জাপানে শুরু হতে যাচ্ছে বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক উৎসব

রাহমান মনি: জাপানে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুদেশীয় সাংস্কৃতিক উৎসব। টোকিওর প্রাণকেন্দ্র জাপানের সম্রাটের বাসভূমি সংলগ্ন হিবিয়া পার্কে আগামী ১৫ ও ১৬ আগস্ট দুইদিনব্যাপী এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। জাপানে প্রথমবারের মতো এ আয়োজনটি করবে গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশন, জাপান।

গোবাল পিস ফাউন্ডেশন বা সংক্ষেপে জিপিএফ (এচঋ) ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দফতর আমেরিকাতে। ২০১২ সালে জাপানে এর যাত্রা শুরু হয়। তারও আগে ফিলিপিন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া এবং আফ্রিকার কিছু দেশসহ অনেক দেশেই এর কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। অতিশিগগিরই চীনেও শুরু হবে।

আগামী আগস্ট ২০১৫ প্রথমবারের মতো জাপানে অনুষ্ঠিতব্য আয়োজনে ১৪টি দেশ ওপেন কনসার্ট-এ অংশ নিয়ে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবে। যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। অন্যান্য দেশগুলো হচ্ছে, ফিলিপাইন, ভারত, ব্রাজিল, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, ভিয়েতনাম, জাপান, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, উত্তর কোরিয়া। উৎসবের নাম দেয়া হয়েছে ‘বহুমাত্রিক ওমোতেনামি ফেস্টিভ্যাল ২০১৫।

প্রথমবারের মতো জাপানের মাটিতে অনুষ্ঠিত এ উৎসব আয়োজনকে সামনে রেখে এবং উৎসব সার্থক করে তোলার জন্য গত ২৪ জানুয়ারি শনিবার গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশন, জাপানের কনফারেন্স রুমে এক সভার আয়োজন করে। প্রথম সভায় আয়োজক কমিটির একজন সদস্য হিসেবে সাপ্তাহিক প্রতিনিধি রাহমান মনিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রথম সভায় আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান গোতো আয়া বলেন, ২০১১ সালের মার্চে ভূমিকম্প বিধ্বস্ত জাপানে জীবনযাত্রার অনেক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশের নাগরিকবৃন্দ নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন না করে বিধ্বস্ত এলাকায় অবস্থান করে জাপান পুনর্গঠনে সহযোগিতা করেছেন। জাপান আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগামী ২০৬০ সাল নাগাদ জাপানে জাপানি জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৮ কোটি ৭০ লাখ থেকে ৮ কোটি ৮০ লাখের কোঠায়। ধীরে ধীরে আরও কমে আসবে। এ জন্য নিজেদের স্বার্থেই জাপানে অভিবাসীদের চাহিদা রয়েছে।

তিনি বলেন, জাপানে শুধু কাজ করার জন্যই অভিবাসীরা আসেন না, তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানে বিভিন্ন অবদানও রাখছেন। একটা সময় ছিল দ্বীপরাষ্ট্র হিসেবে জাপানে নিজেরাই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত ছিল। জাপানিরা মনে করত জাপান গঠনে কেবল জাপানিরাই ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন আয়োজনে (জাপানে) কেবল জাপানি সংস্কৃতিই প্রদর্শন করা হয়। কিন্তু সে ধারণা এখন আর নেই। অনেকটা সেকেলে। এখন সবকিছুই গ্লোবাল। পুরোনো ধারণা সেজন্যই পাল্টিয়েছে। জাপানিরা এখন বুঝতে পেরেছে কেবল জাপানি চেতনা নিয়ে বিশ্বে নেতৃত্ব দেয়া তো দূরের কথা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকাটাও দুষ্কর হয়ে যাবে। তাই বলে নিজস্ব সংস্কৃতি বিলীন করে নয়। নিজস্ব সংস্কৃতিকে উচ্চ আসনে রেখেই বিভিন্ন সংস্কৃতিকে একই প্লাটফর্মে এনে তা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া বা বিকশিত করাই হচ্ছে গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশন এর মূল উদ্দেশ্য।

গোতো বলেন, আমাদের আয়োজনটি কেবল উৎসব নয়। উৎসবের আয়োজন তো কেবল দায়িত্ব বণ্টন করে সার্থকভাবে আয়োজন সম্পন্ন করাটা প্রাধান্য পায়। আমাদের এই গ্লোবাল ফাউন্ডেশন এর ভিশন তিনটি মূল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে। কাঠামোগুলো হলো, ওহঃবৎভধরঃয বা আত্মবিশ্বাস, ঋধসরষু বা পরিবার এবং ঝবৎারপব বা সেবা। এই ভিশনের মূল কথা হচ্ছে ঙহব ঋধসরষু টহফবৎ মড়ফ অর্থাৎ বিশ্বটা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার তদারকিতে একটি পরিবার। প্রথম পরিচয় কেবল ধর্ম, বর্ণ বা দেশ হতে পারে না। যদিও আমরা তাই দিয়ে থাকি।

সবশেষে তিনি আগামী আয়োজনে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সভার শুরুতে পরিচয়পর্ব শেষে বিশ্বে বিভিন্ন দেশে গ্লোবাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত কার্যক্রমের ওপর তৈরি একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Comments are closed.