশগত পরিবেশ অধিদফতর আমিন মোহাম্মদের ওই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল। পরে আল মুসলিম বিল্ডার্স নামের এক কোম্পানির আপত্তিতে ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদফতর এই ভূমির পরিমাণ কমিয়ে ৮৪ দশমিক ০৪২৯ একর করে। কিন্তু ন্যাশনাল সার্ভে অর্গানাইজেশনের সমীক্ষা অনুযায়ী সেখানে তাদের জমি রয়েছে ৩০ দশমিক ৯১১ একর।

বেসরকারি আবাসিক প্রকল্প ভূমি উন্নয়ন বিধিমালার ৭(১) বিধিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে সাব কবলা দলিল মূলে ৭০ ভাগ জমির মালিক হতে হবে। এটা আমিন মোহাম্মদের লে আউটের ৩২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এটা বিধির লঙ্ঘণ। তাই আল মুসলিম বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ রিটটি দায়ের করেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী মো. শাহরিয়া কবির বিপ্লব। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মো. মোখলেসুর রহমান।

পরে মো. শাহরিয়ার কবির বিপ্লব সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের আদেশের ফলে আমিন মোহাম্মদ সিটি কর্তৃপক্ষ ওই প্রকল্পের প্লট বা ভূমি বা ইমারত বিক্রি করতে পারবে না। বিক্রয়ের জন্য বিজ্ঞাপনও দিতে পারবে না। এছাড়া সেখানে কোনো উন্নয়ন কাজও করা যাবে না।

সংগ্রাম

Comments are closed.