আলুর জমিতে নাবী ধ্বসা রোগ : ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকরা

সেলিনা ইসলাম: সিরাজদিখানে আলুর জমিতে নাবী ধ্বসা রোগ, ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকরা। আলু উৎপাদনের সর্ববৃহত জেলা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় আলুর জমিতে নাবী ধ্বসা রোগ দেখা দিয়েছে। মাঘ মাসে হালকা বৃষ্টি, ঘন কুয়াশা ও তাপমাত্রা উঠানামার কারণে আলু জমিতে এই রোগ বেড়ে গেছে। কৃষকরা দফায় দফায় ছত্রাকনাশক ঔষধ ছিটিয়ে যাচ্ছেন। সিরাজদিখান উপজেলায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ডায়মন্ট এবং অ্যাস্টারিক্স জাতই প্রধান। মোট আবাদকৃত জমির প্রায় ৮৫১০ হেক্টর ডায়মন্ট এবং ২৬০ হেক্টর অ্যাস্টারিক্স। বাকি অন্যান্য জাতের।

এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির আশঙ্কায় আছেন। কৃষকরা জানান, কিছু জমিতে ঔষধ ছিটিয়ে সামান্য রক্ষা পেলেও আবাদকৃত জমির ২০ শতাংশ এই রোগে নষ্ট হয়েগেছে। বাকি জমিতেও ফলন ভাল হওয়ার কোন সম্ভবনা নাই। কেউ কেউ জমির আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, আগাম আলু উঠিয়ে ডাটা পাট সহ বিভিন্ন সব্জী চাষ করছেন। কৃষকরা আরো জানান, কোন কোন জমিতে ঔষধ দিয়েও লাভ হয় নাই। এবার তাদের ব্যাপক লোকশান গুনছেন। বেশির ভাগ অ্যাস্টারিক্স জাতের আলু জমিতে এই রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ জানান, আগাম সতর্কীকরণ বার্তা প্রচার করতে কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ২১ জানুয়ারী থেকে ২৮ জানুয়ারী মাইকিং করা হয়েছে। এ অবস্থার কারণে উপ পরিচালকের নির্দেশে সকল মাঠকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কৃষক ও কীটনাশক ডিলারদের মাঝে ৫০০ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ হেক্টর জমিতে এ রোগের আক্রমন শনাক্ত করা হয়েছে। ১৫ দিন পর থেকেই আলু উঠানো শুরু করবে।

তিনি আরো জানান, গাছের বয়স ৮০-৮৫ দিন অতিক্রম করায় রোগের আক্রমনে ফলন কম হবে তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শুন্য হাতে ফিরবে না। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর উপ পরিচালক মুন্সীগঞ্জ, কৃষিবিদ আব্দুল আজিজ সার্বক্ষনিক মনিটরিং ও নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাপোষ্ট

Comments are closed.