মাওয়া শিমুলিয়া ঘাটের ২০ হাজার শ্রমিক হরতালে বেকার

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের একের পর এক হরতাল কর্মসূচিতে বেকার হয়ে পড়েছে মাওয়া ঘাটের বিভিন্ন শ্রেণীর প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ও ক্ষুদে ব্যবসায়ী হকার।

আর এই ২০ হাজার শ্রমিকদের সাথে অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছে তাদের পরিবারে থাকা প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার লোক। অন্যদিকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে ঘাট ইজারাদারদের।

একই সাথে প্রতিদিন ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হারাতে হচ্ছে বিআইডব্লিউটিসির মাওয়া ফেরি সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে। ১৭টি ফেরির জায়গায় মাত্র ১০টি ফেরি ঘাটে পারাপারের জন্য থাকলে গাড়ীর অভাবে অলস বসে থাকতে হচ্ছে ফেরিগুলোকে।

মাওয়া নৌরুটে চলাচলরত ৮৭টি লঞ্চে প্রায় ৬শ শ্রমিক, স্পীড বোটে থাকা ১২শ শ্রমিক, পুত্রকার হকার, পান-বিড়ির হকার হোটেলসহ নানা খাবারের ব্যাবসায়ী ২ হাজার ও এই ঘাট থেকে চলাচলকৃত তিন হাজার বাসে থাকা ১৫ হাজার শ্রমিক সবাই দিনমজুর।

চলতি মাসে বিরোধিদলীয় ডাকা ৬০ ঘন্টা ও পরে ৮৪ ঘন্টা মোট ৭ দিনের হরতালে বেকার হয়ে পরেছে ২০ হাজার শ্রমিক যাদের প্রতিদিনের রোজগারের উপর নির্ভর করতে হয় ১ লক্ষ ২০ হাজার জনকে যারা তাদের পরিবারের সদস্য।

অসহায় মানুষগুলো হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহার করে বিকল্প পন্থায় বিরোধীদলকে দাবী আদায়ের অনুরোধ তাদের। কোন দোকান বা টং ঘর তোলার যাদের ক্ষমতা নেই, সেই সকল হকাররা হেটে হেটে মানুষের কাছে বিভিন্ন পন্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও বন্ধ হয়ে তাদের সেই পথ। হরতালের কারণে ফাকা এই ঘাটে পাওয়া যায় না তেমন কোন লোকজন।

তাই তাদের বেচা-কেনাও নেই। এদিকে একই কারণে ইজারাদারদের পড়তে হচ্ছে প্রতিদিন লোকসানের মুখে। আর লঞ্চ মালিকরাও হিমশিম খাচ্ছে লঞ্চে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে। হরতালে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয় খেটে খাওয়া মানুষদের। তাই এই সকল মানুষদের অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে ভবিষৎ বিরোধীদলকে হরতালের বিকল্প অন্য কোন কর্মসূচি দেয়ার আহবান জানিয়েছেন দিনমজুরে মানুষেরা।

ফেরি ঘাটঅপর দিকে হরতালের কারণে পাল্টে গেছে শিমুলিয়া ফেরি ঘাটের চিত্র। একেবারেই ভিন্নরকম অবস্থা দেখা দিয়ে ফাঁকা হয়ে উঠেছে মাওয়া ফেরি ঘাট। ফাঁকা ফেরি ঘাটে এখন ফেরী পারাপারের জন্য রয়েছে গাড়ীর সঙ্কট। যানবাহন না থাকায় ঘাটে ফেরিগুলো অলস দাড়িয়ে আছে।

প্রতিদিন যেখানে যাত্রীবোঝাই যানবাহনের ভীড়ে হিমশিম খেতে হতো, সেখানে মাওয়া ফেরীঘাট কর্তৃপক্ষকে তার বিপরীতে ফেরী পারাপারে সারাদিন বাস প্রাইভেটকারসহ যানবাহনের কোন চাপই হ্য করতে হয়নি। পদ্মা পারি দিতে যানবাহনের অভাববোধ করেছে ফেরীগুলো।

এ রুটে ১৭ টি ফেরী থাকলেও যানবাহনের অভাবে মাত্র ১০টি ফেরী চালু রাখা হয়েছে। যানবাহন কম থাকায় ৭টি ফেরী পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। হরতালে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে দক্ষিনবঙ্গের প্রবেশ দ্বার শিমুলিয়া মাওয়াঘাট।

বাংলাএক্সপ্রেস

Comments are closed.