ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ : সিরাজদিখানে শতাধিক ইটের ভাটায় পুরছে কাঠ

সেলিনা ইসলাম: সিরাজদিখান উপজেলার বালুচরে শতাধিক ইটের ভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে গাছ, কাঠ ও লাকরি। এ এলাকায় ১৭০টি ইটের ভাটা রয়েছে। কয়লা সমস্যায় ৩০ টি ভাটা বন্ধ রয়েছে। এলাকা বাসীর অভিযোগ এই ইটের খোলার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ করছে। এলাকার জমিতে ফসল, গাছ গাছালি নষ্ট হয়ে যাচেছ। মানুষের বিভিন্ন রোগ, শ্বাস কস্ট, হাঁচি কাশি সহ চর্ম রোগ দেখা দিয়েছে।

ইট ভাটার মালিকরা হরতাল অবরোধে কয়লা ঠিকমত আনতে না পারায়, কয়লার দাম তিন গুন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই কাঠ পোড়ানো হয় বলে জানান তারা। যদিও এখন কয়লার দাম কমেছে এবং সাপ্লাই আছে। এক হাজার ইটের দাম ৮/৯ হাজার হয়েছে। কোন কোন ভাটায় এখন দাম কমে ৬/৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইটের ভাটায় মাটি নিয়ে আসা শ্রমিকরা জানান, দিন আনে দিন খায় তারা। হরতাল অবরোধে তারা আগের মত কাজ করতে পারছেন না। যা তাদের কামাই তাই খাওয়া খরচ। সংসার চালানো মুশকিল। হরতাল অবরোধ উঠিয়ে নেওয়া হলে ভাল থাকতে পারতেন তারা।

ইট ভাটার ম্যানেজার আঃ সালাম জানান, হরতাল অবরোধের কারণে কয়লা সংকট তাই সামান্য লাকরি (কাঠ) পোড়ানো হয়। তাদের এখন ইট পোড়ানো দরকার সামনে ঝড় বৃস্টির সময়। কয়লা ছাড়া খোলা (ইটের ভাটা) চালানো মুশকিল তাই সামন্য কিছু লাকরি ব্যাবহার করা হয়।

ইট ভাটার মালিক মোঃ ইলিয়াছ জানান, আগে কয়লা কিনতাম প্রতি টন ৬/৭ হাজার টাকা এখন ২২/২৩ হাজার টাকা। মাটি ১৬/১৭ টাকা ফুট আগে ৭/৮ টাকা ছিল। এখন ইট ৬ হাজার টাকা খোলায় বিক্রি, কয়েকেদিন আগে ৮ হাজার ছিল। এখন মাটি কয়লার দাম কমতে শুরু করেছে আমরাও দাম কমাচ্ছি।

এলাকা বাসী আরিফ হোসেন হারিছ জানান, বালুচর এলাকায় ১৮০ টির মত ইটের ভাটা আছে। এই ইটের খোলার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ করছে। এলাকার জমিতে ভাল ফসল হচ্ছে না। গাছ গাছালি নষ্ট হচ্ছে। মানুষের বিভিন্ন রোগ, শ্বাস কস্ট, হাঁচি কাশি সহ চর্ম রোগ দেখা দিয়েছে।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক নুর আলম জানান, বর্তমানে জিকজাক পদ্ধতির ইটের ভাটা বেশ কিছু চালু হয়েছে। বাকি গুলো ১২০ ফুট চিমনি। কয়লা ছারা ইট পোড়ানো যাবে না। তবে আগুন জ্বালানোর সময় প্রথমে কিছু কাঠ ব্যাবহার করে। এখানে গ্যাস নাই। যদি গাছ, কাঠ দিয়ে পুরোটা ইট পোড়ানোর কাজে ব্যাবহার করে তবে প্রমান পেলে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাপোষ্ট

Comments are closed.