আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন সেই এসপি : যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা

মুন্সিগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার হওয়া আলোচিত পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার বরগুনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় উচ্চ আদালত থেকে নেওয়া চার সপ্তাহের জামিন আদেশ আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তা গ্রহণ করে ৩ মার্চ শুনানির তারিখ ধার্য করেন। আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হবে ২ মার্চ।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে জেলা জজ আদালতের প্রধান ফটক দিয়ে এসপি হাবিব, তাঁর বাবা ও ভাইসহ বেশ কয়েকজন আদালতে আসেন। এ সময় বরগুনা থানার দুজন উপপরিদর্শক, একজন সহকারী উপপরিদর্শক, ট্রাফিক পরিদর্শক, পুলিশের বিশেষ শাখার একজন উপপরিদর্শক, ডিবির একজন উপপরিদর্শক ও কয়েকজন কনেস্টবল তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। আদালতের কার্যক্রম শেষ হলে পুলিশ কর্মকর্তারা এসপি হাবিবকে আদালতের প্রধান ফটকে অপেক্ষমাণ একটি মাইক্রোবাসে তুলে দেন।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক বজলুর রহমান ১৯ জানুয়ারি এসপি হাবিবসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। হাবিবের স্ত্রী হালিমা বেগমের করা একটি মামলায় এ পরোয়ানা জারি করা হয়। ১০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ এনে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি মামলাটি করেন। আসামিরা ২ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। তবে উচ্চ আদালত তাঁদের চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন এসপি হাবিবের বাবা ইব্রাহিম হাওলাদার, বড় ভাই আবু হানিফ, ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম ও বোন আমেনা বেগম।
হাবিবুর মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপারের (এসপি) দায়িত্বে ছিলেন। গত এপ্রিলে তাঁকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। সরকারি আদেশ না মানা ও অসদাচরণের অভিযোগে এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়। এসপি হাবিব বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত আছেন।

প্রথম আলো

Comments are closed.